বাংলার মুখ
শকুনি লেক
মো. মাসুদ রানা২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
শকুনি লেক
 

‘কতই না সৃষ্টি কত রূপায়ণ,

কৃত্রিম থেকে অকৃত্রিম স্বয়ং এ স্বপন।’

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে যুগে যুগে মুগ্ধ হয়েছেন কত না কবি, ভ্রমণকারী, সাহিত্যিক আর ঐতিহাসিক। কী নেই বাংলা ভূমে? রয়েছে ঐতিহাসিক মসজিদ এবং মিনার, প্রত্নতাত্ত্বিক বিহার, কেল্ল­া, পার্ক, দ্বীপ, জলপ্রপাত, সমুদ্রসৈকত, পাহাড়-পর্বত, নদী-নালা, দিঘি, বনভূমি, সবুজ মাঠ ইত্যাদি।

বাংলাদেশের প্রতিটি এলাকা, প্রতিটি জেলা-ই কোনো না কোনো স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে বিশেষায়িত। ‘শকুনি লেক’ তেমনই এক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হ্রদ, যেটা মাদারীপুর জেলার সৌন্দর্যে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে। যদিও এটা একটি কৃত্রিম হ্রদ, কিন্তু একে ঘিরে রয়েছে পর্যটনশিল্পের এক অপার সম্ভাবনা। স্থানীয়ভাবে এটাকে ‘মাদারীপুর লেক’ও বলা হয়ে থাকে।

জানা যায়, ১৮৫৪ সালে মাদারীপুর শহরের গোড়াপত্তন হয় এবং গত শতকের চল্লিশের দশকে লেকটি খনন করা হয়েছিল। ১৯৪৩ সালে পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁর ভাঙা-গড়ার খেলায় যখন অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার উপক্রম, তখন ২০ একর জমিতে লেকটি খনন করে তৃতীয়বারের মতো মাদারীপুর শহরকে রক্ষা করা হয়। সে সময় এ অঞ্চলে মাটিকাটা শ্রমিকের অভাব থাকায় এর খননে ভারতের বিহার ও উড়িষ্যা  অঞ্চল থেকে দুই হাজার শ্রমিক ভাড়া করে আনে ব্রিটিশ সরকার। দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকার পর ২০১৩ সালে এর সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ শুরু করে মাদারীপুর পৌরসভা। ‘শকুনি লেক’ প্রকল্পের আওতায় সরকারি অর্থায়নে গড়া হয়েছে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল, শহীদ কানন, শিশুপার্ক, স্বাধীনতা অঙ্গন, এমপি থিয়েটার মঞ্চ, শান্তি ঘাটলা ও মাদারীপুর ‘ঘড়ি টাওয়ার’।

বর্তমানে এ হ্রদ মাদারীপুরের প্রধান পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। লেকের নীল পানি হূদয়ে প্রশান্তি বয়ে আনে।  চারপাশে রয়েছে সারি সারি নারিকেলগাছ ও বিভিন্ন ধরনের ফলের গাছ। স্বচ্ছ জলের মৃদু ঢেউ আর জলছোঁয়া বাতাসে আনন্দে শিহরিত হয়ে ওঠেন দর্শনার্থীরা। বিকেলবেলা এই লেকে এতটাই জনসমাগম হয় যে খালি জায়গা পাওয়া দুষ্কর হয়ে ওঠে।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৬
এশা৭:০৯
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫১
পড়ুন