নিউইয়র্কের দেয়ালে আঁকা স্মৃতিসৌধ ও শহীদ মিনার
শহিদুল ইসলাম, যুক্তরাষ্ট্র০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬ ইং
নিউইয়র্কের দেয়ালে আঁকা স্মৃতিসৌধ ও শহীদ মিনার
উত্তর আমেরিকায় জন্ম নেওয়া ও বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি প্রজন্মসহ মূলধারার কাছে বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে ধরার প্রয়াসে নিউইয়র্কে স্থাপিত হয়েছে গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ ও ভাষা শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনারের বিশাল প্রতিচিত্র। ব্রঙ্কসের বাংলাবাজার খ্যাত স্টার্লিং অ্যাভিনিউ এলাকায় ‘দ্য ম্যুরাল বাংলাদেশ’ নামে প্রায় ৪০০ ফুটের এ বিশাল দেয়াল চিত্র উন্মোচন করা হয় স্থানীয় সময় রবিবার সন্ধ্যায়। উদ্বোধনের পর দৃষ্টিনন্দন এ শিল্পকর্ম প্রবাসী বাংলাদেশিসহ আমেরিকানদের নজর কেড়েছে। প্রতিদিন নানা বয়সের মানুষেরা ভিড় জমাচ্ছেন এটি দেখার জন্য। বিপুল উত্সাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দঘন পরিবেশে বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এশিয়ান ড্রাইভিং স্কুলের উদ্যোগে দৃষ্টিনন্দন এ শিল্পকর্মের আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করেন বাংলাদেশ-আমেরিকান কমিউনিটি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও ব্রঙ্কস কমিউনিটি বোর্ডের ফার্স্ট ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এন মজুমদার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নিউইয়র্ক অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ৮৭ থেকে নির্বাচিত অ্যাসেম্বলিম্যান লুইস সেপুলভেদা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এশিয়ান ড্রাইভিং স্কুলের স্বত্বাধিকারী এস আর লিংকন এবং দ্য ম্যুরাল বাংলাদেশের চিত্রশিল্পী টিপু আলম।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন রাজনীতিবিদ ও সংগঠক আব্দুর রহিম বাদশা, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বেলাল বেগ, সাংবাদিক-প্রাবন্ধিক হাসান ফেরদৌস, মামুন’স টিউটোরিয়ালের অধ্যক্ষ শেখ আল মামুন, বাংলাবাজার বাংলাদেশি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন, বাংলাদেশি আমেরিকান ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক সোসাইটির সভাপতি আব্দুস শহিদ, বাংলাদেশ সোসাইটির বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম হাওলাদার, মূলধারার নারীনেত্রী মাজেদা উদ্দিন, আমেরিকান মুসলিম পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটির চেয়ারম্যান রাব্বি আলম, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী খসরু, ব্রঙ্কস বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এন ইসলাম মামুন, ব্রঙ্কস উইমেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দ্য ম্যুরাল বাংলাদেশ অমর একুশের শহীদ মিনার এবং স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা স্মৃতিসৌধের বিশাল প্রতিকৃতি প্রবাসে জন্ম নেওয়া ও বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি প্রজন্মসহ মূলধারার কাছে বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে ধরার অনন্য প্রয়াস। এ ক্যানভাস দেখে সবার মনে বাংলাদেশের ভাষা শহীদ এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কথা স্মৃতিপটে ভেসে ওঠে, দেশের সীমানা পেরিয়ে স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

বক্তারা আরও বলেন, আমরা আমাদের শিকড়কে যেন ভুলে না যাই। আমাদের মূল শিকড়কে ভিন্ন সংস্কৃতির বলয়ে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখতে হবে। নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, হাজার বছরের বাঙালি ঐতিহ্য এবং শিকড়ের প্রতি বাঙালির মমত্ববোধের গভীরতা সম্পর্কে জানাতে এর গুরুত্ব অপরিসীম। প্রবাসে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অধিক হারে মূলধারার রাজনীতির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত হতে হবে। তাহলেই প্রবাসের মাটিতে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।

ব্যতিক্রমধর্মী এ আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন ডা. নাহিদ খান, রিয়েলটর জাকির খান, অ্যাক্টিভিস্ট মিনহাজ আহমেদ শাম্মু, বাংলাদেশ আমেরিকান কমিউনিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি নজরুল হক, বাংলাদেশি আমেরিকান উইমেন অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট রেক্সোনা মজুমদার ও সেক্রেটারি মাকসুদা আহমেদ, প্যাকসানের কর্ণধার কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট বখতিয়ার খোকন, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি বাসিত খান, টাঙ্গাইল জেলা অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট আক্তারুজ্জামান হ্যাপি, বিবিএ সিনিয়র সহ-সভাপতি মোজাফফর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন, সংগীতশিল্পী তানিয়া রহমান, কবি জুলি রহমান, কবি সোনিয়া কাদের, আম্বিয়া বেগম অন্তরা, ব্রঙ্কস বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট রফিকুল ইসলাম, দিদারুল ইসলামসহ বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন মানবাধিকার-সামাজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনীতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের প্রবাসীরা অংশ নেন।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ নভেম্বর, ২০১৯ ইং
ফজর৫:০৭
যোহর১১:৫১
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩৩
সূর্যোদয় - ৬:২৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০
পড়ুন