এবার মহাকাশের যাত্রী
তাহমিনা মিলি০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬ ইং
এবার মহাকাশের যাত্রী
 

জেনিফার লরেন্সকে বছরের শেষ প্রান্তে আবার দেখা যাবে নতুন সিনেমায়। তার অভিনীত ‘প্যাসেঞ্জার্স’ ছবিটি মুক্তি পাবে আগামী সপ্তাহে। রোমান্টিক-সায়েন্স ফিকশন-থ্রিলার ধাঁচের মুক্তি প্রতীক্ষিত হলিউডি ছবিটি তোলপাড় সৃষ্টি করেছে জেনিফার লরেন্সের কারণে। কারণ এই মুহূর্তে তাকে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেত্রী বিবেচনা করা হয়। ২৬ বছর বয়সী জেনিফার অভিনীত বিভিন্ন ছবি এ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যবসা করেছে। তিনিই সবচেয়ে কম বয়সী অভিনেত্রী, যিনি এ পর্যন্ত চারবার অস্কার পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন লাভ করেছেন। এরমধ্যেই সেরা অভিনেত্রীর একাডেমি অ্যাওয়ার্ড নিজের ঝুলিতে পুরেছেন এই তন্বী অভিনেত্রী। ২০১২ সালে একজন বিপর্যস্ত বিধবার চরিত্রে অভিনয় করেন রোমান্টিক ছবি ‘পেবুক’-এ, যা তাকে এই সম্মান এনে দিয়েছে। ২০১৩ সালে ব্ল্যাক কমেডি ধাঁচের ছবি ‘আমেরিকান হাসল’-এ অভিনয় করে সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী বাফটা অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছেন লরেন্স। তার অভিনীত এবারের ছবি ‘প্যাসেঞ্জার্স’-এর গল্পটিও বেশ চমকপ্রদ। এখানে জেনিফার লরেন্সকে দেখা যাবে নিউইয়র্ক সিটির একজন তরুণী সংবাদিক ‘অরুরা ডান’-এর চরিত্রে। এ ছবিতে তার বিপরীতে আছেন জিম প্রেস্টন চরিত্রে রূপদানকারী অভিনেতা ক্রিস প্রাটা স্পেসশিপ অ্যাভালনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুজন যাত্রী অরুরা ডান এবং জিম প্রেস্টনের ঘুম ভেঙে যায়। একসময় তারা দুজন স্পেসশিপের নানা ত্রুটিবিচ্যুতি খুঁজে পান। এভাবেই তারা দুজন পরস্পরের খুব কাছাকাছি চলে আসেন। তারা একে অন্যের প্রেমে ডুবে যেতে থাকেন ক্রমেই। ভিন্নধর্মী প্রেক্ষাপটে সাজানো এই চমত্কার প্রেমকাহিনি দর্শকদের জন্য বিচিত্র স্বাদ বয়ে আনবে। ‘প্যাসেঞ্জার্স’ ছবিতে একজন মহাকাশ যাত্রী হিসেবে জেনিফার লরেন্স দর্শকদের সামনে আসছেন আরও মোহনীয় রূপে। ২০১২ সালে আমেরিকার বিখ্যাত ‘রোলিং স্টোন’ ম্যাগাজিন তাকে আমেরিকার সবচেয়ে মেধাবী তরুণী অভিনেত্রী হিসেবে আখ্যায়িত করে। দুনিয়া কাঁপানো ‘হাঙ্গার গেমস’ ফিল্ম সিরিজে ‘ক্যাটনিস এভারডিন’ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বাজিমাত করা জেনিফার লরেন্স নিজেকে একজন সফল অ্যাকশন নায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। খুব ছোটবেলায় স্কুলের নাটক এবং গির্জার অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে করতে নিজেকে পরিপক্ব করে তোলার সুযোগ পেয়েছিলেন লরেন্স। মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি নিউইয়র্কের একজন প্রতিভা অনুসন্ধানকারীর চোখে পড়ে গিয়েছিলেন। ছোটপর্দায় সর্বপ্রথম একটি সিটকমে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের নজর কেড়েছিলেন জেনিফার লরেন্স। এরপর বড় পর্দায় ২০০৮ সালে ‘গার্ডেন পার্টি’ ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে অভিষেক ঘটে তার। তবে ২০১০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘উইন্টারস বোন’ ছবিতে দুর্ভিক্ষপীড়িত এক কিশোরীর চরিত্রে হূদয়স্পর্শী অভিনয়ের জন্য উচ্চ প্রশংসা লাভ করেন সর্বপ্রথম। ২০১১ সালে ‘এক্সম্যান’ সিরিজের ‘ফার্স্ট ক্লাস’ ছবিতে মিউট্যান্ট ‘মিসটেক’ চরিত্রে সফল রূপায়ণের মাধ্যমে তার পরিচিতি আরও ছড়িয়ে পড়ে। গত বছর বায়োপিক মুভি ‘জয়’-এ অভিনয়ের জন্য তিনটি গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার জিতেছিলেন লরেন্স। সর্বপ্রথম এক্সম্যান সিরিজের ছবিতে অভিনয়ের সময় তিনি সহশিল্পী নিকোলাস হোস্টের সঙ্গে রোমান্সে জড়িয়ে পড়লেও তিন বছরের মধ্যে তাদের সম্পর্ক চুকে যায়। নারীবাদী সোচ্চার কণ্ঠ হিসেবে লরেন্সের বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য অনেকবার তাকে রাস্তায় মিছিলে নামতে দেখা গেছে। এছাড়া ক্ষুধাপীড়িতদের পাশে সবসময় সহায়তার নানা উদ্যোগে নিজেকে সক্রিয় রেখেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত জেনিফার লরেন্স ফাউন্ডেশন জনকল্যাণমূলক নানা কর্মকাণ্ডের জন্য ইতোমধ্যে প্রশংসিত হয়েছে। একজন সফল জনপ্রিয় হলিউডি অভিনেত্রী হিসেবে খুব কম বয়সেই অনেকদূর এগিয়েছেন জেনিফার লরেন্স। ‘হাঙ্গার গেমস’ সিরিজের ধারাবাহিক সাফল্য তার ক্যারিয়ারের গতিকে বেগবান করেছে। এর বাইরেও বিচিত্র ধরনের চরিত্রে লরেন্সের সক্ষমতা দর্শকদের চমকিত করে। যার উজ্জ্বল প্রমাণ হিসেবে ‘প্যাসেঞ্জার্স’ ছবিটি আসছে দর্শকদের সামনে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ নভেম্বর, ২০১৯ ইং
ফজর৫:০৭
যোহর১১:৫১
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩৩
সূর্যোদয় - ৬:২৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০
পড়ুন