নায়করাজের জীবন ছবির গল্প
২৩ অক্টোবর, ২০১৪ ইং
নায়করাজের জীবন ছবির গল্প
বাংলা চলচ্চিত্রের অভিভাবক তিনি। যখনই দেশীয় চলচ্চিত্র কোনো সংকটে পড়েছে তখনই সেই সংকট উত্তরণের জন্য তার মুখোমুখি হয়েছেন সবাই। কেন যেন সবাই তার মাঝে আস্থা খুঁজে পান, বারবার তার কাছে অভিভাবকের ছায়া খুঁজে পান। তিনি দেশীয় চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি নায়করাজ রাজ্জাক। কিছুদিন আগেও তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে সবার দোয়ায় আবারো আমাদের মাঝে ফিরে এসেছেন। এখন যেন আগের চেয়ে একটু নিয়ম করেই চলার চেষ্টা করছেন তিনি। বিশেষ কোনো দিনকে উপলক্ষ করে নয়, নায়করাজ রাজ্জাকের চলচ্চিত্র জীবনে ৪৮ বছর পূর্ণ হওয়া নিয়ে আমাদের এবারের মূল ফিচার লিখেছেন নূপুর বন্দোপাধ্যায়

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতি নায়করাজ রাজ্জাকের আন্তরিকতা তার চলচ্চিত্র জীবনের শুরু থেকেই। তাই ইত্তেফাকে তাকে নিয়ে বিশেষ একটি সংখ্যা প্রকাশিত হবে জেনে তিনি একটু বেশিই আনন্দিত ছিলেন। এর কারণ হিসেবে তিনি ব্যাখ্যাও করলেন এমন যে, ‘এর আগে এমন উদ্যোগ আমাকে নিয়ে খুব কমই নেওয়া হয়েছে। তবে ইত্তেফাক আমার ব্যাপারে সবসময়ই উদার। আমার আজকের দিন পর্যন্ত বাংলাদেশে যেসব জাতীয় দৈনিকগুলো বিশেষভাবে অবদান রেখেছে তারমধ্যে ইত্তেফাক অন্যতম। তাই ইত্তেফাক পরিবারের সবার প্রতি রইল আমার অনেক ভালোবাসা।’ রাজধানীর কোলাহল তখনও শুরু হয়নি। সেই কোলাহলমুক্ত এক সকালে রাজধানীর গুলশানের নায়করাজের লক্ষ্মীকুঞ্জে হাজির হই নায়করাজের সাথে আরো কিছু কথা বলতে। আরো কিছু বলছি এ কারণেই যে, এর আগে তার লক্ষ্মীকুঞ্জে অনেকবারই যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। তবে যতবার যাই, যেন ততবারই আমি নিজেকে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করি। কথায় কথায় উঠে আসে নানা তথ্য। ওপার বাংলার ছেলে ছিলেন তিনি। এপার বাংলায় এসে একটু একটু করে একসময় হয়ে উঠেন আমাদের বাংলা সিনেমার রাজা ‘নায়করাজ রাজ্জাক’। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বিশেষত বারবার উল্লেখ করেন তিনি জহির রায়হানের কথা। উল্লেখ করেছেন তার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে এমন কিছু মানুষের কথা যাদের সঙ্গে ঘুম থেকে উঠলেই দেখা হতো, যারা সুখে দুঃখে তার পাশে থেকেছেন। তাকে উত্সাহ দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। পুরো চলচ্চিত্রাঙ্গনের প্রতি নায়করাজ রাজ্জাক কৃতজ্ঞ। সময়টা ষাটের দশকের মাঝামাঝি। সেই সময়েই নতুন এক সূর্য ওঠে বাংলা চলচ্চিত্রের আকাশে। অচিরেই দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ে সেই সূর্যের দ্যুতি। ষাটের দশকের বাকি বছরগুলো এবং সত্তরের দশকেও তাকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের প্রধান অভিনেতা হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তিনি আবদুর রাজ্জাক। নায়করাজ রাজ্জাক নামেই সুপরিচিত