চয়ন
পরাশর
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী২০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
পরাশর
বশিষ্ঠদেব তাঁহার পৌত্রটির নাম পরাশর রাখিলেন। পরাশর পিতাকে চক্ষে দেখেন নাই; তিনি মনে করিতেন, বুঝি বশিষ্ঠই তাঁহার পিতা। জন্মাবধি তিনি বশিষ্ঠের সঙ্গে সঙ্গেই থাকিতেন, আর তাঁহাকেই পিতা বলিয়া ডাকিতেন।

পরাশর যখনই বশিষ্ঠকে পিতা বলিয়া ডাকিতেন, তখনই শক্তির কথা মনে হইয়া অদৃশ্যন্তীর চক্ষে জল পড়িত। একদিন তিনি পরাশরকে কোলে লইয়া, তাঁহার মুখে চুমো খাইয়া কাঁদিতে কাঁদিতে বলিলেন, ‘বাছা, আমার শ্বশুর ত তোমার পিতা নহেন, তিনি তোমার পিতামহ।’

পরাশর তাঁহার উজ্জ্বল চোখ দুটি বড় করিয়া মার মুখের দিকে তাকাইয়া বলিলেন, ‘তবে আমার পিতা কোথায় গিয়েছেন?’

অদৃশ্যন্তী অনেক কষ্টে স্থির থাকিয়া বলিলেন, ‘তিনি স্বর্গে চলিয়া গিয়াছেন।’ এ কথায় পরাশর বলিলেন, ‘মানুষ ত মরিয়া গেলেই স্বর্গে যায়; আমার পিতা কী করিয়া মরিয়া গেলেন?’

অদৃশ্যন্তী বলিলেন, ‘এক রাক্ষস তাঁহাকে মারিয়া ফেলিয়াছিল।’

পিতার এমন ভাবে মৃত্যু হইয়াছিল, এ কথা শুনিয়া পরাশর রাগে কাঁপিতে কাঁপিতে বলিলেন, ‘আমি সৃষ্টি নষ্ট করিব।’

পরাশর বালক হইলেও, তিনি সাধারণ বালক ছিলেন না। জন্মিবার পূর্বেই তিনি সকল শাস্ত্র মুখস্থ করিয়া ফেলেন, আর জম্মিবামাত্রই অদ্বিতীয় তপস্বী হইয়া উঠেন। সুতরাং তাঁহার মুখে এ কথা শুনিয়া বশিষ্ঠদেবের বড়ই চিন্তা হইল।  তাই তিনি পরাশরকে অনেক বুঝাইয়া বলিলেন, ‘বত্স তুমি এমন কাজ করিও না।’

বশিষ্ঠদেবের কথায় পরাশর সৃষ্টিনাশ করিবার প্রতিজ্ঞা ছাড়িয়া দিলেন বটে, কিন্তু রাক্ষসদিগের উপর তাঁহার বড়ই রাগ রহিয়া গেল। সেই রাগে তিনি রাক্ষস মারিবার জন্য এমন ভয়ঙ্কর এক যজ্ঞ আরম্ভ করিলেন যে, তেমন যজ্ঞ আর কেহ কখনো দেখেন নাই। ইহাতে বশিষ্ঠদেব দুঃখিত হইলেন বটে, কিন্তু বারবার পরাশরের প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করা অনুচিত মনে করিয়া, তিনি চুপ করিয়া রহিলেন।    (অংশ)

লেখকের ‘মহাভারতের কথা’ থেকে

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২০ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৪
যোহর১১:৫৬
আসর৩:৪০
মাগরিব৫:১৯
এশা৬:৩৭
সূর্যোদয় - ৬:৩৫সূর্যাস্ত - ০৫:১৪
পড়ুন