অণুগল্প
বেড়াল ছানার প্রতিবাদ
সাহস রতন১১ অক্টোবর, ২০১৭ ইং
বেড়াল ছানার প্রতিবাদ
 

সকালে দরজা খুলে পত্রিকা নিতে গিয়ে ওকে চোখে পড়ল। গোল পাকিয়ে শুয়ে আছে। বয়স বড় জোড় দু’মাস। ছোট্ট নরম তুলতুলে শরীর। আমার সাড়া পেয়ে কোথা থেকে যেন মা-ও এসে হাজির হলো। আমি পত্রিকা উঠিয়ে নিতে গেলাম, অমনি বাচ্চাটা পাপোশ থেকে উঠে মায়ের গা ঘেঁষে দাঁড়াল।

আমি ওদের দু’জনকে একনজর দেখলাম। এরপর হাতের ইশারায় সরে যেতে বললাম। মুখে বললাম— অন্যদিকে যাও। কথা শুনে মা বেড়াল আমার দিকে চোখ পাকিয়ে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল অনেকক্ষণ।

দেখে আমি একটু ভড়কে গেলাম। তবে প্রতিউত্তরে আমিও একই ভঙ্গিতে চোখ বড় করে বললাম—কী? এমনভাবে তাকিয়ে আছ কেন? খামচি মারবা নাকি? 

এবার দেখি মা-বাচ্চা দুজনেই একই ভঙ্গিতে আমার দিকে চোখ পাকিয়ে তাকিয়ে আছে। মনে হলো কিছু বলতে চায়। চোখে-মুখে পরিষ্কার অভিযোগের অভিব্যক্তি। কিন্তু ভাষাহীন। বাচ্চাটা এরপর কী মনে করে করুণচোখে আমার দিকে তাকিয়ে রইল। মাঝে মাঝে ঘাড় কাত করে খুব মায়াবী লুক দিচ্ছিল। দেখে ছোট্ট বেড়াল বাচ্চাটার জন্য আমার কলিজাটা মোচড় দিয়ে উঠল। গত ক’মাস ধরে রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠী সব হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে দলে দলে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে। মানবিক বিপর্যয়ের এই মুহূর্তে সামান্য বেড়ালছানার জন্য অতি আবেগ বেমানান। আমি পত্রিকা নিয়ে দরজা টেনে দিলাম।

সারা দিন কেটে গেল জাগতিক ব্যস্ততায়। রাতে বাসায় ফিরে আবারো বাচ্চাটাকে দেখলাম দরজার সামনে গুটিশুটি হয়ে পাপোশে শুয়ে আছে। মাকে কোথাও চোখে পড়ল না। আমি বউ-বাচ্চাদেরকে ডেকে দেখালাম।

মেয়েটা বলল—বাচ্চাটা মনে হয় অসুস্থ। রাতে বৃষ্টির সময় ঘরে নিয়া আসছিলাম। বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার পর আবার বাইরে রাইখা দিছি।

আমি বললাম—মা মনে হয় বাচ্চাটা আর পালতে পারছিল না। মানুষ যেমন অনেক সময় ডাস্টবিনে বাচ্চা ফেলে রেখে যায়, এটাও তো ওইরকম কেইস মনে হচ্ছে।

বাচ্চাটার দিকে তাকিয়ে বললাম—শোন, ইমোশানাল ব্ল­্যাকমেল করার চেষ্টা কইরা লাভ নাই। বাসায় জায়গা পাওয়া যাবে না। আমরা প্যাট-লাভার না। আমরা এই বেহুদা ঝামেলা নিতে পারুম না। অন্যদিকে যাও।

কথা শুনে বাচ্চাটা পাপোশে গড়াগড়ি দিয়ে ঘাড় কাত করে কতভাবে যে সোহাগ দেখাতে চাইল। হয়তো বোঝাতে চাইল, আমি কোনো সমস্যা করুম না। আমারে শুধু একটু আশ্রয় দাও।

বাচ্চাটার হাবভাব দেখে আমি অভিভূত হয়ে গেলাম। কিন্তু আমার শহুরে পাষাণ মন এতে বিগলিত হলো না। আমি দরজা খোলা রেখেই ভেতরে চলে গেলাম।

আজ সকালে পত্রিকার জন্য দরজা খুলে দেখি বাচ্চাটা নেই। মাকেও কোথাও দেখলাম না। কিন্তু পত্রিকা তুলতে গিয়ে দেখলাম পাপোশের উপর বেড়ালের বিষ্টা আর প্রশ্রাব। আর কিছু করার ক্ষমতা নাই, তাই হয়তো হেগে-মুতে প্রতিবাদ করে কোথাও চলে গেছে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৯
যোহর১১:৪৬
আসর৩:৫৮
মাগরিব৫:৪০
এশা৬:৫১
সূর্যোদয় - ৫:৫৪সূর্যাস্ত - ০৫:৩৫
পড়ুন