নাঈম-শাবনাজের নিমন্ত্রণে আবুল হায়াত
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং
নাঈম-শাবনাজের নিমন্ত্রণে আবুল হায়াত
সম্প্রতি তারকা দম্পতি নাঈম-শাবনাজের নিমন্ত্রণে টাঙ্গাইলের পাথরাইলের নলশোঁধা গ্রামে উপস্থিত হয়েছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত

অভিনেতা, নাট্যকার ও নাট্যনির্মাতা আবুল হায়াত। খাজা মুরাদ স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার উদ্বোধক হিসেবে সেখানে

তাকে নিমন্ত্রণ করা হয়েছিল। বিস্তারিত জানাচ্ছেন মিলান আফ্রিদী

গেল রবিবার একুশে পদক প্রাপ্ত অভিনেতা আবুল হায়াত তার ফেসবুক ওয়ালে একটি পোস্ট দিয়েছেন। পোস্টে লেখা ছিল এমন, ‘গত শুক্রবার ১৭ ফেব্রুয়ারি দিনটা দারণ কেটেছে। তারকা দম্পতি নাঈম-শাবনাজের নিমন্ত্রণে গিয়েছিলাম ওদের গ্রামে পাথরাইলের নলশোঁধায়, টাঙ্গাইলে। ওদের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত ক্রিকেট প্রতিযোগিতার ফাইনালের উদ্বোধন করার পর সারাটা দিন আমি আর শিরীণ ঘুরে বেড়ালাম নাঈমদের বিশাল সাম্রাজ্য! চমত্কার! এই একটি কথাই আমি বলতে পারি। সুন্দর ছোট্ট একটি নীড় বানিয়েছে ওরা যেখানে মাঝে মাঝে থেকে ওরা প্রকৃতি দর্শন করে। তার সামনের সুন্দর লনে ভুড়িভোজের আয়োজন ছিল। বিরতিহীনভাবে চা-নাস্তার ব্যবস্থাও ছিল। আমরা ঘুরে ঘুরে দেখলাম আম, লিচু, জলপাই, মেহেগনি আরও নাম না-জানা মেলারকম বৃক্ষের বাগান, ধানক্ষেতের সৌন্দর্য, ফার্মহাউজের গরুগুলোর সাথে নাঈমের সখ্যতা, তাঁতি পরিবারের সাথে শাবনাজের আন্তরিক সম্পর্ক সবকিছুই মুগ্ধ করেছে আমাদের। সূর্য ডোবার বেলায় ফেরার পালা এলো। মুগ্ধতা নিয়ে বিদায় নিয়ে এলাম। ধন্যবাদ নাঈম-শাবনাজ সুন্দর একটি দিন আমাদের উপহার দেওয়ার জন্যে।’ চিত্রনায়ক নাঈম তার বাবার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একদশক আগে ‘খাজা মুরাদ স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট’-এর যাত্রা শুরু করেন টাঙ্গাইলের পাথরাইল ইউনিয়নের নলশোঁধা গ্রামে। নাঈমের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত নলশোঁধা যুব সংঘের আয়োজনেই এই ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়ে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় গেল শুক্রবার নলশোঁধায় টুর্নামেন্টটির ‘টি-টোয়েন্টি’ ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় ১৬টি গ্রামের বেশ কয়েকটি দল অংশগ্রহণ করে। খেলার উদ্বোধনীতে উদ্বোধক হিসেবে নাঈমের নিমন্ত্রণে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য অভিনেতা, নাট্যকার ও নির্মাতা আবুল হায়াত। দুপুর বারোটায় নলশোঁধা খেলার মাঠে যখন আবুল হায়াত উপস্থিত হন, তখন শত শত শিক্ষার্থী তাকে বরণ করে নেন। মাঠের চারপাশে ছিল তখন হাজার হাজার দর্শক। এ সময় আবুল হায়াতের সঙ্গে তার স্ত্রী শিরীণ হায়াতও ছিলেন। আবুল হায়াতের উপস্থিতি যেন সবার মধ্যে এক অন্যরকম আনন্দ বইয়ে দেয়। ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর এ্যানি, ছোট্ট শিশুশিল্পী এ্যামিলি নৃত্য পরিবেশন করে। পাশাপাশি ছোট্ট নাটিকাও পরিবেশন করা হয়। জুম্মার নামাজের শেষে আবুল হায়াত ফাইনাল খেলার উদ্বোধনী ঘোষণা করেন। এ সময় নাঈমের করা বোলিংয়ে আবুল হায়াত ব্যাটিং করেন। আবুল হায়াত বলেন, ‘সত্যিই এমন একটি পরিবেশে এসে নিজেকে ধন্য মনে করছি। আমি যে সত্যিকার অর্থে কতটা ক্রিকেটপাগল মানুষ, তা আমার স্ত্রীই সবচেয়ে বেশি ভালো জানেন। আমি এখনো ক্রিকেট ছাড়া কিচ্ছু বুঝি না। আমি একসময় খুব ভালো ক্রিকেট খেলতাম, সেটা ব্যাটিংয়ে হোক কিংবা বোলিংয়ে। তাই আজ এখানে এসে পিছনে ফেলে আসা দিনের কথা খুব মনে পড়ছে বারবার। বিশেষ ধন্যবাদ নাঈম ও শাবনাজের প্রতি। কারণ তাদের আহ্বানেই এমন একটি চমত্কার পরিবেশ নিজের চোখে দেখতে পারা।’ নাঈম বলেন, ‘পুরো এলাকাবাসী আজ আনন্দিত হায়াত ভাইয়ের উপস্থিতিতে। এমন বরেণ্য মানুষ আমাদের সঙ্গে এই গ্রামে এসে সময় কাটাবেন এটা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের। এলাকার যুব সমাজ যেন বিপথে না যায়, গ্রামে প্রাকৃতিক পরিবেশ যেন ভারসাম্যে থাকে, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ-যৌতুক নেওয়া যেন বন্ধ হয়; সর্বোপরি গ্রামের মানুষ যেন শান্তিতে থাকে এর জন্য আমি গ্রামেই পড়ে থাকি, গ্রাম নিয়ে কাজ করি। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন।’ উল্লেখ্য, ফাইনাল খেলায় করটিয়া ক্রিকেট দল ও ম্যাসিভ এআর দলের মধ্যে করটিয়া ক্রিকেট দল তিন উইকেটে জয়লাভ করে। খেলা শুরু হওয়ার পূর্বে অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন পাথরাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হানিফুজ্জামান লিটন, দেলদুয়ার উপজেলার চেয়ারম্যান ফেরদৌস আহমেদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন। খেলার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন শাবনাজ নাঈম এবং তাদের সহযোগিতা করেছেন শাবনাজের ছোট বোন অভিনেত্রী মৌ ও তার স্বামী মনিরুল আলম।

 

ছবি আলিফ হোসেন রিফাত

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ইং
ফজর৫:১০
যোহর১২:১৩
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৪
সূর্যোদয় - ৬:২৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬
পড়ুন