তখন কত রাজকীয় ছিল!
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং
তখন কত রাজকীয় ছিল!
অনেকগুলো চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নায়িকা ববিতা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। জীবনে প্রথম তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন ১৯৭৫ সালে মিতা পরিচালিত ‘আলোর মিছিল’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য। প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের অনুভূতি’সহ ববিতার বর্তমান নিয়ে লিখেছেন মাদিহা মাহনূর

ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিনেই ববিতার জীবনে একটি দুর্ঘটনা ঘটে গেল। আর তা নিয়েই ভীষণ মন খারাপ তার। তারপরও ইত্তেফাকের পক্ষ থেকে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতির কথা। ববিতা এ কথা শুনে, ফিরে যান সেই ১৯৭৫ সালে। কারণ সে বছরই তিনি প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন। মিতা পরিচালিত ‘আলোর মিছিল’ চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি এ সম্মাননা অর্জন করেন। এই চলচ্চিত্রের একটি গানের কথা পাঠকের অবশ্যই মনে থাকার কথা। গানটি হলো ‘এই পৃথিবীর পরে, কত ফুল ফুটে আর ঝরে’। এই গানে ববিতার অভিনয় আজও দর্শকের মনে দাগ কাটে। ববিতা বলেন, ‘আলোর মিছিল’ আমার অভিনয় জীবনের অন্যতম একটি চলচ্চিত্র। মনে আছে, এতে অভিনয়ের জন্যই আমি প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাই। তখন বঙ্গভবনে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। কী রাজকীয়ভাবেই না সে পুরস্কার দেওয়া হতো। সে কথা ভাবলে আজও কত ভালোলাগা ছুঁয়ে যায় মনের ভিতর। মনে পড়ে একই সময়ে আমার সঙ্গে খান আতা ভাইও পুরস্কার পেয়েছিলেন। এখন তো নানাভাবে পুরস্কারের কথা আগে থেকেই জানা যায়। কিন্তু তখন এমন সুযোগ ছিল না। আমার কাছে চিঠি এসেছিল যে আমি প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাচ্ছি। কী যে খুশি হয়েছিলাম সেই চিঠি পেয়ে, সেই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’ ববিতা পরপর তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছিলেন। ‘আলোর মিছিল’র পর তিনি মোহসীনের ‘বাদী থেকে বেগম’ এবং আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমনি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সম্মানিত হন। লেখার শুরুতেই বলছিলাম চলতি মাসের শুরুতেই ববিতার জীবনে একটি দুর্ঘটনা ঘটে। আর এজন্য মন খারাপও তার। মানুষকে বিশ্বাস করতে গিয়ে তার বিশ্বাস নষ্ট হয়ে গেছে। তাই নতুন কাউকে আর এক্ষেত্রে হয়তো আর কোনোদিনই বিশ্বাস করতে পারবেন না। গত ১ ফেব্রুয়ারি তার ঘরের বিশ্বস্ত কাজের মেয়ে পিংকি তার নগদ টাকা, ডায়মন্ড, স্বর্ণালংকার, প্রিয় প্রিয় শাড়ি চুরি করে সঙ্গে আরেক কাজের মেয়ে ইয়াসমিনকে নিয়ে পালিয়ে গেছে। অথচ এই পিংকির নামে ববিতা আলাদা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করে দিয়েছিলেন। তার দুঃখের কাহিনি শুনে তাকে অনেক আদরে রাখতেন। কিন্তু তারপরও পিংকি তার সঙ্গে এমন করেছেন। রাজধানীর গুলশান থানায় সিরাজগঞ্জের দত্তবাড়ির মেয়ে পিংকির নামে ববিতা সাধারণ ডায়েরি করেছেন। ববিতা বলেন, ‘হয়তো পিংকি তার নাম পরিবর্তন করে ডাক্তারের বাসায় চাকরি নিয়েছে। তিনিও হয়তো একদিন আমার মতো ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তবে এই ধরনের পিংকি চক্রের হাত থেকে রক্ষা পেতে আমাদেরকে খুব সচেতন হতে হবে।’

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ইং
ফজর৫:১০
যোহর১২:১৩
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৪
সূর্যোদয় - ৬:২৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬
পড়ুন