রবীন্দ্র নাটকের দু’জনা
৩০ এপ্রিল, ২০১৫ ইং
রবীন্দ্র নাটকের দু’জনা
তিশা ও নিশো দু’জনই হালের ব্যস্ততম অভিনেতা-অভিনেত্রী। জুটি হিসেবেও বিভিন্ন নাটকে অভিনয় করে তারা সফল হয়েছেন। তাদের অভিনয় গুণ দেখে সবাই মুগ্ধ হন। সম্প্রতি তারা অভিনয় করলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের অনুপ্রেরণায় ‘ছায়াবৃত্তে শেষের কবিতা’ শিরোনামের একটি বিশেষ নাটকে। আবু হায়াত মাহমুদের পরিচালনায় আসছে পঁচিশে বৈশাখে নাটকটি এনটিভিতে প্রচার হবে। নাটকের আদ্যোপান্ত নিয়ে আমাদের এবারের মূল ফিচার। লিখেছেন খালেদ আহমেদ

জয়ীতা, মফস্বল শহরে পিতার আদরে বেড়ে উঠা একটি মেয়ে। তার মা নেই। জয়ীতা বই পড়ার স্বভাবটা তার বাবার কাছ থেকে রপ্ত করেছে। সে রাজধানীর একটি বেসরকারি কলেজের বাংলার শিক্ষক। সাবলেট বাসায় নিজের একটা জগত্ তৈরি করে  নিয়েছে। না, এটা একটু পেছনের ঘটনা।

বর্তমানে জয়ীতা বিবাহিত। মাহিন তার স্বামীর নাম। মানুষটি একটু মুখচোরা, তবে আত্মভোলাও বলা যায়। পেশায় ডাক্তার। রোগী দেখা, রিসার্চ করা আর পড়াশোনা—এর বাইরে কিছুই বোঝে না সে। জয়ীতার প্রাত্যহিক সব চাহিদা সুচারুভাবে মিটিয়ে দেয় সে, শুধু তাকে সঙ্গ দিতে পারে না। শুরুতে বিষয়টা স্বাভাবিকভাবে নিলেও ইদানীং সেটা জয়ীতার সহ্যের মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আসলে তাকে যে সঙ্গ দিতে হবে সেটা মাহিন বোঝে কি না তাতে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। জয়ীতা হাঁপিয়ে উঠেছে। প্রায়ই এখন চিত্কার-চেঁচামেচি করে, তাতেও মাহিনের পরিবর্তন নেই। একের পর এক বই পড়ে জয়ীতা সব ভুলে থাকতে চায়। অনেক ধরনের বই-ই পড়ে, কিন্তু একটা বই থেকে সে সবসময় দূরে থাকে—‘শেষের কবিতা’। কারণটা অবশ্য কাকতালীয়। তার জীবনের অনেক উত্থান-পতনের সাথে এই উপন্যাসের অনেক মিল। তাই রবি ঠাকুরের প্রতিও তার এক ধরনের ক্ষোভ রয়েছে। আজ সে অনেকটা জোর করেই ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসটি হাতে নিয়েছে। পড়তে পড়তে তার জীবনের সাথে মিলিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

মঈন। যুক্তরাজ্য থেকে ইলেকট্রিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করে দেশে ফিরেছে। অবশ্য কতটুকু পড়াশোনা করেছে তাতে সন্দেহ আছে বেশ। না না, পড়াশোনা করেছে, তবে সেটা দেশ-বিদেশের সাহিত্য, ইতিহাস এসব নিয়ে। বাবার অঢেল সয়-সম্পতি থাকার কারণে অভাবের সাথে আলাপ-পরিচয় তেমন একটা হয়নি, যতটুকু হয়েছে, তাও আবার বই পড়ে। তার নিজের একটা স্টাইল আছে, বেশ-ভূষা আর ব্যবহারে। অন্যকে বাদ দিয়ে চোখে পড়বার মতো। এত সূচনা টানার একটাই কারণ, সে জয়ীতার প্রাক্তন ভালোবাসার মানুষ। জয়ীতা ‘শেষের কবিতা’ পড়তে পড়তে নিজেকে লাবণ্য, মঈন কে অমিত, মাহিনকে শোভনলাল আর মঈনের বাবার বড়লোক বন্ধুর একমাত্র আদরের কন্যা জারিনকে কেটি মিত্র ভাবতে থাকে। গল্পের এই পর্বে আমরা তাদের উপন্যাশের নামেই দেখতে পাব। লাবণ্য (জয়ীতা) আজিজ সুপারে বই কিনতে গিয়ে অমিতের (মঈন) সাথে দেখা, কোনো একটি বই কিনতে গেলে, অমিত গায়ে পড়ে তার সাথে তর্ক জুড়ে দেয়। দুজন ঝগড়া করে দুদিকে সরে যায়। মার্কেট থেকে বের হতেই হঠাত্ রাস্তায় গণ্ডগোল বেঁধে যায়। দোকানপাট ভয়ে বন্ধ হতে থাকে, মানুষ ভয়ে ছুটতে থাকে। লাবণ্য ভয়ে সিটিয়ে যায়, অমিত সেটা দেখে সাহায্যেও হাত বাড়িয়ে দেয়। তাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করে ও যথারীতি পৌঁছে দেয়। উপকারের প্রতিদান হিসেবে চায়ের নিমন্ত্রণ পায়। লাবণ্যের টেবিলে বইয়ের ভাণ্ডার দেখে অমিত হতচকিত হয়ে যায়। কথা বলতে গিয়ে লাবণ্যের বিদ্যার গভীরতা তাকে মুগ্ধ করে। ধীরে ধীরে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়। লাবণ্য শোভন লালের (মাহিন) কথা তার সাথে শেয়ার করে। সম্পর্কটা ধীরে ধীরে আরও শক্ত হতে থাকে। ইতিহাস, সাহিত্যসহ নানা বিষয়ে দুজনের মধ্যে আদান-প্রদান, তর্ক-বিতর্ক, খুনসুটি তাদের আরও কাছে আনে। বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয় দুজন। অমিতের বাবার এক বন্ধুর মেয়ে (জারিন) কেটি। তার বাবা মনে প্রাণে চাইত তার ছেলের সাথে কেটির বিয়ে হোক। কেটিও যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করত, তারই সুবাদে পরিচয়, দেখা-কথা। আদান-প্রদান। কোনো এক সুন্দর মুহূর্তে অমিত তাকে আংটি পরিয়ে বিয়ের সম্মতিও জানায়। অমিত দেশে ফেরার পর আর যোগাযোগ হয়নি।

কেটি দেশে ফিরে অমিতের সাথে দেখা করে ও লাবণ্যের সামনে তার অঙ্গীকারের কথা বললে অমিত নিরুত্তর থাকে। লাবণ্যকে অমিত বোঝাতে চায়। সম্পর্কে একটু একটু করে দূরত্ব তৈরি হতে থাকে। জয়ীতা চোখের জল ফেলে আর উপন্যাসের শেষ প্রান্তে চলে আসে। উদাস হয়ে আবার কল্পনায় ডুব দেয়। অমিত-কেটি আর লাবণ্য-শোভনলালের সংসার কল্পনা করতে থাকে। কেটির বিদেশ প্রীতি, বন্ধু-আড্ডা আর পার্টি নিয়ে ব্যস্ততা আর অমিতের মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা বড়ই বেমানান ঠেকে। অন্যদিকে শোভনের আত্মকেন্দ্রিক আর নিজের পেশায় ব্যস্ততা লাবণ্যকে বলতে গেলে অনেকটা দূরে ঠেলে দেয়। নানা টানাপোড়েন চলতে থাকে দুই সংসারে। এ যেন দুই আর তিনে চার মেলাবার নিষ্ফল চেষ্টা। লাবণ্য ভেবে পায় না কী করবে। একবার ভাবে আর নয়, আবার ভাবে একটু দেখি। অন্যদিকে অমিত হাঁপিয়ে উঠে। আর নয়, ভাবনাটা পাকা করে ফেলে। ট্রলি ব্যাগটা গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ে। জয়ীতার ভাবনায় ইতি পড়ে। নিজেকে নিজে বলতে থাকে এ হওয়ার নয়। জানালার পর্দাটা উড়ছে, নিচে রাস্তায় একজনের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। হঠাত্ পরিচিত কারো অবয়ব মনে হলো। একটু ভালো করে দেখবার জন্য পর্দা সরিয়ে আঁতকে উঠে জয়ীতা, এ যে মঈন। কী করবে জয়ীতা?—এমনি গল্প নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের অনুপ্রেরণায় নির্মিত হলো পঁচিশের বৈশাখের বিশেষ নাটক ‘ছায়াবৃত্তে শেষের কবিতা’। আবু হায়াত মাহমুদের পরিচালনায় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইনভেনশন-এর ব্যানারে নির্মিত নাটকে মঈন ও অমিত চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিশো এবং জয়িতা ও লাবণ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিশা। নাটকের শুটিং হয়েছে উত্তরা ও ঢাকার বিভিন্ন লোকেশনে। এই নাটকে অভিনয় প্রসঙ্গে তিশা বলেন, ‘সাহিত্যনির্ভর গল্পের নাটকে অভিনয় করতে আমার ভালো লাগে।

আর রবি ঠাকুরের গল্পের নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করতে পেরে আনন্দিত।’ অপর দিকে নিশো বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথের গল্প অবলম্বনে নির্মিত এই নাটকে অভিনয় করে আমার খুব ভালো লেগেছে। আশা করি, নাটকটি দর্শকদেরও ভালো লাগবে।’ পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ নাটক প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটি কোনো রিমেক বা ভার্সন নয়। এত বছর আগেও বাঙালির অহংকার সর্বশ্রেষ্ঠ লেখক রবীন্দ্রনাথ কতটা আধুনিক, কতটা সমসাময়িক, কতটা প্রাসঙ্গিক সেটাকে তুলে ধরার সামান্য প্রয়াস মাত্র। অমিত-লাবণ্যের টানাপোড়েন, আর দ্বন্দ্ব আমাদের সমাজে হরহামেশাই পাওয়া যায় সেটাই তুলে ধরা হয়েছে।’ ‘ছায়াবৃত্তে শেষের কবিতা’ নাটকটি আসছে পঁচিশে বৈশাখ এনটিভিতে  প্রচার হবে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০২০ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন