রোজ রাতে দেরি করে ঘরে ফিরি
২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান

 

এই ডেস্কে আসার পর থেকে দেখছি, মবিন ভাই আধাবেলা অফিস করে প্রায়ই বেরিয়ে যায়। একটা না একটা কারণ তার থাকেই। গেল সপ্তাহে তার এক বন্ধুর মৃত্যুর কথা বলে ছুটি নিয়েছিল। আজ নিল আরেক বন্ধুর মৃত্যুর কথা বলে। বস সবই বুঝতে পারেন। বসরা সাধারণত দু’দল লোকের বশ হয়—যারা বেয়াদবি করে আর যারা পেছনে কান ভারী করে। মবিন ভাই বেয়াদব না। সিরিয়াস ইস্যুতে পেছনে কারোর কান ভারী করার অভ্যাসও তার নেই। সে একটা জোকার। বসরা জোকার পছন্দ করেন না—আশপাশে থাকলে সরে দাঁড়ান অথবা কোনো ছুঁতোয় সরিয়ে দেন। সেটাও এক ধরনের বশ মানা।

২.

আমি ফোন ধরলাম, হ্যালো!

— হ্যালো! স্লামালেকুম! মবিন আছে?

— কে বলছেন?

— আমি ওর এক বন্ধু বলছি। আমার নাম...

— মবিন তো ছুটি নিয়ে বেরিয়ে গেছে।

— ও আচ্ছা, কতক্ষণ হবে বেরিয়েছে?

— আধা ঘণ্টা হবে... বাই দা বাই, এতক্ষণে আপনি বোধহয় ওকে জানাজার মাঠে পাবেন।

— জানাজা!...জানাজা কার?...কোথায়?

— সেটা তো আমি জানি না। আপনাদের এক বন্ধু নাকি মারা গেছে। ও তো সেখানেই গেল।

— কোন বন্ধু মারা গেছে? ... স্যরি, আপনাকে প্রশ্নটা করা ঠিক হয়নি।

— না, প্রশ্ন করে ভালোই করেছেন। বিষয়টা আপনারও জানা দরকার।

— কাইন্ডলি, বলবেন, কে মারা গেছে?

— তার আগে বলেন, আপনার নাম কী?

— মোজাফ্ফর।

— তা হলে, আজ আপনিই মারা গেছেন।

— মানে?

— মানে, এখানে এসেছি থেকে ওর কেবল বন্ধুবিয়োগ হচ্ছে। আমার আগে এই ডেস্কে যিনি ছিলেন, তিনি বলে গেছেন, ওনার বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি, ভাইবোন সবাই বিগত হয়েছেন।

—ও, আই সি!

— আজ বেরুবার সময়, আমি একটু চোখ তুলে চেয়েছিলাম, মবিন ভাই মুচকি হেসে আমাকে আশ্বস্ত করে গেছেন, আর হবে না, আজই শেষ। বোধহয় আপনার মরাটাই বাকি ছিল।

৩.

রাতে অফিস ফেরার সময় টিপটিপ বৃষ্টি শুরু হলো। মহল্লা দিয়ে বেরুতে গিয়ে দেখি, মবিন ভাই মজনুর দোকানে খটাস খটাস করে ক্যারাম খেলছে। ছাতার নিচ দিয়ে আমাদের একবার চোখাচোখি হলো। উনি খটাস করে স্ট্রাইকার দিয়ে রেড কাভার করলেন।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৮
যোহর১২:০০
আসর৩:৪৪
মাগরিব৫:২৩
এশা৬:৪১
সূর্যোদয় - ৬:৩৯সূর্যাস্ত - ০৫:১৮
পড়ুন