বিদেশি মিউজিক
আলোচিত ৫
২৫ ডিসেম্বর, ২০১৪ ইং
আলোচিত ৫
সমাপ্তি ঘটল আরও একটি বছরের। নতুন বছরে এসে আমরা সবাই পেছন ফিরে তাকাই যে—কেমন গেল বছরটি। আর সবকিছুর মধ্যে গানপ্রিয় মানুষগুলোর জানতে ইচ্ছে করতেই পারে যে, কেমন গেল এবার তাদের গানের দুনিয়াটা। তার সেই গানের দুনিয়ার আলোচিত সেরা ৫ জনের কথা জানাচ্ছেন প্রাঞ্জল সেলিম

টেইলর সুইফট

গানের জগতের এক অনন্য শিল্পী। তার কণ্ঠে যেন জাদু। আর সেই জাদু দিয়ে হাজার হাজার শ্রোতার মন জয় করে নিয়েছেন তিনি। সবসময়ই ভক্তরা অপেক্ষায় থাকেন তার নতুন গানের। আর তিনি কখনই ভক্তদের নিরাশ করেন না। টেইলর সুইফটের জন্ম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে। তার বাবার নাম স্কট সুইফট, যে পেশায় একজন শেয়ার ব্যবসায়ী। সুইফটের মায়ের নাম অ্যান্ড্রি। সুইফটের একটি ছোট ভাই আছে, নাম অস্টিন। সুইফট যখন চতুর্থ শ্রেণীতে পড়তেন, তখন একবার জাতীয় পর্যায়ে কবিতা আবৃতিতে পুরস্কার অর্জন করেন। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া তার গান ‘ব্ল্যাং স্পেস’ ইউটিউব মাতাচ্ছে। আমেরিকার ফোর্বস ম্যাগাজিনের র্যাঙ্কিংয়ে সুইফটের অবস্থান ছিল ৬৯তম শক্তিমান তারকা, যার আয়ের পরিমাণ ১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০০৯ সালে বিলবোর্ড সুইফটকে বর্ষসেরা শিল্পীর খেতাব প্রদান করে। ‘ফিয়ারলেস’ ২০১০ সালের বর্ষসেরা অ্যালবাম হিসেবে গ্র্যামি পুরস্কার অর্জন করে। ২০০৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত অ্যালবামগুলো সবমিলিয়ে প্রায় প্রায় ৪০ লক্ষ কপি বিক্রি হয়, যা তাকে নিলসেন সাউন্ডস্ক্যানের জরিপ অনুসারে সে বছরের সবচেয়ে বেশি বিক্রিপ্রাপ্ত মার্কিন সঙ্গীতশিল্পীর মর্যাদা দেয়। সম্প্রতি আবারও তিনি উঠে এসেছেন জনপ্রিয়তার শীর্ষে।

 

বিয়ন্স

ক্যারিয়ারে সোনালি সময় কাটছে বিয়ন্স নোলসের। গত এক বছরে সাড়ে ১১ কোটি মার্কিন ডলার ঘরে নিয়ে গেছেন তিনি। তাই আয়ের দিক দিয়ে বিশ্বসংগীতাঙ্গনের অন্য গায়িকারা হেরে গেছেন তার কাছে। এক তালিকায় এ তথ্য প্রকাশ করেছে ব্যবসা-সংক্রান্ত সাময়িকী ফোর্বস। মার্কিন পপতারকা বিয়ন্স নোলস। ৩২ বছর বয়সী এ কৃষ্ণাঙ্গ সঙ্গীতশিল্পীর আরও কয়েকটি পরিচয় আছে। তিনি একাধারে কণ্ঠশিল্পী, অভিনেত্রী, নৃত্যশিল্পী, মডেল, গীতিকার ও ফ্যাশন ডিজাইনার। ২০১২ সালে জনপ্রিয় সাময়িকী পিপল সংগীত তারকা বিয়ন্স নোয়েলসকে বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দরী নারী হিসেবে মনোনীত করে। পত্রিকাটির বিশেষ সংখ্যায় বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দরী নারীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে এক নম্বরে জায়গা করে নিয়েছেন বিয়ন্স। তার উল্লেখযোগ্য অ্যালবামগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ক্রেজি ইন লাভ’, ‘বেবি বয়’, ‘মি. মাইসেল্ফ অ্যান্ড আই’, ‘নটি গার্ল’, ‘ডেঞ্জারাসলি ইন লাভ-২’ ইত্যাদি। বর্ণাঢ্য সঙ্গীত ক্যারিয়ারে বিয়ন্স সংগীতের সর্বোচ্চ সম্মান গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন ১৭ বার। একই পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন ৪৬ বার। এছাড়া অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি।

 

কেটি পেরি

ক্যারিয়ার শুরুর পর একটু ধাক্কা খেয়েছিলেন কিন্তু এরপর থেকে সাফল্য তার দরজায় দাঁড়িয়ে। ধীরে ধীরে সাফল্যের চূড়ায় উঠে এসেছেন তিনি। সম্প্রতি তার নতুন অ্যালবাম মুক্তি পেয়েছে। আর সেই অ্যালবামের হাত ধরে আবারও উঠে এসেছেন সফলতার চূড়ায়। সাত বছর ধরে বিলবোর্ড ম্যাগাজিন সঙ্গীতজগতের প্রতিভাবান এবং জনপ্রিয় নারী শিল্পীদের এ সম্মান দিচ্ছে। রক-পপ সংগীতাঙ্গনে নবাগত জনপ্রিয় তারকাদের অন্যতম কেটি পেরি। স্বতঃস্ফূর্ত সুরেলা কণ্ঠে, রক ও গসপেল সংগীতের ছোঁয়ায় এক নতুন স্বাদের পপ সংগীত উপহার দিয়েছেন তার অনুরাগীদের। টেইলর সুইফট এবং বিয়ন্স নোলসের পর এবার এ সম্মানের অধিকারী হচ্ছেন কেটি পেরি। গির্জায় গান করতে করতেই পেশাদার শিল্পী হিসেবে কেটি পেরি আত্মপ্রকাশ করেন। আসল নাম ক্যাথরিন এলিজাবেথ হাডসন। জন্ম ক্যালিফোর্নিয়ায়, ১৯৮৪ সালে। ৯ বছর বয়সেই ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারার একটি গির্জায় গসপেল (যিশুর জীবন কাহিনী ও শিক্ষাসংবলিত সঙ্গীত) সঙ্গীত শেখা শুরু করেন। এর আগে তার অ্যালবামের গান ‘রোর’ ইউটিউবে বেশ ভালো সাড়া ফেলে দিয়েছিল। আর এবার মুক্তির সাথে সাথে ‘ডার্ক হর্স’ মিউজিক ভিডিওটি বেশ নাম কামিয়েছে। সম্প্রতি এই অ্যালবামটি তাকে নিয়ে এসেছে খ্যাতির চূড়ায়।

 

জাস্টিন বিবার

হলিউডে গায়ক-গায়িকাদের মধ্যে চলে তীব্র প্রতিযোগিতা। আর এ প্রতিযোগিতার মধ্যে অনেকেই এমন আছেন, যারা এগিয়ে আছেন পারিশ্রমিকের জোরে। কিছুদিন আগেই ফোর্বস একটা জরিপ বের করে সবথেকে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া গায়ক-গায়িকাদের নিয়ে। জরিপের সেই তালিকায় ২য় স্থানে অবস্থান করছেন পপ গায়ক জাস্টিন বিবার। তিনি একজন কানাডীয় সঙ্গীতশিল্পী। ২০০৮ সালে ইউটিউব বিবারের ভাগ্য বদলে দেয়। গায়ক খুঁজতে থাকা স্কুটার ব্রাউনের চোখে পড়ে বিবারের গান গাওয়া একটা ভিডিও। সেই ভিটিওটি থেকে বিবার হয়ে যান আজকের সুপারস্টার। পরবর্তীতে স্কুটার ইউটিউবে বিবারের মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় করেন। আর সম্প্রতি বিবার আলোচনায় এসেছেন ফোর্বসের তালিকায় আসার কারণে। আর তালিকায় স্থান পেয়েছেন সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া গায়ক হিসেবে। ৫৩ মিলিয়ন ডলার আয় করেন এই গায়ক। তালিকায় আসার আরও কারণ হলো তার তরুণ বয়স। তিনি তরুণ শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম যিনি এই পারিশ্রমিক পান। এর আগে এ তালিকায় মনোনিত হয়েছিলেন টেইলর সুইফট।

 

জেইন মালিক

ইংল্যান্ডের ব্র্যাডফোর্ড শহরে জন্মেছেন জায়ান মালিক। তার রক্তে ইংলিশ-পাকিস্তানের ধারা বইছে। সম্ভ্রান্ত এক পরিবারে জন্ম নেওয়া এই ছেলেটি খুব ছোটবেলা থেকেই গান খুব ভালোবাসতেন। সে সময় টেলিভিশনে একটি প্রোগ্রাম হতো ‘দ্য এক্স ফ্যাক্টর’ নামে, মাত্র সতেরো বছর বয়সেই তিনি সেই প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন। মাতিয়েছিলেন ব্রিটেনের দর্শকদের। অন্যান্য সব প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে তিনি জিতে নিয়েছিলেন প্রথম পুরস্কারটি। আর সেই থেকে তার ভাগ্যের মোড় ঘুরে যায়। তিনি সুযোগ পেয়ে যান ওয়ান ডিরেকশন ব্যান্ডের সাথে কাজ করার। সেসময় মিউজিক্যাল হিস্টোরিতে এই ব্যান্ডটির নাম বেশ ভালোমতো ছড়িয়েছিল। এভাবেই শুরু হয় তার ওয়ান ডিরেকশনের পথে যাত্রা। তার ছেলেবেলার কথা বলতে গেলে ফিরে যেতে হবে ১৯৯৩ সালের জানুয়ারিতে। জন্ম ও বেড়ে ওঠা তার ব্যান্ডফোর্ডেই। তার বাবা ইয়াসের মালিক এবং মা প্যাট্রিসিয়া। তবে তাকে ট্রিসিয়া বলেই চেনেন অনেকে। তিনি ব্রিটিশ ছিলেন। জায়ানের একটা বড় বোন আছে, নাম ডোনিয়া এবং দুটো ছোট বোন আছে, নাম ওয়ালিয়া ও সাফা। জায়ান মুসলিম ধর্ম পালন করেন। ইংল্যান্ডের ইস্ট বোলিং শহরের একটি নামকরা স্কুুলে তার শিক্ষাজীবনের শুরু। পড়াশোনা চলাকালেই সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন ‘দ্য এক্স ফ্যাক্টর’ নামের টিভি শো’তে কাজ করার।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৫ নভেম্বর, ২০২০ ইং
ফজর৫:১৭
যোহর১১:৫৯
আসর৩:৪৩
মাগরিব৫:২২
এশা৬:৪০
সূর্যোদয় - ৬:৩৮সূর্যাস্ত - ০৫:১৭
পড়ুন