টিভি নাটক
সমানতালে নতুনরাও এগিয়ে
২৫ ডিসেম্বর, ২০১৪ ইং
সমানতালে নতুনরাও এগিয়ে
শেষ হয়ে গেলে আরও একটি বছর। প্রতি বছরের মতো ২০১৪ সালেও দেশের বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো নিজেদের মতো করে সাজিয়েছিল তাদের একখণ্ডের নাটক ও ধারাবাহিক দিয়ে। বছরজুড়ে দর্শকদের চাহিদা অনুযায়ী খ্যাতনামা পরিচালক ও নির্মাতারা জনপ্রিয় অভিনেতা ও অভিনেত্রীদের পাশাপাশি নবীনদের নিয়েও নির্মাণ করেছেন তাদের নাটকগুলো। সেগুলো কেমন ছিল তা নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন। লিখেছেন খালেদ আহমেদ

গত বছর টিভি নাটকে বেশবিছু ভালো নাটক ছিল, যা দর্শকদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছে। টিভি নাটকগুলোতে পুরাতন তারকাদের আধিপত্য ছিল কিছুটা বেশি। সাথে নতুন কিছু তারকারাও বেশ কিছু ভালো কাজ করেছেন। অভিনেতাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নিজেদের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পেরেছিলেন। তারা হলেন জাহিদ হাসান, মাহফুজ আহমেদ, মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, মীর সাব্বির, সজল, আনিসুর রহমান মিলন, শতাব্দী ওয়াদুদ, শোয়েব, সাব্বির আহমেদ, কল্যাণ, নাঈম, শ্যামল মাওলা, সাঈদ বাবু, আফরান নিশো প্রমুখ। আর অভিনেত্রীদের মধ্যে ছিলেন মিম, মম, তারিন, মৌসুমী হামিদ, অগ্নিলা, হাসিন, উর্মিলা, নওশীন, তিশা, অহনা, শখ, সীমানা, স্পর্শিয়া প্রমুখ। তবে মিমের ব্যস্ততা বাড়ে মূলত গ্রামীণফোনের নতুন বিজ্ঞাপনচিত্রটি প্রচারের পর থেকে। নাটক থেকে কিছুটা হলেও সরে পড়েছেন শখ। অপি করিমকে এ বছর আবারও উপস্থাপনায় নিয়মিত দেখা গেছে। বিরতি কাটিয়ে ফারহানা মিলি আবার অভিনয়ে এসেছেন। টেলিভিশন মিডিয়া থেকে চলচ্চিত্রে গিয়ে আলোচিত ছিলেন জয়া আহসান, শতাব্দী ওয়াদুদ, আরেফিন শুভ, মম, জ্যোতিকা জ্যোতি ও আইরিন। বেসরকারি চ্যানেলগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি চ্যানেলে কিছু ধারাবাহিক নাটক দর্শকদের মন জয় করতে পেরেছিল। এটিএন বাংলায় প্রচারিত ধারাবাহিক নাটকগুলোর মধ্যে ঈদের নাটক তারিন অভিনীত ‘দ্য পেইন্টার’, সুবর্ণা মুস্তাফা ও তৌকীর আহমেদ অভিনীত বিজয় দিবসের নাটক ‘সাক্ষাত্কার’ ভালো ছিল। মানের দিক থেকে এনটিভি বরাবরই ভালো নাটক প্রচার করতে চায়। গত বছরও তারা বেশ কিছু মানসম্পন্ন নাটক দর্শকদের উপহার দিয়েছে। এরমধ্যে ছিল আরিফ এ আহনাফের পরিচালনায় ‘পেজ সিক্সটিন’, নাহিদ আহমেদ পিয়ালের ‘কনক’, তুহিন অবন্তর চিত্রনাট্য, রচনা ও পরিচালনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নষ্টনীড়’ গল্প অবলম্বনে বিশেষ নাটক ‘চার এবং অন্যান্য’, ইমরাউল রাফাতের রচনা ও পরিচালনায় ‘অপেক্ষা’, শিহাব শাহীনের ‘মনসুবা জংশন’, আলী ফিদা একরাম তোজোর পরিচালনায় ‘ফ্যামিলি প্যাক’, মাহমুদ দিদারের রচনা ও পরিচালনায় একুশের বিশেষ নাটক ‘শহরে আলোর দিন’। চ্যানেল আই সচেষ্ট ছিল ভালো অনুষ্ঠান নির্মাণে। তাদের প্রচারকৃত টেলিছবি ‘হলুদ বাতির গল্প’ বেশ আলোচিত হয়েছে। সুমন ধরের রচনা ও পরিচালনায় এতে অভিনয় করেন মৌসুমী, আগুন, শুভ, সাজু খাদেম প্রমুখ। এছাড়া তুহিন হোসেনের পরিচালনায় ‘সাইকেল বালিকা’ নাটকটিও দর্শকের মন জয় করে। বাংলাভিশন বছরজুড়ে ভালো ভালো নাটক ও অনুষ্ঠান উপহার দিয়েছে দর্শকদের। তাদের উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে ছিল ‘অ-এর গল্প’, ‘লঙ্গরখানা’, ‘এলেবেলে’, ‘টেন মিলিয়ন ডলার’, ‘বাতিঘর’, ‘সত্য পাহাড়’, ‘রেড সিগল্যাল ও তুমি’। ‘অ-এর গল্প’ ধারাবাহিক নাটকটি এখনো প্রচারিত হচ্ছে। এছাড়া প্রচার চলতি দর্শকপ্রিয় নাটকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘কালো মখমল’, ‘হল্লাবাজি’, ‘হাওয়াই মিঠাই’, ‘হাটখোলা’, ‘ঘোমটা’, ‘জীবন থেকে নেয়া’ ও ‘এই শহরের গল্প’। আরটিভিতে প্রচারিত ‘নোয়াশাল’, ‘মামা বাড়ির আবদার’ ও ‘বিজলী’ ধারাবাহিকগুলো দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিল। এরমধ্যে কামরুল হাসানের রচনায় ‘নোয়াশাল’ নাটকটি পরিচালনা করেন মীর সাব্বির। সুমন আনোয়ারের রচনা ও পরিচালনায় বিচিত্র সব চরিত্রে অভিনয় করে সুনাম কুড়িয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তিশা। এই নাটকে বস্তির টেরর বিজলী চরিত্রে অভিনয় করেন তিশা। আর ‘মামা বাড়ির আবদার’ ধারাবাহিকটি রচনা ও পরিচালনা করেন সঞ্জিত সরকার। এতে চঞ্চল চৌধুরী, অহনা, আখম হাসান, শাহনাজ খুশি, ডা. এজাজের অভিনয় দর্শকরা পছন্দ করেছে। গত বছর মাছরাঙা টেলিভিশনে প্রচারিত ধারাবাহিক নাটকগুলোর মধ্যে মাহমুদুল হাসান টিপুর রচনা ও পরিচালনায় ‘অর্থবহ চিরকুট’, রুম্মান রুনির ‘তবুও তো মা’, মোবারক রুমির ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’, মাহমুদ দিদারের রচনা ও পরিচালনায় ‘মোহ মায়া অথবা প্রেম’, ইউসুফ হাসান অর্কের পরিচালনায় ‘চিঠি দিও প্রতিদিন’, হাবিব মাসুদের ‘আলো ফুল ও ভালোবাসার গল্প’, হিমেল আশরাফের ‘জয় হে মানুষ’ দর্শকদের মন জয় করেছিল। একুশে টিভির আয়োজন ছিল ভালো। হিমু আকরামের রচনা ও পরিচালনায় ‘টিপু সুলতানের হাতি’ নাটকটি দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। দেশ টিভির ধারাবাহিক নাটক ‘অফস্ক্রিন’ দর্শকের কাছে সাড়া জাগিয়েছিল। এটি পরিচালনা করেন মোস্তফা কামাল রাজ। পাশাপাশি খণ্ড নাটকের প্রতি আগ্রহ ছিল টিভি চ্যানেল, নির্মাতা ও দর্শকের মাঝে। খণ্ড নাটক নিয়ে দর্শকনন্দিত ছিলেন জাহিদ হাসান, মাহফুজ আহমেদ, মাসুদ সেজান, হিমু আকরাম, তানভীর হোসেন প্রবাল, শামীম শাহেদ, মোস্তফা কামাল রাজ, আলী ফিদা একরাম তোজো, মাহমুদ দিদার, সত্যজিত্ রায়ের মতো অনেক নবীন ও প্রবীণ নির্মাতা। বিভিন্ন চ্যানেলে অনেক ডেইলি সোপ নাটক প্রচারিত হলেও সেগুলো দর্শকদের নজর কাড়তে পেরেছিল। পাশাপাশি চিত্রনায়িকা মৌসুমী ও পপিকে অভিনয় করতে দেখা যায় ছোট পর্দায়। উল্লেখযোগ্য ঘটনার ভেতরেও বেশকিছু টিভি চ্যানেল মানহীন নাটক ও অনুষ্ঠান প্রচার করেছে। ভারতীয় সিরিয়ালের নকল করে বেশকিছু সিরিয়াল প্রচার হয়েছিল বিভিন্ন চ্যানেলে। অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন প্রচার বিরক্তিতে রেখেছে দর্শকদের।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৫ নভেম্বর, ২০২০ ইং
ফজর৫:১৭
যোহর১১:৫৯
আসর৩:৪৩
মাগরিব৫:২২
এশা৬:৪০
সূর্যোদয় - ৬:৩৮সূর্যাস্ত - ০৫:১৭
পড়ুন