থিয়েটারটা ঘটায় অভিনেতাই
২৭ আগষ্ট, ২০১৫ ইং
থিয়েটারটা ঘটায় অভিনেতাই
ড. ইউসুফ হাসান অর্ক। একজন গুণী অভিনেতা ও নাট্য নির্দেশক।  জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘অভিনয়’ বিষয়ে এমএ ডিগ্রি নিয়েছেন। জাপানে স্কলারশিপ পেয়ে কাবুকি থিয়েটারের অভিনয়রীতির উপর গবেষণা করেছেন। এরপর জাপানের ওকিনাওয়া প্রিসেকচারাল ইউনিভার্সিটি অব আর্টস থেকে বাংলাদেশের পালাগান নিয়ে পিএইচডি লাভ করেন। তাকে নিয়ে লিখেছেন পীযূষ সিকদার

সম্প্রতি আপনি মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ে একটি নাট্য নির্দেশনা দিয়েছেন। এ বিষয়ে কিছু বলুন।

হ্যাঁ, কাজী নজরুল ইসলামের ‘সাপুড়ে’ গল্পটি নিয়ে আনন জামানকৃত নাট্যরূপে ‘নীলাখ্যান’ নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছি। এখানে বাংলা বর্ণনাত্বক চরিত্রাভিনয় রীতিতে এ নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছি। আর বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নাট্যে একজন গায়েন দোহার সহযোগে সঙ্গীত, নৃত্য, অভিনয়, বর্ণনা দিয়ে কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যান। তবে পার্থক্য হলো ‘নীলাখ্যান’ নাট্যে সকল অভিনেতা-অভিনেত্রী মিলিয়ে নাট্যাখ্যান এগিয়ে চলে। মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের সাথে আমার এই কাজটি একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। কিন্তু অভিনেতা-অভিনেত্রীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় কাজটি করতে পেরে ভালো লাগছে।

আপনি কি নির্দেশকের চেয়ে অভিনেতাকে বেশি গুরুত্ব দেন?

অবশ্যই। শেষ পর্যন্ত অভিনেতারাই থিয়েটারটা করে। আমি মনে করি, থিয়েটার মাধ্যমটি নির্দেশকের নয়, অভিনেতার।

একজন নির্দেশক হিসেবে আপনার ভাবনা...

আমি থিয়েটার নির্মাণের প্রক্রিয়াকে প্রার্থনা মনে করি। একটি ধারণাকে অন্তরে ধারণ করে কল্পনার রঙে রঞ্জিত করে দর্শকশ্রোতার সাথে সেই ধারণাটির একটি সেতুবন্ধন স্থাপন করবার জন্য যে নিবিষ্টতা দরকার, তা প্রার্থনা ছাড়া সম্ভব নয়। থিয়েটারের একটি আলাদা ভাষা আছে। রিহার্সেল পর্যায়ে আমি সবসময়ই একজন ভালো দর্শক হওয়ার চেষ্টা করি। আসলে থিয়েটারটা ঘটায় অভিনেতাই। থিয়েটারটা যখন ঘটে তখন নির্দেশক হিসেবে অসহায় লাগে। কারণ তখন একজন নির্দেশকের আর কিছু করার থাকে না।

আপনি তো নাট্যকেন্দ্রে কাজ করেন। কোন কোন নাটকে অভিনয় করেছেন? কোনো নির্দেশনা দিয়েছেন কি?

আমি ‘তুঘলক’, ‘বিচ্ছু’, ‘আরজ চরিতামৃত’, ‘ডালিমকুমার’, ‘দুই যে ছিল এক চাকর’ এই নাটকগুলোতে অভিনয় করেছি। নাট্যকেন্দ্রের ‘ডালিমকুমার’ নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছি আমি। তারপর নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগসহ বিভিন্ন নাট্যদলের নাটকে কাজ করেছি। যেমন ‘একলব্য আখ্যান’ (মোশাররফ করিমের রচনা), ‘সীতায়ন’, ‘মনসার পালা’, ‘চাঁদ বণিকের পালা’, ‘গুপি গাইন বাঘা বাইন’, ‘প্রাচ্য’, ‘শকুন্তলা’, ‘কবি’, ‘নীলাখ্যান’ প্রভৃতি।

নাটকে জড়িয়ে পড়ার পূর্ব ইতিহাসটা যদি বলেন?

স্কুলজীবন থেকেই আমি অভিনয়ের প্রতি টান অনুভব করতাম। বরিশাল ক্যাডেট কলেজে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় মমতাজ উদ্দিন আহমেদের ‘স্পার্টাকাস বিষয়ক জটিলতা’ নাটকে অভিনয় করেছিলাম। তবে সঙ্গীতচর্চাটাই তখন মূল সাধনার জায়গায় ছিল। মা রোকেয়া নাজনীন, শিক্ষকতা করতেন। বাবা মাজহারুল ইসলাম ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। তাদের কাছ থেকে প্রেরণা পেয়েই গান ও নাটকের দিকে ঝুঁকেছি। এছাড়া গণসঙ্গীত করতাম। শুরুটা ছিল কচি-কাঁচার মেলা দিয়ে। একসময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটক বিষয়ে পড়তে যাই। এই বিশ্ববিদ্যালয়েই নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে অধ্যাপনা করছি। নাট্যকেন্দ্রের সাথে যুক্ত হই ’৯০ কি ’৯১ সালে। এখন নাটক আমার ধ্যান-জ্ঞ্যান, প্রফেশনের জায়গা—একমাত্র ভরসাস্থল ও আমার বলবার জায়গা।

‘দেখো দেখো দেখোরে রোমানার বাহার’—এই বিজ্ঞাপন চিত্রে অভিনয় করে সেই ছাত্রাবস্থাতেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলেন। আপনার অনুভূতি?

অবশ্যই ভালো লেগেছিল। যে পথে হাঁটছি সে পথে একটু কিছু পেলেই বহুর মধ্যে নিজেকে খুঁজে পাই। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে জীবন। কিছু প্রাপ্তি ঘটলে যে কারোরই ভালো লাগার কথা।

থিয়েটার নিয়ে আপনার ভাবনা...

থিয়েটারে একটি গল্প শোনার জন্য দর্শক আসে। সেই গল্পটি কত সহজভাবে বলা যায়, নির্দেশক হিসেবে সে চেষ্টাই করি নিয়ত। Ultimately theatre is Actor’s Media.

আপনি তো সেলিম আল দীনের সাহচর্য পেয়েছেন। তার কাছ থেকে কী পেয়েছেন?

স্যারের কাছ থেকে মুক্তভাবে ভাববার সাহসটা পেয়েছি।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:২০
যোহর১২:০১
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:২৫
এশা৭:৪০
সূর্যোদয় - ৫:৩৮সূর্যাস্ত - ০৬:২০
পড়ুন