বারবার ফিরে যাই মুক্তিযুদ্ধে
৩০ এপ্রিল, ২০১৫ ইং
বারবার ফিরে যাই মুক্তিযুদ্ধে
 

নৃত্যশিল্পী মীনু হক। তার জন্ম ১৯৫৩ সালের ১ জুন, ঢাকাতে। পিতা মেহতাত বিল্লাহ। মা আমিনা বিল্লাহ। মীনু হকের বাবা পরহেজগার মানুষ ছিলেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন। শিল্পের প্রতি ভালোবাসা তার বাবার হাত ধরেই। নৃত্যশিল্পী মীনু হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাইকোলজি বিষয়ে অনার্স-মাস্টার্স করেন। নৃত্যের সাথেই বসবাস তার। মীনু হকের সাথে আলাপচারিতায় বসেছিলেন, তারই উল্লেখযোগ্য অংশ তুলে ধরেছেন পীযূষ সিকদার

আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস সম্পর্কে কিছু বলুন।

প্যারিসের বিখ্যাত ব্যালে ড্যান্সার জিনস জর্জেস নভেরা। ১৯৮২ সালে ইউনেস্কো প্রথম তার জন্মদিন ২৯ এপ্রিলকে ঘিরে আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস পালন করে।

 

বাংলাদেশে কবে থেকে এই দিবসটি উদযাপন করে আসছে।

১৯৯১ সাল থেকে নৃত্যশিল্পী সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে আড়ম্বরপূর্ণভাবে পালন করে আসছে।

 

আমরা কেন ভিনদেশি নৃত্যশিল্পীর জন্মদিনকে ঘিরে নৃত্য দিবস পালন করব?

এখন গ্লোবালাইজেশনের যুগ। সমস্ত পৃথিবীটাই যদি আমার হয়। তাহলে কেন ২৯ এপ্রিল আমরা আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস হিসেবে পালন করব না। ১৯৫২ সালে বাংলা ভাষার জন্য লড়াই হয়েছিল। সেই ভাষা আন্দোলনের সূত্র ধরে আমরা একটি দেশ পেয়েছি, ভাষা পেয়েছি। এখন তো ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃত এবং সবাই পালন করে। মূল কথা হচ্ছে রেসপেক্ট। রেসপেক্ট করো, দেখবে তোমাকেও অন্য সবাই রেসপেক্ট করবে।

 

শিল্পমাধ্যম হিসেবে নৃত্যকে কিভাবে দেখেন?

নাচের ক্ষমতা আছে। নাচ রুখতে পারে সন্ত্রাস। নৃত্যকে বিনোদন শিল্প হিসেবে দেখা হয়। আমি মনে করি নাচ বিনোদন নয়, এডুকেশন। প্রাইমারি লেবেলে নাচ থাকতে হবে। আমরা সে চেষ্টাই করে যাচ্ছি।

 

আপনি তো একজন মুক্তিযোদ্ধা। সেই সময়ের কথা যদি কিছু বলেন।

আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা এ কথা ভাবতেই ভালো লাগে! বেদনা হয় আমার যে কত স্বজনকে হারিয়েছি। আগরতলার মধ্যে বিশ্রামাগার নামক স্থানে বাংলাদেশের প্রথম ফিল্ড হাসপাতালে আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা করেছি। যুদ্ধের ভয়াবহতা যে কী তা তোমাকে বলে বোঝাতে পারব না। সেই ভয়াবহ সময়ের কথা মনে পড়লে চোখে জল আসে। এই যে বেঁচে আছি, এ শুধু ভাগ্যেরই খেলা। একটু অবসর পেলেই বারবার ফিরে যাই মুক্তিযুদ্ধে।

 

এখনো তো রাজাকারদের আস্ফাালন দেখি।

নিষ্ফল আস্ফাালন করে লাভ নেই। সত্যের মুখোমুখি দাঁড়াতে পারবে না। ওই দেখো, ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা নাচ করছে। নাচের তালে তালে একদিন তাদের নিষ্ফল আস্ফাালন থেমে যাবে।

 

নৃত্য নিয়ে ভবিষ্যত্ ভাবনাটা কী?

সারা এডুকেশনে নৃত্যকলা অন্তর্ভুক্ত করতে চাই। ছোটদের বলতে চাই, যুদ্ধ জয় করে বড় হতে হয়। প্রকৃতি একটি নিয়মে চলে। নিয়ম মেনে চলতে হবে। শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। পড়ো, হাতের কাছে যা পাও পড়ো। নৃত্য শিখতে গেলে ইতিহাসটাও জানা দরকার তেমনি ফিজিক্সটাও পড়া দরকার।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০২০ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন