আঁখির পথচলা
 দিব্যজ্যোতি দত্ত ২৩ অক্টোবর, ২০১৪ ইং
ছোটপর্দায় বেশ পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন অভিনেত্রী আঁখি আফরোজ। প্রতিভাবান এই অভিনেত্রী বেশ অল্প সময়েই তার অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ রেখে চলেছেন। নাটক, বিজ্ঞাপন দুই মাধ্যমেই পার করছেন ব্যস্ত সময়।

বর্তমানে এই অভিনেত্রী কাজ করছেন চারটি মেগা সিরিয়ালে। অভিনয় করছেন সকাল আহমেদের ‘খেয়া’, আবু জাহিদের ‘আলো ছায়া’ ও তাহের শিপনের ‘ভৈরব’ ধারাবাহিকগুলোতে। এছাড়াও এহসানুল হক বাপ্পির একটি নাটকে কাজ করছেন। নাটকটির নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কাজ করছেন মেহেদী হাসান সৌমেনের ‘ব্ল্যাক সোল’ টেলিফিল্মে। আঁখি সম্প্রতি কাজ শেষ করেছেন আরএফএল লেমন কুইজার টিভিসির। সমানভাবে চলছে ফটোশুটেরও কাজ। এত ব্যস্ততার মাঝে নিজের নাটক দেখার সুযোগ পান কি না জানতে চাওয়া হলে এই অভিনেত্রী জানান, ‘আসলে নিজের নাটকগুলো সময় পেলেও বাসার সবার সাথে দেখা হয় না। পরে হয়তো ইউটিউবে দেখি। আসলে বাসার সবার সাথে নিজের অভিনয় দেখতে লজ্জা লাগে আমার! আর এজন্যই দেখা হয় না।’ ছোটবেলা থেকেই অভিনেত্রী হওয়ার তীব্র ইচ্ছা থাকলেও আঁখির শুরুটা কিন্তু হঠাত্ করেই। আঁখির ভাষায়, ‘আসলে ছোট থেকেই মিডিয়ায় কাজ করার খুব ইচ্ছা ছিল। আর মিডিয়া পাড়ায় আমার অনেক বন্ধুও ছিল। সময় পেলে তাদের সাথেই আড্ডা দিতাম। তাদের সাথে সাথে আমি তাদের শুটিং স্পটে যেতাম, কাজ দেখতাম। আর এভাবেই এই মাধ্যমে জড়িয়ে পড়া। ২০১২ সালে গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘রোদ’ নাটকের মাধ্যমে আমার মিডিয়া যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে সেভাবে সিরিয়াসলি কাজ না করলেও এখন আমি কাজের ব্যাপারে খুবই সিরিয়াস। পুরোদস্তুর একজন পেশাদার শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আর এজন্য নিজেকে প্রতিনিয়ত তৈরি করে যাচ্ছি।’ তা আঁখির প্রস্তুতিটা কেমন জানতে চাওয়া হলে আঁখি বলেন, ‘এখন তো অভিনয়ের মাধ্যমেই শিখছি। সিনিয়রদের কাছ থেকে শিখছি। পাশাপাশি দেশ-বিদেশের চলচ্চিত্র দেখছি। আর দেখছি আমাদের দেশের নাটক।’ আঁখির জন্ম রাজশাহীর জয়পুরহাটে হলেও বেড়ে উঠেছেন ঢাকাতেই। তিলোকপুর হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও লালমাটিয়া মহিলা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে লালমাটিয়া মহিলা কলেজ থেকেই স্নাতকের পাট চুকিয়েছেন ব্যবস্থাপনায়। তবে পড়াশোনা শেষ করে চাকরি-বাকরিতে মোটেও ইচ্ছা নেই নবীন এই অভিনয়শিল্পীর। তিনি বলেন, ‘পড়াশোনা করছি তবে নিজেকে চাকরিজীবী হিসেবে মোটেও দেখতে চাই না। এখন অভিনয় করছি আর অভিনয় নিয়েই থাকতে চাই। আসলে আমি অভিনয়কে ভালোবাসি আর তাই পেশাদারিত্বের দিক থেকে একজন সফল অভিনেত্রী হতে চাই।’ সুবর্ণা মুস্তাফার অন্ধ ভক্ত আঁখি প্রিয় অভিনেত্রী সম্পর্কে বলেন, ‘সুবর্ণা মুস্তাফার অভিনয়ের বড় ভক্ত আমি। তার অভিনয় আমার খুব ভালো লাগে। মাঝে মাঝে ভাবি যদি তার মতো অভিনয় করতে পারতাম! আসলে তিনি একজন চরিত্রাভিনেতা। আর আমিও নিজেকে চরিত্রাভিনেতা হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। চাই নানা ধরনের নানা রকমের চরিত্রে অভিনয় করতে। সুবর্ণা মুস্তাফা ছাড়াও ভালো লাগে আনিসুর রহমান মিলন, অপি করিম ও বলিউড অভিনেত্রী বিদ্যা বালানের অভিনয়।’ ছেলেবেলায় পুকুরে মাছ ধরতে খুব ভালোবাসতেন আঁখি। মাছ ধরা নিয়ে তার রয়েছে অনেক মজার ঘটনা। একবার তো পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে টাকি মাছ ভেবে সাপ ধরে ফেলেছিলেন হাত দিয়ে। তারপর যখন বুঝতে পারলেন প্রচণ্ড ভয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে মা ও স্বজনদের শুশ্রুষায় সুস্থ হয়ে উঠেন ছোট্ট আঁখি। অবশ্য অভিনয়ের তাগিদে এই ‘ছোট্ট’ মেয়েটাই এখন অনেক সাহসী। শোনা যাক তার মুখেই, ‘তখন আমি মিডিয়াতে নতুন। ‘হেয়ার অ্যান্ড কেয়ার’-এর একটি বিজ্ঞাপনের কাজের শুটিং হবে রাতে। মাকে বললে মা রাজি হবেন না জেনে মাকে বললাম যে বন্ধুর বাসায় যাচ্ছি। শুটিং শেষ হতে হতে বেশ রাত হয়ে যায়। এখন মাকে বললে মা রাগ করবেন জেনে আমি আমার ফুপিকে বলি গেটটা খুলে দিতে। এর আগে আমার ফুপি আমাকে অনেক হেল্প করলেও ওইদিন উনি আমাকে হেল্প তো করেনই না বরং আমাকে ভয় দেখান যে আমার মাকে সব বলে দেবেন। মনে আছে সে রাতে আমি সারারাত একটি বেসরকারি হাসপাতালের রিসিপশনে বসে থাকি। সারাটা রাত চোখের জল ফেলেছিলাম। আমি ফুপিকে অনেক ভালোবাসতাম তাই তার এমন আচরণে অনেক কষ্ট পাই। ওই ঘটনার পর তার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিই।’ ২০১১ সালে বাবাকে হারিয়ে আঁখির সবচাইতে কাছের বন্ধু মা আর ছোট বোন। ছোট বোন এবার উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছেন। আঁখি বলেন, ‘মা আর বোনই আমার সবচাইতে কাছের বন্ধু। ওরাই আমাকে উত্সাহ দেয়। শুরুতে মা কিছুটা বাধা দিলেও অভিনয়ের প্রতি আমার ভালোবাসার জন্য মা এখন আমাকেই উত্সাহই দেন।’ অভিনয়ের পাশাপাশি গানেরও বড় ভক্ত আঁখি। সবধরনের গানই শুনতে ভালোবাসেন তিনি। আর ভালোবাসেন বই পড়তে। অবসরে তার বড় সঙ্গী তাই গান আর বই। গানের মতো বইয়ের ব্যাপারেও তার কোনো বাছবিচার নেই। সব ধরনের বই পড়েন তবে তারপরেও প্রিয় লেখকের কথা জানতে চাওয়া হলে একবাক্যে বলে ফেলেন কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের নাম।  ভবিষ্যতে নিজেকে কোথায় দেখতে চান জানতে চাওয়া হলে প্রতিভাবান এই অভিনেত্রী বলেন, ‘অনেক অনেক বড় অভিনয়শিল্পী হতে চাই। এটাই আমার স্বপ্ন। আর চাই মানুষের ভালোবাসা। আর এ ভালোবাসা আমি আমার অভিনয় দিয়েই অর্জন করতে চাই। যেতে চাই অনেক দূর।’ আঁখি তার এই অনেক দূরের পথচলায় সঙ্গী হিসেবে পাশে চান দর্শকদের। তার বিশ্বাস দর্শকদের ভালোবাসাই পারবে তার স্বপ্ন পূরণ করতে।

 

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৯
মাগরিব৫:২৯
এশা৬:৪২
সূর্যোদয় - ৫:৫৯সূর্যাস্ত - ০৫:২৪
পড়ুন