লা ক্স সু পা র স্টা র প্র তি যো গি তা
সর্বত্র নতুনদের জয়গান
০৫ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
সর্বত্র নতুনদের জয়গান
নিজের ভেতরের প্রতিভা সবার সামনে উন্মোচন করার জন্য মিডিয়া যেন এক পরীক্ষিত মঞ্চ। সেই মঞ্চে নিজেকে দেখতে ভালোবাসেন অনেকেই। তিন বছর পর রিয়েলিটি শোটির নামে কিছুটা পরিবর্তন এনে আবার শুরু হয়েছে চ্যানেল আই নিবেদিত লাক্স সুপারস্টার ’১৮ প্রতিযোগিতা। ‘দেখিয়ে দাও অদেখা তোমায়’ এই থিমে আয়োজিত এবারের প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে আছেন জনপ্রিয় মডেল-অভিনেত্রী সাদিয়া ইসলাম মৌ, জনপ্রিয় গায়ক ও অভিনেতা তাহসান খান এবং চিত্রনায়ক আরেফিন শুভ। সম্প্রতি তেজগাঁওয়ে এনটিভির স্টুডিওতে ইত্তেফাকের উদ্যোগে এই তিন গুণী মানুষকে নিয়ে এক আড্ডার আয়োজন করা হয়েছিল। বিচার কাজের ফাঁকে তারা কথা বলেছেন এবারের প্রতিয়োগিতার নানা বিষয় ও নিজেদের অভিজ্ঞতা নিয়ে। সেইসব আলাপচারিতার চুম্বকীয় অংশ তুলে ধরেছেন আনন্দ বিনোদন-এর বিভাগীয় সম্পাদক খালেদ আহমেদ

‘লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতা এমন এক প্লাটফর্ম, যার মাধ্যমে একজন তরুণী ইচ্ছা করলেই নিজের যোগ্যতা ও আত্মবিশ্বাস দিয়ে পেতে পারেন তারকা খেতাব। তবে খুব সহজেই যে এই তারকার মুকুট জয় করা যায়, তা কিন্তু নয়। এজন্য একজন প্রতিযোগীকে হাজারো মেয়েকে পিছনে ফেলে নিজের যোগ্যতা দিয়েই এগিয়ে যেতে হয় সামনের দিকে। তাই প্রথম হওয়ার জন্য অবশ্যই কঠোর পরিশ্রম করতে হয় প্রতিযোগীকে,’ আড্ডার শুরুতে এভাবে বিচারক হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করলেন হাজারো তরুণীর আইডল জনপ্রিয় মডেল-অভিনেত্রী সাদিয়া ইসলাম মৌ। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘এখানে জাজ হিসেবে থাকতে আমার খুব ভালো লাগছে। কেননা কখনোই আমি কোথাও বিচারক হিসেবে কাজ করিনি। কারণ এই জিনিসটা সবসময় আমার ভয় লেগেছে। আমার কাছে মনে হয়েছে সবগুলো বাচ্চাই অনেক আশা নিয়ে স্বপ্ন নিয়ে আসে এখানে। তো তাদেরকে এক হিসেবে একটু দুঃখ দেওয়াই হয়। তারা অনেকেই বাদ পড়ে যায়। আমরা সবাইকেই বলি যে বাদ পড়ে যাওয়া মানে ব্যর্থতা নয়, আশা করি আগামীতে তুমি আরও ভালো করবে। এবার আমার কাছে মনে হলো সবকিছু মিলিয়ে আমার পাশে যারা আছে, তাদের কারণেও অনেক ক্ষেত্রে বলতে পারেন আমি কাজটা করছি। আসলে আমি জানতে চেয়েছি জাজ প্যানেলে কারা থাকবে? যখন শুনেছি তাহসান আছে, শুভ আছে। সেটা শোনার পর আমার মনে হয়েছে তাদের সঙ্গে রিচারকের কাজটা আমি উপভোগ করব।’ লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতার এবারের আয়োজনের উল্লেখযোগ্য দিক সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এবারের আয়োজনের অনেক কিছু আমার কাছে ভালো লাগছে। নতুন নতুন কিছু আইডিয়াও যোগ হয়েছে। শুনেছি এগুলো আগের আয়োজনে ছিল না। তবে বলতে পারি সব কিছু ভালো হচ্ছে। তাদের দিয়ে নাচ করানো হচ্ছে, অভিনয় করানো হচ্ছে। যদিওবা আগে অভিনয়ের পর্ব ছিল। তবে এবারের অভিনয়ের পর্বটা পুরোপুরি ভিন্ন। এবার বাইরে গিয়ে অভিনয় করতে হচ্ছে। যা দিয়ে একজন প্রতিযোগীর কতটুকু অভিনয় গুণ আছে, তা সহজেই প্রতীয়মান হবে।’ এবার মুখ খুললেন গায়ক কাম অভিনেতা তাহসান খান। তিনি নিজের জনপ্রিয়তা ও সফলতার পিছনের গল্প তুলে ধরেন। তার ভাষ্যে, ‘সব কিছুর পিছনে রয়েছে পরিশ্রম ও সততা। কারণ পরিশ্রমটা শুরু হয়েছিল আমার বয়স যখন ছয়। তখন গান শেখা শুরু করি। শিশু একাডেমি থেকে যখন ছায়ানটে কিবোর্ড বাজানো শুরু করলাম, তখন প্রতিদিন তিন থেকে চার ঘণ্টা বাজাতাম। ওই যে শ্রম দিয়েছি, সেই সুফল কিন্তু ভোগ করছি এখন।’ নতুন যারা মিডিয়াতে আসবেন, তারা তারকা হতে আসবেন নাকি নিজেকে প্রমাণ করতে আসবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একেকজন একেক কারণে মিডিয়াতে আসবেন। স্থায়িত্বটা নির্ভর করবে আসলে কে কী কারণে এসেছেন। অনেকে হয়তো ফেসবুকে একটু দুষ্টামি করে ভাইরাল হয়ে গেলেন, তিনি হয়তো সবার কাছে পরিচিত হয়ে গেলেন। অনেকে বলবেন, তাকে কেন আমরা সেলিব্রেটি  বলছি। কিন্তু সে তো আর এক মাস পরে নেই ছয় মাস পরে নেই। তাই এটা নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই। আসলে কে থাকবে কে থাকবে না, এটা দর্শকই বলবেন বা তার কাজের মাধ্যমে বিচার করে নেবেন। আমরা বলার কেউ না। তবে আমার পরামর্শ হলো—কাজের প্রতি প্রেম নিয়ে যদি কেউ বিনোদন ইন্ডাস্ট্রিতে আসেন, মিডিয়াতে আপনি যে পরিসরেই কাজ করেন না কেন, আপনি একদিন মানুষের কাছে পৌঁছাবেন ঠিকই। তাই কাজ ভালোবেসে করা উচিত। আসলে অর্জনটা সেখানেই। তখন স্থায়িত্বটা থাকবে। তাই নিজেকে প্রমাণ করার জন্য না, ভালোবাসা নিয়ে কাজ করতে হবে।’ এবারের আয়োজনের উল্লেখযোগ্য দিক প্রসঙ্গে তাহসান বলেন, ‘এবারের শো’টা প্যাক্ট হচ্ছে। আগের বার অনেক এপিসোড ছিল। তার আগের আয়োজনগুলোতেও তাই ছিল। বেশি এপিসোড হলে মানুষের আকর্ষণ কমে যায়। আমাদের গোল কিন্তু দুটো, আমার দিক থেকে। একটা হলো—বিচারক হিসেবে একজনকে বিজয়ী বেছে নেওয়া, যে বাংলাদেশে একজন তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করবে। দ্বিতীয়ত হলো—একটা ভালো রিয়েলিটি টিভি শো তৈরি করা। কারণ আমরা এখন টিভি শো দেখার কথা চিন্তা করলে ইন্ডিয়ান