যে কথা হয়নি বলা
০৫ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
যে কথা হয়নি বলা
নিজেদের অনন্য গায়কী দিয়ে বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনকে যারা সমৃদ্ধ করেছেন, তাদের মধ্যে মিষ্টি কণ্ঠের অধিকারী আঁখি আলমগীরের অবদানও স্বীকৃত। বছরের প্রায় পুরোটো সময়ই স্টেজ শো নিয়ে ব্যস্ত থাকার পাশাপাশি নতুন নতুন গানেও পাওয়া যায় তাকে। সোমবার রাতে এক আড্ডায় দেখা হলো গুণী এই শিল্পীর সঙ্গে। আড্ডার ফাঁকে ফাঁকে কথা হলো নানা বিষয়ে। লিখেছেন অভি মঈনুদ্দীন

 

এখনো অনেকেই রাজধানীর উত্তরাকে নিরিবিলি এক পল্লী ভাবেন। সেই নিরিবিলি পল্লীতেই বসবাস করেন আঁখি আলমগীর। মুঠোফোনে দুপুরেই সেদিন কথা হয়েছিল রাতে দেখা হবে তার নতুন গান ‘টিপ টিপ বৃষ্টি’র ইউটিউবে প্রকাশনার অনুষ্ঠানে। তার কিছুক্ষণ আগেই তার বাবা নায়ক আলমগীরের সঙ্গে দেখা হলো বিএফডিসিতে। আলমগীর তখন তার মুক্তি প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘একটি সিনেমার গল্প’-এর টাইটেলের কাজ করছিলেন। রাতে যখন দেখা হলো আঁখি আলমগীরের সঙ্গে, শুরুতেই একটি কথা বলতেই হলো যে, আজ এমনই একটি দিন, যে দিনে বাবা ও মেয়ের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। ঘড়ির কাঁটায় যখন রাত ৯টা, তখন রাজধানীর নিকেতনের ধ্রুব মিউজিক স্টেশনের কার্যালয়ে আঁখির সঙ্গে দেওয়া আড্ডায় বিরতি টেনে প্রকাশনা উত্সবে যোগ দিলাম। তখন বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের আরেক মেধাবী শিল্পী আসিফ আকবরও উপস্থিত। কারণ আসিফ ও আঁখি আলমগীরের গাওয়া ‘টিপটিপ বৃষ্টি’ গানেরই প্রকাশনা উত্সব। ইমতুর উপস্থাপনায় প্রকাশনা উত্সবে গানটি প্রসঙ্গে কথা বললেন গানটির গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক তরুণ মুন্সী, আসিফ আকবর, আঁখি আলমগীর, ভিডিও নির্মাতা ভাস্কর জনি, কণ্ঠশিল্পী সোহেল মেহেদী ও ধ্রুব মিউজিক স্টেশনের কর্ণধার ধ্রুব গুহ। আঁখি আলমগীর বলেন, ‘টিপটিপ বৃষ্টি একটি রোমান্টিক গান। ভিডিওটা একটু বেশিই রোমান্টিক। খুব অল্প সময়ের মধ্যে জনি চমত্কার একটি মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেছেন। গানের কথা, সুর, সংগীত মন ছুঁয়ে যাওয়ার মতোই। যাদের মনে প্রেম-রোমান্স আছে তাদের জন্যই এই গান।’ প্রকাশনা অনুষ্ঠান শেষে আঁখি আলমগীরের সঙ্গে সেই নিরিবিলি পল্লীর দিকে রওয়ানা হলাম। গল্পে গল্পে আঁখি জানালেন চলতি মাসেই তার স্টেজ শো আছে ওমান, কাতার ও কোরিয়ায়। স্কুল-কলেজ জীবনে অনেক ভালো বন্ধুই ছিল আঁখির। তবে এখন সেই বন্ধুর তালিকায় শীর্ষে আছেন শুধু দুজন মানুষ। কারা তারা? জবাবে আঁখি বলেন, ‘আমার দুই মেয়ে স্নেহা এবং আরিয়াই আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। দুজনের সঙ্গে আমি সবকিছু শেয়ার করি।’ আঁখির তখন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। ঢাকায় এলেন তখন ওস্তাদ গোলাম আলী। তার শো শেষে আলমগীরের নিমন্ত্রণে তার বাসায় গেলেন তিনি। পরেরদিন আঁখির ভূগোল পরীক্ষা। সেই সময় আঁখিকে কয়েকটি গান শোনাতে হলো গোলাম আলীকে। আঁখির কণ্ঠে গান শুনে মুগ্ধ হলেন তিনি। কেমন লাগল আঁখির গান সেদিন তিনি তার কিছুই বলেননি। পরেরদিন গোলাম আলী তার নিজের ব্যবহূত অনেক সাধের হারমোনিয়ামটি আঁখিকে উপহার দিলেন। এই উপহার পেয়ে ভাষা হারিয়ে ফেলেছিলেন আঁখি। আঁখি বুঝে নিয়েছিলেন কতটা ভালো লেগেছিল তার গান গোলাম আলীর। সেই হারমোনিয়াম এখনো বেশ যত্নে রেখে দিয়েছেন তিনি। গল্পে গল্পে আমরা তখন এয়ারপোর্টের কাছাকাছি। এয়ারপোর্টের রানওয়ে দেখিয়ে আঁখি তখন বলছিলেন, ‘একটা সময় আমি, ইমন (সালমান শাহ)-সহ আমার আরও কয়েকজন বন্ধুু মিলে এখান থেকে বিমান উঠানামা দেখতাম।’ সালমান শাহ কী আপনার বন্ধু ছিল? জবাবে আঁখির কাছ থেকে জানা গেল আঁখির মা খোশনূরের কাছ থেকেই প্রথম সোহানুর রহমান সোহান সালমান শাহের কয়েকটি স্থির চিত্র হাতে পেয়ে পছন্দ করেন। তারপর আঁখির মা’ই সোহানের সঙ্গে সালমান শাহকে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর বাকিটা তো ইতিহাস। গন্তব্যে ফেরার তাড়া তখন আঁখির এবং আমার। আজকের গল্প এখানেই শেষ, কিন্তু আবার কথা হবে আঁখির সঙ্গে অন্য কোনো না জানা বিষয়ে।

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৫ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১২:০২
আসর৪:৩০
মাগরিব৬:১৯
এশা৭:৩২
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৬:১৪
পড়ুন