গান, পড়াশোনা আর গুরুদের আশীর্বাদ আমাকে পথ দেখিয়েছে—ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়
১০ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
গান, পড়াশোনা আর গুরুদের আশীর্বাদ আমাকে পথ দেখিয়েছে—ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর আয়োজিত ‘গান ও কবিতার যুগলবন্দী’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সম্প্রতি গান গাইতে এসেছিলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়। এ অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করেছিলেন বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার। দর্শক-শ্রোতারা মুগ্ধ হয়েছিলেন তাদের পরিবেশনায়। ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তার বর্তমানের কাজ, গান ও আগামীর ভাবনা প্রসঙ্গে কথা হলো। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন খালেদ আহমেদ

সম্প্রতি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর আয়োজিত ‘গান ও কবিতার যুগলবন্দী’ অনুষ্ঠানটিতে পারফর্ম করার অনুভূতি জানতে চাই।

আমার দাদা বাড়ি ফরিদপুর। নানা বাড়ি রংপুর। সেজন্য নিজেকে বাংলাদেশের মানুষ মনে করি। এখানে গান গাইলে মনে হয় নিজের পরিবারের মানুষদের গান শোনাচ্ছি। সম্প্রতি জাদুঘরের ‘গান ও কবিতার যুগলবন্দী’ অনুষ্ঠানটি এক কথায় অসাধারণ ছিল। আমি মঞ্চে কবিতায় পেয়েছিলাম প্রবাদপ্রতীম ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার দাদাকে। আর দর্শক ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান স্যার, ফেরদৌসী মজুমদারসহ খ্যাতিমান অনেকেই। অনুষ্ঠানে অগণিত দর্শক ছিল। অনেকে বসার জায়গা পায়নি বলে দাঁড়িয়েই গান শুনেছে। বিষয়টি একজন শিল্পীর কাছে অনেক বড়। তবে এজন্য আমার কোনো কৃতিত্ব নেই, সব কৃতিত্ব আসলে পঞ্চকবির গানের।

পঞ্চ কবির গান বা রবীন্দ্রসংগীত—সবটাতেই আপনি আনেন নতুনত্ব। এই ম্যাজিকটা কীভাবে করেন?

গান যখন নিজের কথা হয় তাতে প্রাণ আসে। আমি প্রতি অনুষ্ঠানে যে গান করি তার ছবি আঁকি। শুধু সুর-তালে তো সব শিল্পীই গান, তবে গানের কথা-সুর আত্মস্থ করে তাকে অনুভব করে গাওয়াতেই আমার ম্যাজিক। তার সঙ্গে আছে আমার গবেষণা। (খানিকটা মজা করে) যদিও অনেকেই বলেন, আমি স্টেজে উঠলে আমার সৌন্দর্যে চারদিক আলোকিত হয়ে যায়, সেটাই আমার ম্যাজিক... হা হা হা!

‘স্টেপ ফর মিউজিক’ নামে আপনি সংগীতশিক্ষার সংগঠন পরিচালনা করেন। এই সংগঠনের আগামীর পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাই।

‘অ্যা স্টেপ ফর মিউজিক’ আমার সংগীতশিক্ষার সংগঠন। এতে গান, গানের গবেষণা সবই শেখানো হয়। আমি যেহেতু ইতিহাসের অধ্যাপক ছিলাম, তাই ইতিহাস খুঁজতে আমার ভালো লাগে। আমেরিকা, কানাডা, বাংলাদেশ সব জায়গায় প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। অনুকরণমুক্ত শুদ্ধ সংগীত চর্চা যাতে ছড়িয়ে পড়ে তার ব্যবস্থা করছি। আর্কাইভ করেছি, যা একটি অমূল্য ভাণ্ডার। পৃথিবীর সব জায়গা থেকে আগ্রহীরা এর সহযোগিতা পাচ্ছেন।

সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে ‘রজনীকান্ত’-এর বইটির সম্পাদনা ও সংকলন করেছেন আপনি। মহতী এই উদ্যোগ নিয়ে কিছু বলুন।

রজনীকান্তের প্রকাশক পত্রভারতী আমাদের এখানকার অত্যন্ত নামী প্রকাশক। তারা রজনীকান্ত সেনের সার্ধশতবর্ষে বইটি প্রকাশ করেন। অনেক দুর্মূল্য ছবি ও তথ্য দিয়ে বইটি সংগৃহীত। বর্তমানে আরও একটি বইয়ের কাজ চলছে।

পুরোনো দিনের যেসব গায়িকা অভিনেত্রীরা রবীন্দ্রনাথের গান গেয়েছেন এবং তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন, তাদের নিয়ে কাজ শুরু করেছেন আপনি। এ নিয়ে আপনার আগামীর ভাবনার কথা জানতে চাই।

আমি সবসময় নতুন নতুন ভাবনা নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসি। স্টেজে উঠে পরিচিত ২০টা গান গেয়ে নেমে গেলাম, আমি সে ধরনের শিল্পী নিজেকে মনে করি না। আমার অনুষ্ঠানে এলে শ্রোতারা কিছু অজানা গল্প, অজানা তথ্য শিখে বাড়ি যান। সম্প্রতি নিউইর্য়কে রবীন্দ্র উত্সবে রবীন্দ্রসমীপে যেসব গায়িকা-অভিনেত্রীরা এসেছিলেন, তারা তাদের উপলব্ধি লিখে গেছেন সেই গল্প আর গান নিয়ে অনুষ্ঠান করেছি। একটা কথা বলা প্রয়োজন—আমি খুব খেটে, কষ্ট করে ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায় হয়েছি। আমার কোনো গডফাদার নাই কিংবা ছিল না। আমাকে কেউ কাজ পাইয়ে দেয়নি, বরং সুযোগ পেলে ক্ষতি বা কাজ নষ্ট করার চেষ্টা করছে অনেকেই। যা করেছি পুরোটায় নিজের চেষ্টায়। এখানে আমার গান, পড়াশোনা আর গুরুদের আশীর্বাদ আমাকে পথ দেখিয়েছে।

আপনি বেশ কয়েকবার বাংলাদেশে এসেছেন। এখানকার বিভিন্ন স্থানে গান গেয়েছেন। সেই দিক থেকে এখনকার দর্শক-শ্রোতাদের কাছে আপনি কেমন সাড়া পান?

বাংলাদেশ আমার আপন জায়গা। এখানকার শ্রোতারা যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তা আমার কাছে আর্শীবাদ স্বরূপ। পৃথিবীর যেখানেই বাংলাদেশের শ্রোতারা আছেন, তারাই আমার শক্তি ও ভরসা। তারাই বাংলা সংগীতের আগামীর পথিক।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১০ আগষ্ট, ২০২০ ইং
ফজর৪:১১
যোহর১২:০৪
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৩৯
এশা৭:৫৭
সূর্যোদয় - ৫:৩২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৪
পড়ুন