স্মারক
ডাকটিকিটে শহীদ বুদ্ধিজীবী
এ টি এম আনোয়ারুল কাদির১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
ডাকটিকিটে শহীদ বুদ্ধিজীবী

 

১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের একটি শোকাবহ দিন। ১৯৭১ সালের এদিনে বিজয়ের মাত্র দুইদিন আগে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর এদেশীয় দালাল রাজাকার-আলবদর-আলশামসরা জাতির সেরা সন্তানদের তথা সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিক্ষক, চিকিত্সক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, চলচ্চিত্রকার, সুরস্রষ্টা, নাট্যশিল্পী, ক্রীড়া সংগঠকসহ সকল পেশার মানুষকে বাসস্থান ও কর্মস্থল থেকে ধরে নিয়ে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় নির্মমভাবে হত্যা করে। তবে এই হত্যাযজ্ঞ ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালোরাত্রি থেকে শুরু করে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে। একটি জাতিকে এভাবে মেধাশূন্য করে ফেলার নজির পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। বুদ্ধিজীবীদের এই আত্মত্যাগ আমাদের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আমরা তাঁদের ভুলতে পারি না।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সরকার শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করতে প্রতিবছর ১৪ ডিসেম্বরকে ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ হিসেবে উদযাপন করে থাকে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগও ১৯৯১ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ৯টি সিরিজে মোট ১৫২ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর ওপর ১৫২টি স্মারক ডাকটিকিট ১৮টি শিটলেটে প্রকাশ করে। পাশাপাশি প্রকাশ করা হয় তাঁদের জীবনী সম্বলিত ৯টি পুস্তিকা ও উদ্বোধনী খাম। ডাকটিকিটের শিটলেটের নকশায় পৃথকভাবে যুক্ত হয়েছে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের ফলকপত্রের প্রতিকৃতি, যেখানে উত্কীর্ণ রয়েছে রবীন্দ্রনাথের কবিতার চারটি লাইন—

‘উদয়ের পথে শুনি কার বাণী

          ভয় নাই ওরে ভয় নাই,

নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান

           ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই।’                                         

১৯৯১ সালের ১৪ ডিসেম্বর প্রথম পর্যায়ে প্রকাশিত এই স্মারক ডাকটিকিটে স্থান পাওয়া শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে আছেন ডা. মোহাম্মদ ফজলে রাব্বী, মীর আবদুল কাইয়ুম, আ. ন. ম. গোলাম মোস্তফা, ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, এস. এ. মান্নান (লাডু ভাই), নিজামুদ্দীন আহমদ, সেলিনা পারভীন, ড. আবুল কালাম আজাদ, আবুল বাশার চৌধুরী, সায়ীদুল হাসান, ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব, এ. এন. এম. মুনীরুজ্জামান, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, ড. আবদুল আলীম চৌধুরী, সিরাজুদ্দীন হোসেন, শহীদুল্লা কায়সার, আলতাফ মাহমুদ, ড. জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা, ড. মো. আবুল খায়ের, ড. সিরাজুল হক খান, এ. এন. এম. মুনীর চৌধুরী, গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, এস. এম. এ. রাশীদুল হাসান,  মোহাম্মদ আনওয়ার পাশা, ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা,  শহীদ সাবের, ফজলুর রহমান খান, রণদা প্রসাদ সাহা, অধ্যক্ষ যোগেশ চন্দ্র ঘোষ ও সন্তোষ চন্দ্র ভট্টাচার্য।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৪ নভেম্বর, ২০২০ ইং
ফজর৫:১১
যোহর১১:৫৩
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩৪
সূর্যোদয় - ৬:৩২সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পড়ুন