রিয়েলিটি শোয়ের কথা ভাবব। আমাদের দেশে একটা রিয়েলিটি টিভি শো কি হিট হয় বা হয়েছে? লাক্সের এই শো’টা বিগত বছরগুলো থেকে একটা জায়গা ধরে রেখেছে। তাই এই শোটাকে আরও বেশি কীভাবে হিট করানো যায়, সেই দিকটাও দেখা হচ্ছে। এবারের চ্যালেঞ্জগুলো খুবই বুদ্ধিদীপ্ত চ্যালেঞ্জ। এরকম একটা অভিনয় পর্ব ছিল। সেখানে স্ক্রিপ্ট ছাড়া এবং সিচ্যুয়েশনের ওপর অভিনয় করতে হয়েছে রাস্তায় মানুষের সঙ্গে। স্ক্রিপ্ট দিয়ে অভিনয় করা সহজ, কারণ আমার সহশিল্পী জানেন আমি কী বলব, আমিও জানি তিনি ডায়ালগে কী বলবেন। কিন্তু যখন স্ক্রিপ্ট ছাড়া অভিনয় করতে হয়, তা সত্যিই কঠিন। এই পর্বে সহজেই বোঝা গেছে কার কেমন প্রতিভা আছে। বেশির ভাগই তো অভিনয় করতে চায়, তাই অভিনয় জগতে যেটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তা হলো উপস্থিত বুদ্ধি।’ তার কথার রেশ ধরে এবার নিজের অভিজ্ঞতার ঝুলিটা খুললেন চিত্রনায়ক আরেফিন শুভ। তার মতে, ‘বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করাটা খুব কঠিন। সেখানে আপনি চাইলেও নরম হতে পারবেন না। এই জায়গাটাতে আমার খুব অসুবিধা হচ্ছে। যদি আমি কাজের প্রতি সত্ থাকি, তাহলে আমাকে সুবিচার করতে হবে। আর তা করতে গিয়ে অনেকের মনে হয়তো কষ্ট দিয়ে ফেলছি। সেটা কারো কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়। এটা আমার দায়িত্বের কারণে এটা করতে হচ্ছে। কেননা আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যেন আমি আমার সত্ ভাবনা ও জ্ঞান দিয়ে বিচার করি।’ প্রতিযোগিতায় যারা টিকে আছে, তাদের সম্পর্কে শুভ বলেন, ‘যারা এখনো টিকে আছে তাদের স্বাগত জানাই। এতগুলো মেয়ের মাঝ থেকে এখনো তারা আছে। তাদের প্রতি একটা অনুরোধ যে, এ পর্যন্ত আসা মানেই চূড়ান্ত কিছু নয়। সামনে তাদের আরও প্রতিভার প্রকাশ ঘটাতে হবে। সামনে এগোতে হবে নিজের লক্ষ্য ঠিক রেখে।’ ‘দেখিয়ে দাও অদেখা তোমায়’ থিম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। গতানুগতিক সৌন্দর্যের বাইরে গিয়ে ভিতরের সৌন্দর্যটাকে তুলে ধরা। শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যটাই সবকিছু নয়। এবারের আয়োজনের বিশেষ দিক হলো—সবাই তরুণ। এটা খুব তারুণ্যদীপ্ত বিষয় হয়েছে। আসলে বলা যায়, এখানে নতুনের জয়গান। শুধু প্রতিযোগীরা নয়, বিচারক ও শো নির্মাতারাও তরুণ। এ যেন নতুনের জয়গান।’

 

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৫ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১২:০২
আসর৪:৩০
মাগরিব৬:১৯
এশা৭:৩২
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৬:১৪
পড়ুন