‘অজ্ঞাতনামা’ এবং তৌকীর আহমেদ
৩০ এপ্রিল, ২০১৫ ইং
‘অজ্ঞাতনামা’ এবং তৌকীর আহমেদ
চতুর্থ চলচ্চিত্র ‘অজ্ঞতানামা’ নির্মাণের প্রস্তুতি নিয়েই এখন ব্যস্ত তৌকীর আহমেদ।

রাজবাড়ির ‘পাংশা’ এই চলচ্চিত্র নির্মাণের লোকেশন। লোকেশন ঘুরে আজ ঢাকায়

ফিরেছেন তৌকীর আহমেদ। বিস্তারিত জানাচ্ছেন অভি মঈনুদ্দীন

তৌকীর আহমেদ এমনই, যখন যে কাজটা করবেন সেটা নিয়েই মেতে থাকবেন। নতুন যে কাজটাতে হাত দেবেন তাতে সফলতার মুখ না দেখা পর্যন্ত তিনি থামেন না। গুণী আর মেধাবী ব্যক্তিরা বুঝি এমনই হন। তৌকীর আহমেদ এবার হাত দিয়েছেন তার চতুর্থ চলচ্চিত্র ‘অজ্ঞাতনামা’র নির্মাণ কাজে। মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে আসছে জুন মাসের ১০ তারিখ পর্যন্ত ‘অজ্ঞাতনামা’ নিয়েই ব্যস্ত থাকবেন তিনি। গত তিন দিন তিনি রাজবাড়ির পাংশাতে লোকেশনে ব্যস্ত ছিলেন। সেখানে সবকিছু ঠিকঠাক করা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। কারণ আর ক’দিন পরই শুরু হচ্ছে ‘অজ্ঞাতনামা’র কাজ। তৌকীর আহমেদের এবারের চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম। শিল্পী নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনি যেমন চরিত্রানুযায়ীই যাকে যাকে নেওয়া প্রয়োজন নিচ্ছেন ঠিক তেমনি তাদেরকে পরামর্শও দিচ্ছেন যেন সবাই মন দিয়ে কাজটি করেন। কারণ দীর্ঘ আট বছর পর তৌকীর আহমেদ নতুন চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন। তাই একধরনের চ্যালেঞ্জ নিয়েই চলচ্চিত্র নির্মাণে ফিরছেন। ‘অজ্ঞাতনামা’। এর কাহিনী, সংলাপ, চিত্রনাট্যও করেছেন তৌকীর নিজেই। বিগত তিন বছর যাবত তৌকীর আহমেদ তিনটি মঞ্চ নাটকের পাণ্ডুলিপি নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তিনটি পাণ্ডুলিপি হচ্ছে ‘প্রতিসরণ’, ‘ইচ্ছা মৃত্যু’ ও ‘অজ্ঞাতনামা’। ‘অজ্ঞাতনামা’রই চিত্রনাট্য তৈরি করে তৌকীর আহমেদ দর্শকের জন্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে যাচ্ছেন। তবে আপাতত গল্প নিয়ে কোনো কিছু বলছেন না তিনি। দীর্ঘ আট বছর পর চলচ্চিত্র নির্মাণ করা প্রসঙ্গে তৌকীর আহমেদ বলেন, ‘এই দীর্ঘ আট বছর কিন্তু আমি খুব ব্যস্ত সময় কাটিয়েছি। আমার রিসোর্ট ‘নক্ষত্রবাড়ি’, ছোটপর্দার কাজ করাসহ মঞ্চ নাটকের পাণ্ডুলিপি নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। অনেকদিন ধরেই ‘অজ্ঞাতনামা’র চিত্রনাট্য তৈরি করে অবশেষে চলচ্চিত্রটি নির্মাণের পুরো প্রস্তুতি নিয়েছি। আশা করি দর্শকের মনের মতো একটি চলচ্চিত্র উপহার দিতে পারব। শিল্পীদের সহযোগিতায় একটি ভালো চলচ্চিত্রই হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’ তৌকীর আহমেদ প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন ২০০৪ সালে। মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র ‘জয়যাত্রা’। ২০০৪ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে এই চলচ্চিত্র পাঁচটি পুরস্কার লাভ করে। চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে এক অন্যরকম উচ্চতায় পৌঁছান তৌকীর। এরপর ২০০৬ সালে তিনি নির্মাণ করেন ‘রূপকথার গল্প’। ২০০৭ সালে তিনি সর্বশেষ হুমায়ূন আহমেদের গল্প নিয়ে নির্মাণ করেন ‘দারুচিনি দ্বীপ’ চলচ্চিত্রটি। এই চলচ্চিত্রটিও সাতটি শাখায় পুরস্কার লাভ করে। ‘অজ্ঞাতনামা’ নিয়েও কী জাতীয় চলচ্চিত্র পাওয়ার তেমন স্বপ্ন আছে আপনার? জবাবে তৌকীর বলেন, ‘নির্মাতা হিসেবে আমার দায়িত্ব একটি গল্পকে দর্শকের সামনে, জাতির সামনে ভালোভাবে উপস্থাপন করা। বলা যেতে পারে নির্মাতা হিসেবে আমি ভীষণ খুঁতখুঁতে। যদি ভালো কাজ দর্শককে উপহার দিতে পারি তাতে যদি রাষ্ট্র আমাকে সম্মান করে সেটা নিশ্চয় আনন্দের। তবে আমি যা ভাবি, তাই পূর্ণাঙ্গরূপে চলচ্চিত্রে তুলে ধরার চেষ্টা করি। ‘অজ্ঞাতনামা’তেও সেই চেষ্টাই থাকবে।’ তৌকীর আহমেদ ২০০৮ সাল থেকে ২০১১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত তার রিসোর্ট ‘নক্ষত্রবাড়ি’র ডিজাইন এবং নির্মাণ কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন। এদিকে তৌকীর আহমেদ পরিচালিত শফিকুর রহমান শান্তুনু রচিত ধারাবাহিক নাটক ‘জলপ্রপাত’ এটিএন বাংলায় নিয়মিতভাবে প্রচার হচ্ছে। এছাড়া তার অভিনীত সাগর জাহান পরিচালিত ধারাবাহিক ‘রাস্কেল’ বাংলাভিশনে, সজীব পরিচালিত ‘জীবন থেকে নেয়া এই শহরের গল্প’ বাংলাভিশনে এবং আরিফ খান পরিচালিত ‘দলছুট প্রজাপতি’ এনটিভিতে নিয়মিতভাবে প্রচার হচ্ছে।

ছবি মোহসীন আহমেদ কাওছার

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০২০ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন