কথায় কথায় রাত...
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং
কথায় কথায় রাত...
এবারের একুশে গ্রন্থমেলায় বরেণ্য অভিনেতা ও নির্মাতা আফজাল হোসেনের লেখা তিনটি বই প্রকাশিত হয়েছে। যে কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় আফজাল হোসেনকে এবারের গ্রন্থমেলায় একটু বেশিই দেখা যাচ্ছে। মেলাতেই দেখা হলো তার সঙ্গে। বিস্তারিত লিখেছেন অভি মঈনুদ্দীন

কথা ছিল বিকেলের মিষ্টি রোদে দেখা হবে গ্রন্থমেলায়। বিকেল গড়িয়ে যখন সন্ধ্যার দিকে, সেই মুহূর্তেই গ্রন্থমেলার ‘অনন্যা’ প্রকাশনীতে প্রবেশ করেন আফজাল হোসেন। এই আফজাল হোসেন অভিনয়ের পৃথিবী ছেড়ে এখানে নিজেকে শুধুই একজন লেখক হিসেবে আগত পাঠকদের সামনে তুলে ধরেছিলেন। বলছি গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলের কথা। পাঠক আসছেন, পাঠকের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলছেন আফজাল হোসেন। আবার কেউ কেউ আফজাল হোসেনের লেখা বই ক্রয় করছেন, তখন আবার হাসিমুখেই আফজাল হোসেন সেই বইতে অটোগ্রাফ দিচ্ছেন। একটা সময় ছিল, যখন একজন তারকার কাছ থেকে একটি অটোগ্রাফ পাওয়ার জন্য সেই তারকার ভক্তরা আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করতেন, সেই সময়টা আসলে এখন আর নেই। কারণ তারকার সঙ্গে দেখা হলেই ভক্ত আগ্রহ নিয়ে সেলফিই তুলতে চান। সেলফির এই যুগেও আফজাল হোসেনের অটোগ্রাফ নিয়েই ভক্তরা তুষ্ট হয়েছেন। এ দৃশ্য নিজের চোখে দেখে বিশ্বাস করতে হয় যে, একজন আফজাল হোসেনের লেখা বইয়ে অটোগ্রাফ নিয়েই পাঠক কিংবা ভক্তরা হাসিমুখেই বিদায় নিয়েছেন। হয়তো সেই ভক্ত অন্য কোনোদিন অন্য কোথাও আফজাল হোসেনের সঙ্গে সেলফি তুলে নিবেন। কিন্তু গ্রন্থমেলায় যে আফজাল হোসেনের দেখা মিলেছে, সেখানে ‘অটোগ্রাফ’ পর্যন্তই যেন সর্বোচ্চ ভালোলাগা পাঠকের। আফজাল হোসেনকে সবাই একজন অভিনেতা হিসেবেই অধিক চিনেন। তবে একজন লেখক হিসেবেও তার যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। তার লেখা গল্পের বই বইমেলায় প্রথমবার প্রকাশিত হয় তারই ঘনিষ্ঠ বন্ধু কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের সঙ্গে। এক মলাটে দুটি গল্প নিয়ে বই ‘যুবকদ্বয়’। বন্ধুরা জানতেন আফজাল হোসেন মাঝে মাঝে কবিতাও লিখেন। সেই জানা থেকেই তারই আরেক বন্ধু ফরিদুর রেজা সাগর আগ্রহী হলে আফজাল হোসেনের প্রথম কবিতার বই ‘শুধু একটাই পা’ ২০১১ সালে প্রকাশিত হয়। সেই ধারাবাহিকতাতেই এবারের বইমেলাতেও তার লেখা আরেকটি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে। যার নাম ‘কোনো জোনাকি এ অন্ধকার চেনে না’। বিভিন্ন সময় আফজাল হোসেনের বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক লেখার সংকলন নিয়ে প্রকাশিত আরেকটি বইয়ের নাম ‘কথায় কথায় রাত’। এছাড়া এবারের বইমেলায় প্রকাশিত গল্পগ্রন্থের নাম ‘জাহাঙ্গীর বাদশার ঘোড়া’। এই তিনটি বই এবারের বইমেলাতে পাওয়া যাচ্ছে অনন্যা প্রকাশনীর ব্যানারে। ডে প্রকাশনীতে বসেই আফজাল হোসেন অটোগ্রাফ দিচ্ছিলেন। আফজাল হোসেনের জীবনের প্রথম বই ‘যুবকদ্বয়’ প্রকাশিত হয়েছিল অনন্যা প্রকাশনী থেকেই। যে কারণে এই প্রকাশনীর প্রতি রয়েছে তার অন্যরকম ভালোলাগা। নিজের লেখা এবারের বইগুলো প্রসঙ্গে আফজাল হোসেন বলেন, ‘সত্যি বলতে কী, আমি কবিতা লিখতাম এটা আমার বন্ধুরা জানত। তো প্রথম কবিতার বই প্রকাশের পর যখন বেশ সাড়া পেলাম, তখন কবিতা লেখায় আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। বিভিন্ন সময়ে আমি বিভিন্ন বিষয়ের উপর লিখে থাকি। সেইসব বিষয়ভিত্তিক লেখা নিয়েও এবার একটি বই প্রকাশিত হয়েছে। গল্পের বইও আছে এবার। সবমিলিয়ে এবারের বইমেলা আমার কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমি যে ধরনের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকি, তার থেকে সময় বের করে বইমেলায় যাওয়াটা একটু কঠিনই বৈকি। কিন্তু তারপরও এরইমধ্যে বেশ কয়েকবার বইমেলায় আসতে পেরেছি। খুব ভালো লেগেছে। হয়তো আরও বেশ কয়েকদিন আসব।’ কথার ফাঁকে আফজাল হোসেন এবার একটু প্রকাশনা স্টল থেকে বাইরে এলেন। বাইরে এসে দেখা হলো সংগীতশিল্পী ফাহমিদা নবীর সঙ্গে। দুজনে এগিয়ে গেলেন ‘অন্বেষা প্রকাশনী’র দিকে। সেখানে যেতে যেতে আফজাল হোসেন ফাহমিদাকে উদ্দেশ্য করে বলছিলেন, ‘অনেক বছর পর তোমার সঙ্গে দেখা হলো বইমেলায়। সেইসব দিন সত্যিই অনেক সুন্দর ছিল।’ গ্রন্থমেলার পথ ধরে যখন তারা হাঁটছিলেন, ভক্তরা সেলফির জন্য অনুরোধও করছিলেন। কখনো কখনো অনুরোধ রেখেছেন আফজাল-ফাহমিদা, আবার কখনো কাজের তাড়ায় পেরে উঠতে পারেননি। শেষতক বলতে চাই, গুণী এই ব্যক্তিত্ব চারটি উপন্যাস এবং একটি ভ্রমণ রচনাও লিখেছেন। তার লেখা চারটি উপন্যাস হলো ‘বিরহকাল’, ‘কানামাছি’, ‘পারলে না রুমকি’ ও ‘কুসুম ও কীট’। আফজাল হোসেনের একমাত্র ভ্রমণ রচনা হলো ‘মানস ভ্রমণ’। 

 

ছবি দীপু খান

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ইং
ফজর৫:১০
যোহর১২:১৩
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৪
সূর্যোদয় - ৬:২৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬
পড়ুন