চলচ্চিত্র
তবুও আশা নিয়ে
২৫ ডিসেম্বর, ২০১৪ ইং
তবুও আশা নিয়ে
২০১৪ সালে সবমিলিয়ে ৬০টির বেশি চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় বলা যায়, প্রতিটি চলচ্চিত্রেরই প্রযোজনা সংস্থা ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এমনও জানা যায়, যারা প্রথমবারের মতো চলচ্চিত্র প্রযোজনায় এসেছিলেন, তারা আর কোনোদিন চলচ্চিত্র প্রযোজনায় আসবেন না। আরও বিস্তারিত জানাচ্ছেন

মিলান আফ্রিদী

চলতি বছরে যেসব চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে এরমধ্যে হাতে গোনা দু’তিনটি ছাড়া বাকি সবগুলো ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এর বিভিন্ন কারণ বিশ্লেষণ করেছেন চলচ্চিত্র বোদ্ধারা—কেউ বলছেন গল্পে ভিন্নতা না থাকা, আবার কেউ বলছেন বাজেট স্বল্পতা আবার কেউ বলছেন অনভিজ্ঞ নির্মাতাদের দিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ। তবে ঘটনা যাই হোক না কেন, এই বছর চলচ্চিত্রের সবাই আশা করেছিলেন নতুন করে ঘুরে দাঁড়াবে আমাদের চলচ্চিত্রাঙ্গন। কিন্তু ফলাফল একেবারেই শূন্য। কারণ দু’তিনটি চলচ্চিত্র বছরজুড়ে ভালো ব্যবসা করলে তাকে কোনোভাবেই চলচ্চিত্রের সফলতা বলা যায় না। চলতি বছরের প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ছিল ওয়াজেদ আলী সুমনের ‘কী দারুণ দেখতে’ চলচ্চিত্রটি। এতে জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করেছিলেন বাপ্পী চৌধুরী ও মাহিয়া মাহি। ব্যবসায়িকভাবে সফলতার মুখ দেখেনি চলচ্চিত্রটি। একই বছরে বাপ্পী অভিনীত আরও বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র মুক্তি পায়। যেমন মোহাম্মদ হোসেনের ‘আই ডোন্ট কেয়ার’, সাফি উদ্দিন সাফির ‘হানিমুন’ ও জাকির হোসেন রাজুর ‘অনেক সাধের ময়না’। এরমধ্যে ‘হানিমুন’-এ বাপ্পীর অনবদ্য অভিনয় দর্শককে মুগ্ধ করলেও বক্স অফিসে চলচ্চিত্রটি আলোচনায় আসতে পারেনি, পায়নি ব্যবসায়িক সফলতাও। এর মূল কারণ হিসেবে সাফি উদ্দিন সাফির গল্প নির্বাচন এবং নির্মাণের দুর্বলতাকেই দায়ী করেছেন অনেকে। তবে বছর শেষে বাপ্পী অভিনীত ‘অনেক সাধের ময়না’ চলচ্চিত্রটি ভালো ব্যবসা করলেও এর ব্যবসায়িক সফলতার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে আনিসুর রহমান মিলনের অনবদ্য অভিনয়। সেইসাথে যোগ হয়েছে মাহিয়া মাহীর অভিনয়ও। তবে বছরজুড়ে আলোচনার শীর্ষে যেমন ছিল, ঠিক তেমনি ব্যবসায়িকভাবে ব্যাপক সফলতা পায় মাহিয়া মাহী অভিনীত ইফতেখার চৌধুরী পরিচালিত ‘অগ্নি’ চলচ্চিত্রটি। এই চলচ্চিত্রে আরিফিন শুভ ও মাহীর অনবদ্য অভিনয়, ইফতেখার চৌধুরীর নির্মাণশৈলী বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে দর্শককে। যে কারণে জাজ মাল্টিমিডিয়ার এই বছরের সবচেয়ে ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র ছিল ‘অগ্নি’। অগ্নির কারণেই বছরজুড়ে আলোচনায় ছিলেন আরিফিন শুভও। তবে তার অভিনীত মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ‘তারকাঁটা’ কোনোভাবেই দর্শককে হলমুখী করতে পারেনি। যে কারণে চলচ্চিত্রটির প্রযোজনা সংস্থা ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তবে আশা ছিল আরিফিন শুভ ঘুরে দাঁড়াবেন আশিকুর রহমান পরিচালিত ‘কিস্তিমাত’ চলচ্চিত্র দিয়ে। কিন্তু আরিফিন শুভ নিজেকে এই চলচ্চিত্রে যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে পারেননি বিধায় এবং বিশেষত পরিচালকের অপেশাদারী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে চলচ্চিত্রটি ব্যবসায়িকভাবে সফল হয়নি। এই চলচ্চিত্রে শুভর বিপরীতে ছিলেন আঁচল। চলতি বছর তার অভিনীত আরও একটি চলচ্চিত্র মুক্তি পায়। নাম ‘ফাঁদ’। এতে আঁচলের বিপরীতে ছিলেন শাকিব খান। শাকিব খানের হাত ধরেও নিজের অবস্থানটা শক্ত করতে পারেননি তিনি। চিত্রনাট্যের দুর্বলতাও এই চলচ্চিত্রটিকে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন