চিত্রাঙ্গদা :অন্তঃ সৌন্দর্য্যের কাব্য
পীযূষ সিকদার০৩ মার্চ, ২০১৬ ইং
চিত্রাঙ্গদা :অন্তঃ সৌন্দর্য্যের কাব্য
‘চিত্রাঙ্গদা’ কাব্যনাট্যটি মহাভারতের চিত্রাঙ্গদা উপাখ্যান অবলম্বনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচনা করেছেন। নাটকটি মঞ্চে এনেছে স্বপ্নদল। এর নির্দেশনা দিয়েছেন জাহিদ রিপন। নাটকটিতে দেখা যায়, মহাবীর অর্জুন সত্য পালনের জন্য ব্রহ্মচার্যব্রত গ্রহণ করতে বনে এসেছেন। চিত্রাঙ্গদা মণিপুরের রাজকন্যা। রাজা তাকে পুত্রসন্তানের স্নেহে বড় করে তুলেছেন। শিখিয়েছে ধনুর্বিদ্যা। শিখিয়েছেন যুদ্ধবিদ্যা। শিখিয়েছেন কীভাবে প্রজা পালন করতে হয়। একদিন রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা বনে ঘুরতে বেরিয়েছেন। হঠাত্ বনের মধ্যে মহাবীর অর্জুনকে দেখেন। তার রূপযৌবনে মুগ্ধ হয়ে তাকে চিত্রাঙ্গদা প্রেম নিবেদন করেন। কিন্তু অর্জুন চিত্রাঙ্গদাকে প্রত্যাখ্যান করেন। কারণ চিত্রাঙ্গদা বাহ্যিকভাবে রূপহীন। চিত্রাঙ্গদা অর্জুনের এই প্রত্যাখ্যান মেনে নিতে পারেননি। চিত্রাঙ্গদা অন্তর্জ্বালায় জ্বলতে থাকেন। অপমানিত বোধ করে কামদেব মদন ও যৌবনের দেবতা বসন্তদেবের সহায়তা প্রার্থনা করেন। তারা চিত্রাঙ্গদার প্রার্থনা মঞ্জুর করেন এবং তাকে ১ বছরের জন্য অপূর্ব সুন্দরী করে দেন। অর্জুন সুন্দরীর প্রেমে মজে। চিত্রাঙ্গদাও অর্জুনকে প্রেমিক হিসেবে পেয়ে আনন্দে বিহ্বল হন। কিন্তু কিছুদিন যাওয়ার পর চিত্রাঙ্গদার মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব বাসা বাঁধে। অর্জুন কী প্রকৃত অর্থে তাকে ভালোবাসে না তার রূপযৌবনকে, এমন এক প্রশ্ন দ্বারা চিত্রাঙ্গদা জর্জরিত হতে থাকেন। স্বপ্নদল অভিনেতা-অভিনেত্রীদের দেহভাষা, বাচিক অভিনয় ও সঙ্গীতের সহযোগে ‘চিত্রাঙ্গদা’ প্রযোজনাটি মঞ্চে এনেছে। অনেকটা আমাদের দেশীয় যাত্রার ঢঙে। মঞ্চের চারপাশে দর্শকদের বসবার আসন। একপাশে যন্ত্রী ও গায়ক দল। পুরো ব্যাপারটি দর্শক ও অভিনেতার যৌথ মিলনে বা অভিনয় ও সুরের মুর্ছনায় আমাদের ঐতিহ্যের দিকে আঙুলি নির্দেশ করে। আমরা ফিরে যাই নিজেদের মানসপটে দৃশ্যপট এঁকে এঁকে চিত্রাঙ্গদা ও অর্জুনের প্রেম কাতরতা বা উপলদ্ধির শেষ কিনারে! প্রেমের ক্ষেত্রে সৌন্দর্যই কী মূল না ভিতরের সৌন্দর্যই বড় করে তোলে মানব-মানবীকে। এমন এক অনুসন্ধানই খুঁজে পাই ‘চিত্রাঙ্গদা’ নাটকে। সব মিলিয়ে প্রযোজনাটি ভালো, তবে অভিনয় ও সঙ্গীতের দিকে একটু নজর দিলে রবীন্দ্রনাটকের অসীমতা ধরতে পারতেন। চিত্রাঙ্গদা চরিত্রে (বর পাওয়ার আগে) সোনালী রহমান ভালো করেছেন। যদিও এর আগে আমার এ প্রযোজনাটি দেখা ছিল। তাই এবারের সোনালী রহমানের ধার কিছুটা কমেছে। নাকি নির্দেশক এমনটিই চেয়েছেন। বর পাওয়ার পরের চিত্রাঙ্গদার অভিনয়ে ফারজানা রহমান মিতার অভিনয় দুর্দান্ত। স্বপ্নদলের এগিয়ে যাক বহুদূরে। আর বাংলার নিজস্ব নাট্যরীতি ফুলে ফলে পুষ্পে পল্লবে ভরে উঠুক এ কামনা করি।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩ মার্চ, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৪
যোহর১২:১১
আসর৪:২৪
মাগরিব৬:০৫
এশা৭:১৮
সূর্যোদয় - ৬:১৯সূর্যাস্ত - ০৬:০০
পড়ুন