প্রথম সিনেমাতেই বাজিমাত
২১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
প্রথম সিনেমাতেই বাজিমাত
তাহমিনা মিলি

 

‘স্টার ওয়ারস’ ট্রিলজির দ্বিতীয় সিনেমা ‘স্টার ওয়ারস :দ্য লাস্ট জেডি’ মুক্তি পেয়েছে সম্প্রতি। বহুল প্রতীক্ষিত হলিউডি ছবিটি এরমধ্যে বক্স অফিসে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। মহাকাশে মহাযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত ‘স্টার ওয়ারস’ সিরিজের আগের প্রতিটি সিনেমাই দর্শকদের চমকিত করেছে। সিক্যুয়ালের আগের ছবিটি ছিল ‘স্টার ওয়ারস :দ্য ফোর্স অ্যাওয়েকেনস’। যা ২০১৫ সালে মুক্তি পেয়েছিল। ওই সিক্যুয়ালের বেশিরভাগ চরিত্রকে এবারের নতুন পর্বেও দেখা গেছে। তবে তাদের সঙ্গে আরও কিছু নতুন চরিত্রের সমাবেশ ঘটেছে। ২০১৬-এর ফেব্রুয়ারিতে যখন স্টার ওয়ারস ফ্রাঞ্চাইজির নতুন সিনেমাটির শুটিং শুরু হয়, তখন অভিনেত্রী কেলি মেরি ট্রানকে একটি চরিত্রে কাস্ট করা হয়। কিন্তু আগের পর্বে এ চরিত্রের উপস্থিতি না থাকায় ধারণা করা যাচ্ছিল না নতুন এ চরিত্রের স্বরূপটা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়। গত এপ্রিলে এ ছবির নির্মাতাগোষ্ঠী লুকাস ফিল্ম কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয়, ছবিটিতে প্রতিরোধকারী রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী দলের একজন রোজ টিকো চরিত্রে দেখা যাবে ভিয়েতনামি বংশোদ্ভূত আমেরিকান কেলি মেরি ট্রানকে। হঠাত্ করেই ছবিতে রোজ টিকো চরিত্রটির গুরুত্ব বেড়ে যায়। আর তাতেই সৌভাগ্য ধরা দেয় কেলি মেরি ট্রানের হাতে। আগের পর্বের বিদ্যমান চরিত্রগুলোর সঙ্গে নতুন যুক্ত হওয়া রোজ টিকো চরিত্রটি তুলনামূলকভাবে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে ‘স্টার ওয়ারস :দ্য লাস্ট জেডি’ ছবিতে। সিনেমাটি এরমধ্যে বক্স অফিসে বাজিমাত করেছে। এ ছবিতে সৌভাগ্যক্রমে বেশ ভালো সুযোগ পাওয়া অভিনেত্রী কেলি মেরি ট্রানও এখন সবার মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়াগোতে জন্মগ্রহণকারী মেরি ট্রান বর্তমানে আমেরিকান নাগরিক হলেও তার বাবা-মা দুজন ভিয়েতনাম থেকে এসেছিলেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধ শেষে তারা নিজের দেশ থেকে পালিয়ে আমেরিকায় পা রেখেছিলেন নতুন আশ্রয়ের আশায়। তার বাবা ভিয়েতনামের পথেঘাটে বেড়ে উঠেছেন, কোনো ঘরবাড়ি ছিল না। বলা যায় বাস্তুহারা শ্রেণির মানুষ ছিলেন। আমেরিকা এসে তিনি সংসারের অন্নসংস্থানের জন্য বারগার কিংয়ে চাকরি নিয়েছিলেন। মেরি ট্রানের মা কাজ করতেন মৃতদেহ সত্কারে নিয়োজিত একটি প্রতিষ্ঠানে। শৈশব ও কৈশোর মেরি ট্রান পড়াশোনা করেছেন সান ডিয়াগোর ওয়েস্টভিউ স্কুলে। পড়াশোনার পাশাপাশি পকেট খরচের জন্য আইসক্রিম শপে কাজ করতে হতো। যোগাযোগ বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন করেছেন তিনি। ২৮ বছর বয়সী কেলি মেরি ট্রান কৈশোর থেকেই বিভিন্ন সিরিজের ছোটখাটো চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেতে অডিশন দিতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে এ লাইনে মোটামুটি অভিজ্ঞ হয়ে ওঠেন। ২০১৩ সালে প্রথম কাজ করেন ওয়েব সিরিজ ‘লেডিস লাইক আস’-এ। এর বাইরে বিভিন্ন ধরনের কমেডি ভিডিওতেও তাকে দেখা যেতে থাকে। ২০১৫ সালে ‘স্টার ওয়ারস :দ্য লাস্ট জেডি’ ছবিতে অভিনয় শুরুর আগে এবং পরে ছোট পর্দায় অসংখ্য টিভি ফিল্ম ও সিরিজে কাজ করেছেন। যা তাকে অভিনেত্রী হিসেবে অনেকটাই পরিপক্ব করেছে বৈকি। বড় পর্দায় তার প্রথম আবির্ভাবটাই হয়েছে বড় আয়োজনের একটি হলিউডি সিনেমার মাধ্যমে। ‘স্টার ওয়ারস’ সিক্যুয়ালের আগামী ছবি ‘দ্য অ্যাম্পায়ার স্ট্রাইকস ব্যাক’-এ তাকে আবার দেখা যাবে হয়তোবা। কারণ, দুনিয়াজুড়ে অগণিত সিনেমা দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন কেলি মেরি ট্রান। হলিউডে তাকে ঘিরে আলাদাভাবে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি নিজেই বলেন, ‘আমি ভিয়েতনামি বাবা-মায়ের সন্তান, আমার চেহারা ও শারীরিক গঠনেও তার ছাপ সুস্পষ্ট। আমি ‘স্টার ওয়ারস’-এ অনেক তারকার সমাবেশেও দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পেরেছি অভিনয় গুণেই শুধু নয়, ভিন্ন ধরনের চেহারা ও শারীরিক গঠনের জন্য। আগামীতেও দর্শক আমাকে আলাদাভাবে চিনে নেবেন আশা করি।’

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২১ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৬
যোহর১১:৫৭
আসর৩:৪১
মাগরিব৫:২০
এশা৬:৩৭
সূর্যোদয় - ৬:৩৬সূর্যাস্ত - ০৫:১৫
পড়ুন