তিনি। ১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার নাকতলায় জন্মগ্রহণ করেন রাজ্জাক। কলকাতার খানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় সরস্বতী পূজা চলাকালে শিক্ষক রথীন্দ্রনাথ চক্রবর্তী তাকে বেছে নেন নায়ক অর্থাত্ কেন্দ্রীয় চরিত্রে। শিশু-কিশোরদের নিয়ে লেখা নাটক ‘বিদ্রোহ’তে গ্রামীণ কিশোর চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়েই রাজ্জাকের অভিনয়ে সম্পৃক্ততা। দেশ এবং দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গন নিয়ে সবসময়ই উত্কণ্ঠায় থাকেন জীবন্ত এই কিংবদন্তি। তিনি বলেন, ‘আমি শিল্পী মানুষ। দেশ নিয়ে ভাবনা-চিন্তা হয় সবসময়ই। আবার ভাবি, এ নিয়ে কথা বলার জন্য নির্দিষ্ট লোকজন আছেন। তারা নিশ্চয়ই দায়িত্বশীল তাদের কাজে। তবে সত্যি বলতে কী শিল্পী ও রাজনীতিবিদের কাজ প্রায় একই। দু’জনই মানুষের জন্য কাজ করেন। আমি সাধারণ মানুষের অন্তরে ঠাঁই পেয়েছি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। তাই চলচ্চিত্র নিয়েই আমার যত ভাবনা। এই অঙ্গন ছেড়ে কোথাও যাওয়ার ইচ্ছে আমার কখনোই হয়নি। আমার ছেলেরা বিদেশ যেতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি কখনো বিদেশে যেতে দিইনি। কারণ আমি মনে করেছি দেশে থেকেই কিছু করা ভালো। নিজের চোখের সামনে থাকবে। সেটাই হচ্ছে আমার মনের শান্তির বিষয়। দেশে যত সমস্যাই হোক না কেন দেশটা তো আমাদেরই। এই দেশটাকে কোনোভাবেই কোনো কারণে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেওয়া ঠিক নয় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে।’ বর্তমান চলচ্চিত্রাঙ্গন নিয়ে নায়করাজ রাজ্জাক বলেন, ‘সিনিয়র শিল্পী কলাকুশলীদের বাদ দিয়ে এখন চলচ্চিত্র নির্মিত হচ্ছে। মাথার উপর ছায়াকে সরিয়ে যদি কেউ চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে চায়, তাহলে কী হবে? হবে না। একটা কথা মনে রাখতে হবে, সিনিয়ররা হচ্ছেন আশীর্বাদস্বরূপ। তারা থাকা মানেই হচ্ছে চলচ্চিত্র অলংকৃত হওয়া, চলচ্চিত্রের সৌন্দর্য বেড়ে যাওয়া। কিন্তু এখন এইসব বিষয় মাথায় রেখে চলচ্চিত্র নির্মিত হচ্ছে না। ডিজিটাল ছবির নামে যেসব ছবি নির্মিত হচ্ছে তার ভবিষ্যত্ কী আমার জানা নেই। নিজেদের কাজে আমরা যদি এখনই সচেতন না হই তবে বাংলা চলচ্চিত্রের যে ঐতিহ্য ছিল তা হারিয়ে যাবে। তাই সময় থাকতেই সবাইকে চলচ্চিত্রের হাল ধরতে হবে।’ কথায় কথায় জানা গেল, ১৯৫৯ সালে বোম্বের ফিল্ম ইনস্টিটিউট ফিল্মালয়ে ভর্তি হন রাজ্জাক। এর পর কলকাতার ‘পংকতিলক’ এবং ‘শিলালিপি’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ১৯৬৪ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হলে সপরিবারে ঢাকায় চলে আসেন রাজ্জাক। এ সময় কমলাপুরে থাকতেন তিনি। স্ত্রীর সঙ্গে তার সংসার জীবন ৫৩ বছরের। এর মধ্যে রাজ্জাকের উত্থানের সব ধাপ দেখেছেন প্রিয়তমা স্ত্রী। স্বামীকে আকাশচুম্বী উচ্চতায় নিয়ে যেতে করণীয় সবই করেছেন এ নারী। রাজ্জাক আবার স্মৃতিচারণে ফিরে গেলেন, ‘আমি তখন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। এফডিসিতেই ঘরবাড়ি। সময় বের করতে পারি না। এত ব্যস্ততার পরও আমি শুক্রবার কাজ রাখতাম না। স্ত্রী ও সন্তানদের কথা ভেবে এটুকু ছাড় দিতাম। যদিও এটা পর্যাপ্ত ছিল না। আমার স্ত্রী তবু কিছু বলত না। সে আমাকে কাজের জন্য উত্সর্গ করেছে। আমার দৃষ্টিতে আমার দেখা পৃথিবীর সর্বশেষ্ঠ স্ত্রী, সর্বশ্রেষ্ঠ মা—আমার লক্ষ্মী।’ নায়করাজ রাজ্জাক ঢাকায় এসে যোগাযোগ করেন ঢাকার প্রথম ছবি ‘মুখ ও মুখোশ’-এর পরিচালক আবদুল জব্বার খানের সঙ্গে। তিনি রাজ্জাককে ওই সময়ের বিখ্যাত চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা ইকবাল ফিল্মসে চাকরি নিয়ে দেন। পরিচালক কামাল আহমেদের সহকারীর কাজ পেলেন তিনি। সহকারী পরিচালক হিসেবে রাজ্জাকের প্রথম ছবি ‘উজালা’। সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ‘১৩ নং ফেকু ওস্তাগার লেন’, ‘আখেরী স্টেশন’ ও ‘ডাক বাবু’ ছবিতে তিনটি ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করেন রাজ্জাক। একদিন হঠাত্ সুযোগ পান নায়ক হওয়ার। জহির রায়হান রাজ্জাককে ‘বেহুলা’ চলচ্চিত্রের নায়ক বানিয়ে দেন। ‘বেহুলা’র নামভূমিকায় অভিনয় করেন সুচন্দা। ১৯৬৬ সালে মুক্তি পায় ‘বেহুলা’। চলচ্চিত্রে নায়করাজের ইতিহাস তখন থেকেই শুরু।  রাজ্জাক বলেন, ‘তখন আমরা কয়েকজন জহির রায়হানের সঙ্গেই থাকতাম। আমরা তার আদর্শের অনুসারী ছিলাম। এটা অনেক বড় সত্যি কথা, জহির রায়হান সাহেব যদি ‘বেহুলা’তে আমাকে নায়ক হিসেবে কাজ করার সুযোগ না করে দিতেন তবে হয়তো বা নায়করাজের জন্মই হতো না। একজন সাধারণ মানুষ হয়েই থেকে যেতাম।’ এই সময়ের চলচ্চিত্র নিয়ে নায়করাজ বললেন আরো কিছু কথা। তিনি বলেন, ‘৯০-এর দশক পর্যন্ত আমাদের চলচ্চিত্র বেশ ভালো অবস্থানে ছিল। তখন এক বা দেড় কোটি টাকা দিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হতো। এখন বাজেট বাড়লেও ছবির মান কমে গেছে। আমরা কয়েকজন শিল্পী দিনরাত কাজ করেছি। কিন্তু সেই সময় এখন আর নেই। তাই খুব কষ্ট হয়, বিএফডিসিতে এখন যখন যাই তখন খুব খারাপ লাগে, আমার সেই আগের এফডিসি নেই, বাংলা ছবির স্বর্ণযুগ এখন আসলেই আর নেই।’ তবে কী এ থেকে উত্তরণের উপায় নেই? ‘আছে, এখন সরকারি উদ্যোগে চলচ্চিত্রের সুদিন ফিরিয়ে আনা সম্ভব। সরকার কিছুটা আন্তরিক হলে, এখানে সুনজর দিলে খারাপ চিত্রটার বদল ঘটতে পারে, বাংলা চলচ্চিত্র ফিরে পেতে পারে সেই স্বর্ণালি সময়।’ চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদান রাখায় গত বছর সরকারিভাবে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হলো নায়করাজ রাজ্জাককে।

দেশীয় চলচ্চিত্রে এই সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্মানজনক পুরস্কার হচ্ছে আজীবন সম্মাননা। একজন শিল্পী জীবদ্দশায় এই পুরস্কারপ্রাপ্তিকে অনেক বড় করেই দেখেন, যেমনটি দেখছেন নায়করাজ রাজ্জাক। গত বছর ১৩ মার্চ বুধবার যখন হাতে আসে সেই ‘আজীবন সম্মাননা’ তখন জীবনের ফেলে আসা দিন আর অনেক প্রাপ্তির কথা মনে করে ভেতরে ভেতরে কেঁদেছেন নায়করাজ; কৃতজ্ঞতার ভাষা জানা ছিল না তার। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মাননাটি গ্রহণ করার পর প্রধানমন্ত্রীকে হাস্যোজ্জ্বল মুখে নায়করাজ নিজের জন্য নয়, চলচ্চিত্রের সার্বিক উন্নয়নের জন্য শুধু এতটুকুই বললেন, ‘ডিজিটাল চলচ্চিত্রের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য আপনার সরাসরি হস্তক্ষেপটা অধিক জরুরি। আপনি একটু চেষ্টা করবেন যেন আপনার ঘোষিত এই শিল্পটি টিকে থাকে।’ পুরস্কার গ্রহণ শেষ করে নায়করাজ সেদিনের হঠাত্ বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে যখন বাসায় ফিরছিলেন তখনো তিনি ভাবতে পারেননি আরেক অজানা অধ্যায় তার সামনে নতুন করে আসছে। বাসায় ফেরা মাত্রই পরিবারের সদস্যদের ফুলেল শুভেচ্ছা আর ভালোবাসায় সিক্ত হন তিনি। কেক কাটলেন, সবাইকে নিজ হাতে তা খাইয়ে দিলেন। আজীবন সম্মাননার দিনের বিশেষ এই মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতেই নায়করাজের পরিবারের এই উদ্যোগ ছিল। এরপর বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন, ভক্ত আর নিজের চলচ্চিত্রাঙ্গনের মানুষের সাথে তিনি ফোনে কথা বলেছেন। সবাই তার দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া করেছেন। নায়করাজ বলেন, ‘এক সময় জীবনের কাছে অনেক কিছুই চাওয়ার ছিল, সেই চাওয়ার বিপরীতে পাওয়া হয়েছে অনেক। অতৃপ্তি বলতে খুব বেশি কিছু নেই।’ কথা শেষ না করেই নায়করাজ আবার বলে উঠলেন, ‘একটা অতৃপ্তি আমার আছে। আমি জানি আমার দেশ যেমন ছোট, আমার দেশের চলচ্চিত্র শিল্প সামগ্রিক অর্থে ছোট। কিন্তু গবেষণা করতে তো কোনো সমস্যা নেই। পাশের দেশ ভারতে আমাদের বয়সের শিল্পীদের নিয়ে কতরকম চ্যালেঞ্জিং চরিত্র সৃষ্টি হয়। যেমন অমিতাভ বচ্চন, তাকেই কেন্দ্র করে কত ধরনের ছবি নির্মিত হয়। সেই ছবিতে শাহরুখ কিংবা সালমান খান থাকলেও অমিতাভ নিজ মহিমায় উজ্জ্বল থাকেন। এমনটা কি করা যায় না আমাদের দেশে! শুধু আমার জন্যই তা বলছি না, আমার মতো আরো অনেকে আছেন, যেমন সোহেল রানা, আলমগীর, ফারুক, উজ্জ্বল। চেষ্টা করলেই হয়তো পারা যাবে। সেই চেষ্টাটাই নেই।’ কলকাতার কয়েকজন পরিচালক কয়েকটি ছবিতে নায়করাজকে এই ধরনের এক্সপেরিমেন্টাল চরিত্রে অভিনয় করিয়েছেন। সেসব ছবি ব্যাপক সফলতাও লাভ করেছে, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ‘অন্নদাতা’ ছবিটি।  অভিনয়ের পাশাপাশি নায়করাজ রাজ্জাক ১৯৭৩ সালে ‘রংবাজ’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। গড়ে তোলেন প্রযোজনা সংস্থা রাজলক্ষ্মী প্রোডাকশন। অনেক ছবি প্রযোজনা করেন তিনি। এ পর্যন্ত পরিচালনা করেছেন প্রায় ১৬টি চলচ্চিত্র। তার সর্বশেষ পরিচালিত ছবি ‘আয়না কাহিনী’। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে রাজ্জাক তত্কালীন পাকিস্তান টেলিভিশনে ‘ঘরোয়া’ নামে ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হন। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বেশ দাপটের সঙ্গেই ঢালিউডে সেরা নায়ক হয়ে অভিনয় করেন রাজ্জাক। এর মধ্য দিয়েই তিনি অর্জন করেন নায়করাজ রাজ্জাক খেতাব। উপাধিটি তাকে দিয়েছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক আহমদ জামান চৌধুরী (খোকা)। নায়করাজ বলেন, ‘সারাটি জীবন আমি কিছু কিছু বিষয় খুব মেনে চলার চেষ্টা করেছি। তারমধ্যে অন্যতম একটি বিষয় হলো কোনো কিছু নিয়ে আমার আফসোস করতে হবে এমন কোনো বিষয়ে আমি অপূর্ণতা রাখিনি। আহমদ জামান চৌধুরী সাংবাদিকদের মধ্যে আমার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। আমার ‘নায়করাজ’ উপাধিটি তারই দেওয়া। কত সময় কেটেছে তার সাথে আমার। অথচ সেই প্রিয় মানুষটি আমাকে কঠিন এক আফসোসের মাঝে রেখে চলে গেছে। আমি তাকে শেষ দেখা দেখতে পারিনি, এটা যে আমার জন্য কত কষ্টের আমি বলে বুঝাতে পারব না। আমার সত্যিই ভীষণ খারাপ লাগে। প্রতিটি মুহূর্তে তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি।’ এ পর্যন্ত মোট সাতবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ‘কি যে করি’ (১৯৭৬), ‘অশিক্ষিত’ (১৯৭৮), ‘বড় ভালো লোক ছিল’ (১৯৮২), ‘চন্দ্রনাথ’ (১৯৮৪), ‘যোগাযোগ’ (১৯৮৮)। স্ত্রী, সন্তান ও নাতি-নাতনি নিয়ে চিরসুখী এক মানুষের নাম নায়করাজ। বাংলা চলচ্চিত্রে নায়করাজ রাজ্জাকের সঙ্গে জুটি হিসেবে যাদের নাম বিশেষভাবে আসে তারা হচ্ছেন শবনম, কবরী, শাবানা এবং ববিতা। শবনমের সঙ্গে জুটিবদ্ধ হয়ে নায়করাজ প্রথম অভিনয় করেন অমোঘ ঘোষ পরিচালিত ‘নাচের পুতুল’ ছবিতে। এই ছবির ‘আয়নাতে ঐ মুখ দেখবে যখন, কপোলের কালো তিল পড়বে চোখে’ গানটি এখনো বহুল শ্রোতাপ্রিয়। কবরীর সঙ্গে প্রথম জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করেন সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘আবির্ভাব’ ছবিতে। শাবানার সঙ্গে প্রথম জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করেন মুস্তাফিজের ‘পায়েল’ (উর্দু) ছবিতে এবং ববিতার সঙ্গে প্রথম অভিনয় করেন জুটিবদ্ধ হয়ে ‘শেষ পর্যন্ত’ ছবিতে। নায়করাজ রাজ্জাক প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের শিল্পীদের কাছে অনুকরণীয় কিংবা অনুসরণীয়ও এক নায়কের নাম। নায়করাজ রাজ্জাক যেন এক বটবৃক্ষ। যার ছায়াতলে সবাই অনায়াসে থাকতে পারেন আদর, স্নেহ, ভালোবাসা নিয়ে। এই ভালোবাসার মানুষটিকে বাংলাদেশের সিনেমাপ্রেমী দর্শকেরা কোনোভাবেই হারাতে চান না পর্দা উপস্থিতি থেকে। হয়তো এ কারণেই নিজের বড় ছেলে বাপ্পারাজকে নির্দেশনায় অনুমতি দিয়ে ‘কার্তুজ’ ছবিতে নিজেও অভিনয় করেছেন দর্শকের কথা মাথায় রেখেই। ‘কার্তুজ’ বাপ্পারাজ পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র। নায়করাজ তার নির্দেশনা নিয়ে ভীষণ তৃপ্ত।  নায়করাজ আমাদের তেমনই একজন অভিভাবক—বাংলা চলচ্চিত্রের এমন অভিভাবক আর হয়তো নেই। আমাদের ‘নায়করাজ রাজ্জাক’ আপনার প্রতি সকল দর্শক এবং ইত্তেফাকের পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা, আপনার দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৯
মাগরিব৫:২৯
এশা৬:৪২
সূর্যোদয় - ৫:৫৯সূর্যাস্ত - ০৫:২৪
পড়ুন