ভেষজ
শ্বেতদ্রোণ
সিদ্দিকুর রহমান০৫ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
শ্বেতদ্রোণ
কেউ বলেন দণ্ডকলস বা দোরকলস। ধুবরি বা ধুপর শাক হিসাবে চেনেন অনেকে। কানশিশা বা কাউশিশা নামেও পরিচিত। পাওয়া যায় সর্বত্রই। বহুবর্ষজীবী গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। এর শিকড় মাটির ৪/৫ সেন্টিমিটার গভীরে যায়। হাত দিয়ে টান দিলে সহজে উঠে আসে। দেহ গাঢ় সবুজ। অসংখ্য গিঁট বা পর্ব সমস্ত কাণ্ডে থাকে। কাণ্ড শক্ত, ফুল অবৃন্তক। প্রতিটি গিঁট থেকে দু’পাশে বিপ্রতীপভাবে শাখা-প্রশাখা বের হয়। পাতা সরল। পাতার বোঁটায় দুটি পত্রিকা থাকে। পাতা লম্বায় ৪ থেকে ৭ সেন্টিমিটার, চওড়া ১ সেন্টিমিটার। পর্ব থেকে পাতা ৪০ সেন্টিমিটার লম্বা হয়ে থাকে। মাছির চোখের মতো ফুলের মঞ্জুরীতে অনেকগুলো সাদা ফুল থাকে। ফুলগুলোর গোড়ায় মধু থাকে। বাচ্চারা সে মধু খেতে পছন্দ করে। বীজের মাধ্যমে শ্বেতদ্রোণের বংশ বিস্তার। মার্চ-এপ্রিলে ফুল ফোটে। আগস্ট মাসের মধ্যে বীজ পরিপক্ব হয়। অক্টোবর-নভেম্বরে বীজ থেকে চারা গজায়।

পাতা ও শাখা-প্রশাখা চিকিত্সায় ব্যবহূত হয়। কোনো স্থান মচকে গেলে সঙ্গে সঙ্গে শ্বেতদ্রোণের ৫/৬ টি পাতা নিয়ে তার সঙ্গে ৪/৫ ফোঁটা কেরোসিন তেল ও আধা চিমটি লবণ মেখে মালিশ করলে মচকানো স্থান ভালো হয়ে যায়। দীর্ঘদিনের কাশিতে কয়েক দিন ধরে অল্প কয়েকটি পাতা ভেজে খেলে কাশি ভালো হয়। সর্দির কারণে মাথা ধরলে ২০/২৫টি পাতা পিষে রস করে সামান্য লবণ দিয়ে খেলে ৩ থেকে ৫ দিনে ভালো হয়। খোসপাঁচড়ায় পাতা বেটে পেস্ট করে লাগালে ভালো হয়। চোখে খচখচানি ও সামান্য ব্যথা পেলে কয়েকটি পাতা হাতের তালুতে নিয়ে লবণের কয়েকটি দানা দিয়ে ঘষে রস বের করে দিলে চোখ দিয়ে ঝরঝরে পানি বের হয়ে আঘাতের যন্ত্রণা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। চোখওঠা রোগে চোখ লাল হয়ে অত্যধিক জ্বালাপোড়া করে। সে সময় শ্বেতদ্রোনের ২০ থেকে ২৫টা পাতা ২ থেকে ৩টি লবণের দানা নিয়ে হাতের তালুতে ডলা দিলে যে রস বের হবে তার কয়েক ফোঁটা ২ থেকে ৩ দিন ৩ থেকে ৪ বার দিলে চোখওঠা ভালো হয়ে যায়।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৫ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১২:০২
আসর৪:৩০
মাগরিব৬:১৯
এশা৭:৩২
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৬:১৪
পড়ুন