সাফল্যের ধারায় ফিরে আসার প্রতীক্ষায়
০১ ডিসেম্বর, ২০১৬ ইং
সাফল্যের ধারায় ফিরে আসার প্রতীক্ষায়
 

<রেজাউল করিম খোকন

 

২০০৯ থেকে ২০১২। দারুণ একটা সময় গেছে বিদ্যা বালানের অভিনয়জীবনে। ওই চার বছরে একের পর এক নতুন চমক নিয়ে সিনেমার পর্দায় উপস্থিত হয়েছেন বলিউডের এই মেধাবী অভিনেত্রী। ‘পা’, ‘ইশকিয়া’, ‘দ্য ডার্টি পিকচার’, ‘কাহানি’—একের পর এক মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলোতে ব্যতিক্রমধর্মী রোলে অভিনয়ের অসাধারণ চমক দেখিয়ে দর্শক-সমালোচকদের গভীর আস্থা অর্জন করেছিলেন তিনি। যদিও এর আগে নিজের অভিনীত প্রতিটি সিনেমায় বিদ্যা বালান একজন সুঅভিনেত্রী হিসেবে যোগ্যতার উজ্জ্বল প্রমাণ দিয়েছেন। কিন্তু তারপরেও বলিউডের নায়িকাদের ইঁদুর দৌড়ে সামিল হতে পারেননি তখন। তার অভিনীত ছবিগুলো এর আগে মোটামুটি ব্যবসা করলেও বক্স অফিসে তেমন আলোড়ন তুলতে পারেননি। কিন্তু ‘পা’, ‘ইশকিয়া’, ‘নো ওয়ান কিল্ড জেসিকা’, ‘দ্য ডার্টি পিকচার’, ‘কাহানি’ ছবিগুলোতে তার দাপুটে অভিনয়, উজ্জ্বল পর্দা উপস্থিতি, আবেদনময় পারফর্ম্যান্স, বিচিত্র সব নারী চরিত্রের অসাধারণ চিত্রণ বিদ্যাকে ভিন্ন এক অবস্থানে অধিষ্ঠিত করেছিল। অভিনীত সেই ছবিগুলোর দুর্দান্ত বক্স অফিস সাফল্য বলিউডের চাহিদাসম্পন্ন নায়িকাদের কাতারে নিয়ে দাঁড় করিয়েছিল তাকে তখন। বিদ্যা হয়ে উঠেছিলেন বলিউডের দারুণ এক তোলপাড়। অতীতে যারা তাকে নিয়ে ছবি নির্মাণ করতে সাত-পাঁচ ভাবতেন, আড়ালে তার সম্পর্কে নানা মন্তব্য করতেন; সেই নির্মাতারাও চ্যালেঞ্জিং সব রোলে অভিনয়ের প্রস্তাব নিয়ে বিদ্যার পিছু পিছু ঘুরেছেন তখন। তার অভিনয় ক্ষমতার ওপর প্রচণ্ডভাবে আস্থাশীল হয়ে নারীকেন্দ্রিক সিনেমা নির্মাণে সচেষ্ট হয়েছিলেন কেউ কেউ। তার কথা মাথায় রেখে ছবিগুলোর গল্প ও চিত্রনাট্য সাজানো হচ্ছিল। কিন্তু বিধিবাম। বিদ্যার বৃহস্পতি বদলে শনির গ্রহণ শুরু হয়েছিল ২০১৩ সাল থেকে। এ বছর অর্থাত্ ২০১৬ পর্যন্ত বিদ্যা অভিনীত ‘ঘনচক্কর’, ‘শাদি কে সাইড ইফেক্ট’, ‘ববি জাসুস’, ‘হামারি আধুরি কাহানি’, ‘তিন’, ‘এক আলবেলা’ (মারাঠি ছবি)—ছবির কোনোটিই সাফল্য পায়নি বক্স অফিসে, অভিনীত ছবিগুলোতে দর্শকদের আলোড়িত করতে পারেননি তিনি আগের মতো। ফলে অনেকটা অনালোকিত অবস্থানে চলে গেছেন বিদ্যা বালান। এমনিতেই প্রখ্যাত চিত্রপ্রযোজক সিদ্ধার্থ রায় কাপুরকে বিয়ের পর অভিনয়ের চেয়ে ঘর-সংসারে বেশি মনোযোগী হয়েছেন তিনি। কিন্তু অভিনয়জগত্ থেকে নিজেকে একেবারে গুটিয়ে নেননি অন্য অনেক বিবাহিতা নায়িকাদের মতো। একটি-দুটি ছবিতে তাকে দেখা যাচ্ছে হঠাত্ করে। এ সপ্তাহে বিদ্যা বালানকে আবার দেখা যাবে সিনেমার পর্দায় নতুন ছবিতে। তার অভিনীত ‘কাহানি টু :দুর্গা রানি সিং’ ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে এ সপ্তাহে। ২০১২ সালে বিদ্যা অভিনীত ‘কাহানি’ ছবিটি তোলপাড় সৃষ্টির পর পরিচালক-প্রযোজক সুজয় ঘোষ উদ্দীপ্ত হয়ে এর সিক্যুয়াল তৈরির ঘোষণা দেন। সে অনুযায়ী অনেকটা এগিয়ে গিয়েছিলেন। বিদ্যা বালান অভিনীত ‘কাহানি’ ছবির মূল চরিত্র ‘বিদ্যা বাগচি’র নতুন অ্যাসাইনমেন্টের গল্প নিয়ে আবর্তিত হবে ‘কাহানি টু’ ছবিটি—এমন কথা বললেও পরিচালক সুজয় ঘোষ বিদ্যা বালানকে নিয়ে কাহানি সিরিজের দ্বিতীয় সিনেমাটি পর্দায় আনতে একটু দেরি করে ফেলেছেন বলা যায়। এ ছবিতে বিদ্যান বালান অভিনীত চরিত্রটির নাম ‘দুর্গারানী সিং’। সাসপেন্স থ্রিলার ধাঁচের এ ছবির কাহিনির পটভূমি ছোট্ট এক পার্বত্য শহর। যেখানে বিদ্যা বালানকে দেখা যাবে ৮ বছর বয়সী এক কিশোরী কন্যার মায়ের ভূমিকায়। আগের ছবিতে নিখোঁজ স্বামীর খোঁজে বিদেশ থেকে কলকাতা শহরে আসা এক প্রেগন্যান্ট নারীর ভূমিকায় তার অভিনয় দর্শকদের কাছে এতটাই বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়েছিল যে, সবাই তাকে সত্যি সত্যি সন্তানসম্ভবা ভেবেছিলেন। ননগ্ল্যামারাস লুকে পর্দায় এসেও বাজিমাত করা যায়—এটা বিদ্যা দেখিয়ে দিয়েছিলেন ‘কাহানি’ ছবিতে। এবার ‘কাহানি টু’ ছবিতে বিদ্যার সেই ননগ্ল্যামারাস ইমেজের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকছে। এখানেও যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং মনোভাব নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। সাদামাটা সুতির শাড়ি পরে রোদে পোড়া তামাটে বর্ণের শরীর নিয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন। ছবির পরিচালকেরও কড়া নির্দেশ ছিল কোনো মেনিকিওর, পেডিকিওর চলবে না এ সময়ে। এবার দেখা যাক, ‘কাহানি টু’র মাধ্যমে আবার সাফল্যের ধারায় ফিরে আসতে পারেন কি না তিনি।

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৪
যোহর১১:৪৮
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:২৪সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
পড়ুন