গোলাম মুস্তাফা আবৃত্তি পদকের যাত্রা শুরু
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং
গোলাম মুস্তাফা আবৃত্তি পদকের যাত্রা শুরু
বাংলাদেশের আবৃত্তির প্রেরণা পুরুষ গোলাম মুস্তাফা। তার হাত ধরেই এদেশে আবৃত্তি চর্চার উর্বর ভূমি রচিত হয়েছে। তাই আবৃত্তিতে তার ভূমিকা অনন্য। অনন্য বলেই এই কিংবদন্তির মৃত্যুর একযুগেরও বেশি সময় পর তার বর্ণাঢ্য জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ চলতি বছর থেকে চালু করেছে ‘গোলাম মুস্তাফা আবৃত্তি পদক’। আবৃত্তিতে আবৃত্তির পুরোধা ব্যক্তিত্বদের অসামান্য অবদানের জন্য ‘গোলাম মুস্তাফা আবৃত্তি পদক’ প্রদান করা হয়েছে গোলাম মুস্তাফারই প্রয়াণ দিবসে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় একুশের প্রথম প্রহর উদযাপন এবং গোলাম মুস্তাফাকে স্মরণসহ দশ জনকে পদক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধার অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী ও আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সভাপতি আসাদুজ্জামান নূর এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোলাম মুস্তাফা-কন্যা অভিনেত্রী ও আবৃত্তিশিল্পী সুবর্ণা মুস্তাফা। অনুষ্ঠানের শুরুতেই আসাদুজ্জামান নূর আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী রচিত ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ কবিতা আবৃত্তি করেন। এ সময় মিলনায়তনে উপস্থিত সকল দর্শক-শ্রোতা তার সঙ্গে কণ্ঠ মেলান। এরপর শুরু হয় পদক প্রদানের পালা। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি পদকপ্রাপ্তদের উত্তরীয়, দশ হাজার টাকার চেক এবং পদক প্রদান করেন। পদক প্রদান শেষে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘বাংলাদেশের আবৃত্তিকে শিল্পে উন্নীত করতে মুস্তাফা ভাইয়ের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। তার পরিবারের সঙ্গে আমার পারিবারিক সম্পর্ক, আত্মার সম্পর্ক। তার সঙ্গে আমার অভিনয়ের যেমন দারুণ অভিজ্ঞতা ছিল, ঠিক তেমনি ছিল আবৃত্তিরও অভিজ্ঞতা। এমন মহান মানুষের বর্ণাঢ্য জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে যে পদক আজ চালু হলো তা সত্যিই গর্বের, আনন্দের। আমরা আবৃত্তির পুরোধা ব্যক্তিত্বদের সম্মানিত করতে পেরে আমরা নিজেরা সম্মানিত বোধ করছি। আবৃত্তিশিল্পীদের প্রতি সত্যিই এটি শ্রেষ্ঠ উপহার।’ সুবর্ণা মুস্তাফা বলেন, ‘আমার বাবা আমাকে মানুষকে ভালোবাসতে, শ্রদ্ধা করতে এবং স্বাধীনভাবে পথ চলতে শিখিয়েছেন। আমি কথা দিচ্ছি, আগামী বছর থেকে আপনাদের সঙ্গে নিয়ে গোলাম মুস্তাফার জীবনকে উদযাপন করব।’ ‘গোলাম মুস্তাফা আবৃত্তি পদক’ যারা পেলেন তারা হলেন নিখিল সেন, সৈয়দ হাসান ইমাম, কামাল লোহানী, আশরাফুল আলম। এই চারজন পেয়েছেন জীবদ্দশায়। মরণোত্তর হিসেবে পেয়েছেন যে ছয়জন তারা হলেন মৃণাল সরকার, ওয়াহিদুল হক, নাজিম মাহমুদ, হেমচন্দ্র ভট্টাচার্য্য, অধ্যাপক নরেন বিশ্বাস, কাজী আবু জাফর সিদ্দিকী। পদক প্রদানের পর আবৃত্তি পরিবেশন করে আবৃত্তি সংগঠন কণ্ঠশীলন, স্বরশ্রুতি, কথা আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রসহ আরও বেশ কয়েকটি সংগঠন। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের জেনারেল সেক্রেটারি আহকাম উল্লাহ।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ইং
ফজর৫:১০
যোহর১২:১৩
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৪
সূর্যোদয় - ৬:২৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬
পড়ুন