করে। এই চলচ্চিত্রের পরিচালক ছিলেন সাফি উদ্দিন সাফি। তবে চিত্রনায়ক শাকিব খান অভিনীত তার প্রযোজিত প্রথম চলচ্চিত্র বদিউল আলম খোকন পরিচালিত ‘হিরো দ্য সুপারস্টার’ ঠিকই যেমন আলোচনায় ছিল ঠিক তেমনি ব্যবসাসফলও হয়েছে। এর গল্প তামিল চলচ্চিত্রের নকল হলেও যেহেতু সেন্সর বোর্ড অনুমোদন দিয়েছিল, তাই নকল কাহিনী নিয়ে প্রযোজনা করেও শাকিব খান নিজের লগ্নিকৃত অর্থ ফিরে পেয়েও লাভের সম্মুখীন হয়েছেন। যে কারণে শাকিব নতুন আরেকটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা করার চিন্তা করছেন। শাকিব অভিনীত এ বছর আরও বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে। যেমন ওয়াজেদ আলী সুমনের ‘হিটম্যান’, নজরুল ইসলাম খানের ‘কঠিন প্রতিশোধ’, ওয়াকিল আহমেদের ‘সেরা নায়ক’ ও সাফি উদ্দিন সাফির ‘ভালোবাসা এক্সপ্রেস’। তবে শাকিব অভিনীত বছরের সবচেয়ে বেশি ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র ওয়াজেদ আলী সুমনের ‘হিটম্যান’। শাকিব কিংবা সাইমনের সঙ্গে জুটি বেেঁধ অভিনয়ে নিজেকে শিল্পীতভাবে উপস্থাপন না করতে পারার কারণে চিত্রনায়িকা ববি শূন্য কোঠা থেকে নিজের অবস্থান উপরে নিয়ে আসতে পারেননি। ‘হিরো দ্য সুপারস্টার’ কিংবা শফিক হাসানের ‘স্বপ্ন ছোঁয়া’ চলচ্চিত্রে তার অভিনয় দর্শককে হতাশ করেছে। তবে ইফতেখার চৌধুরীর ‘ওয়ান ওয়ে’ কিংবা ‘অ্যাকশন জাসমিন’ চলচ্চিত্রে ববি ঘুরে দাঁড়াবেন নতুন বছরে এমনটা প্রত্যাশা করছেন সবাই। চলতি বছরে ইমন নতুন নায়িকা জানভীর সঙ্গে এমএ রহিম পরিচালিত ‘জানে না এ মন’ কিংবা আঁচলের সঙ্গে মনিরুল ইসলাম সোহেল পরিচালিত ‘স্বপ্ন যে তুই’ চলচ্চিত্রেও জুটি বেঁধেছিলেন। নবাগত হিসেবে জানভী আলোচনায় এলেও ইমন দুই নায়িকার বিপরীতে নিজেকে যথাযথভাবে প্রমাণ করতে পারেননি। তাই ইমনকে নিয়ে কোনো পরিচালকই চ্যালেঞ্জ নিতে চাচ্ছেন না নতুন করে। একই কথা প্রযোজ্য মডেল কাম অভিনেতা নীরবের ক্ষেত্রে। বছর শেষে জাকির খান পরিচালিত ‘চার অক্ষরে ভালোবাসা’ চলচ্চিত্রে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নায়িকা পপির সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েও নীরব অভিনয়ে যেন নীরবই থেকে গেলেন। তবে নীরব যথেষ্ট চেষ্টা করছেন তার নতুন চলচ্চিত্র ‘গেম’ ও ‘টার্গেট’-এ। হয়তো ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে আগামী বছর। বছরান্তে এসে অবশেষে মুক্তি পায় আটকে থাকা চলচ্চিত্র ফেরদৌস প্রযোজিত ‘এক কাপ চা’। নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুলের নির্মাণে অদক্ষতার কারণে অনেক টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে ফেরদৌসকে। সুস্থ কোনো প্রযোজক নঈমকে দিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করবেন কি না তাতে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। পরিচালক শাহীন সুমন পরিচালিত ‘জিরো থেকে হিরো’ চলচ্চিত্রটি কবে কখন মুক্তি পেল চলচ্চিত্রের দর্শকরাই তা যেন জানতে পারেনি। যদি তাই হয়, তবে কি পরিচালক কিংবা সংশ্লিষ্ট চলচ্চিত্রের প্রযোজনা সংস্থা মনে করেন—দর্শককে জানান দেওয়ার জন্য প্রচারণার কোনো প্রয়োজন নেই! আগামীকাল ২৬ ডিসেম্বর মুক্তি পেতে যাচ্ছে সৈকত নাসির পরিচালিত নবাগত নায়ক শিপন মিত্র অভিনীত ‘দেশা দ্য লিডার’ চলচ্চিত্রটি। এই ছবিটি বছর শেষের সফল একটি চলচ্চিত্র হতে পারে এমনই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সবাই। তবে ঘটনা যাই হোক না কেন, চলতি বছর ব্যবসায়িকভাবে চলচ্চিত্রের দৈন্যের বছর। এই দৈন্য আগামী বছর কাটিয়ে উঠতে হবে—এমন পণ নিতে হবে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সবাইকে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৫ নভেম্বর, ২০২০ ইং
ফজর৫:১৭
যোহর১১:৫৯
আসর৩:৪৩
মাগরিব৫:২২
এশা৬:৪০
সূর্যোদয় - ৬:৩৮সূর্যাস্ত - ০৫:১৭
পড়ুন