দুই পর্দার অনবদ্য শিল্পী
০৫ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
দুই পর্দার অনবদ্য শিল্পী
 

ছোটপর্দাতেই অভিনয়ে বেশি ব্যস্ত সময় পার করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কিংবদন্তি অভিনেতা আবুল হায়াত। তবে প্রায়ই তাকে চলচ্চিত্রেও অভিনয়ে দেখা যায়। এরমধ্যে খুলনার পাইকগাছায় তৌকীর আহমেদ পরিচালিত ‘ফাগুন হাওয়ায়’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ঢাকায় ফিরেছেন। বিস্তারিত জানাচ্ছেন নূপুর বন্দোপাধ্যায়

 

টিভি নাটকের মতোই চলচ্চিত্রেও আবুল হায়াতের এক স্বর্ণালি অধ্যায় রয়েছে। তিনি যত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন, বলা যায় সব ক’টি চলচ্চিত্রই দর্শকনন্দিত হয়েছে। ঋত্বিক ঘটকের নির্দেশনায় ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ চলচ্চিত্রে আবুল হায়াত প্রথম অভিনয় করেন। এরপর তিনি রাজেন তরফদারের ‘পালংক’, সুভাষ দত্তের ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’, ‘বলাকা মন’, বেবী ইসলামের ‘চরিত্রহীন’ ও মাজেদ মল্লিকের ‘রক্ত শপথ’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এসব চলচ্চিত্রে অনেকটাই অনুরোধে অভিনয় করেছিলেন তিনি। তবে কাজী জহিরের ‘বধূ বিদায়’ চলচ্চিত্রে তিনি পরিচালকের সর্বোচ্চ আগ্রহের কারণেই তিনি অভিনয় করেন। এরপর তিনি চাকরি করতে লিবিয়ায় চলে যান। লিবিয়া থেকে ফেরার পর আয়েত আলী পাটোয়ারীর ‘সূর্য সন্তান’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তবে আবুল হায়াত জানান, পুরোপুরি পেশাগত মনোভাব নিয়ে তিনি সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এরপর থেকেই তিনি চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় করেন পেশাগতভাবে। এই সময়ের গুণী ও মেধাবী চলচ্চিত্র নির্মাতা তৌকীর আহমেদের নির্দেশনায় এর আগে আবুল হায়াত চারটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন। এরমধ্যে তিনি পঞ্চমবারের মতো তৌকীর আহমেদের নির্দেশনায় ‘ফাগুন হাওয়ায়’ চলচ্চিত্রের কাজ শুরু করেছেন। এই চলচ্চিত্রে তিনি তিশার দাদুর (একজন ডাক্তার) চরিত্রে অভিনয় করছেন। আবারও তৌকীরের নির্দেশনায় চলচ্চিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে আবুল হায়াত বলেন, ‘তৌকীরের নির্দেশনায় এর আগেও বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছি। নিঃসন্দেহে একজন মেধাবী চলচ্চিত্র নির্মাতা তৌকীর। যথারীতি খুবই গুছানো একটি ইউনিট থাকে। যারাই কাজ করেন সবাই বেশ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করেন। আমি শুটিংয়ে অংশগ্রহণ করায় সবাই বেশ খুশি। দারুণ একটা মুড নিয়ে কাজ করছি। আশা করছি, এটি একটি চমত্কার চলচ্চিত্র হবে।’ আবুল হায়াত খুলনায় গত ১৩ ও ১৪ মার্চ জয়ের নির্দেশনায় ধারাবাহিক নাটক ‘খানদানি পরিবার’-এর শুটিংয়ে অংশ নেন। তৌকীর আহমেদের নির্দেশনায় আবুল হায়াত প্রথম ‘জয়যাত্রা’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এরপর তিনি তৌকীরের নির্দেশনায় ‘দারুচিনি দ্বীপ’, ‘রূপকথার গল্প’ এবং ‘অজ্ঞাতনামা’য় অভিনয় করেন। এদিকে আবুল হায়াত এবারই প্রথম কলকাতার কোনো চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেন। সম্রাট দাসের গল্প, চিত্রনাট্য ও নির্দেশনায় ‘গিন্নী’ নামক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। এরমধ্যে কলকাতার ইচ্ছাপুরে এই চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন। চলচ্চিত্রটিতে আবুল হায়াত গল্পের প্রোটাগোনিস্ট একাকী বৃদ্ধ দীপক বাবুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। আবুল হায়াত নির্দেশিত প্রথম নাটক ‘হারজিত্’। সর্বশেষ তিনি চ্যানেল আইতে প্রচারিত ‘তিন পাগলে হলো মেলা’ ধারাবাহিক নাটকটি নির্মাণ করেন। বেশ দর্শকপ্রিয়তা নিয়েই ধারাবাহিকটির প্রচার এরমধ্যে শেষ হয়েছে। আবার কবে নতুন নাটক নির্মাণ করবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে আবুল হায়াত বলেন, ‘হয়তো ঈদে নাটক নির্মাণ করতে পারি। এখনো তেমন কোনো প্রস্তুতি নিইনি।’ সবার প্রিয় আবুল হায়াতের জন্ম ওপার বাংলার মুর্শিদাবাদে। ২০১২ সালে ৫৬ বছর পর নিজ জন্মস্থানে গিয়েছিলেন সস্ত্রীক। প্রায় পাঁচ যুগ পর নিজ জন্মস্থানে গিয়ে এক অপার আনন্দে মেতে উঠেছিলেন তিনি। দেখা মিলেছে চাচাতো, খালাতো, ফুফাতো ভাই-বোনসহ ফুফুর সঙ্গেও। সেই মুহূর্ত, সেই প্রিয় সময় যেন আজও চোখে লেগে আছে আবুল হায়াতের। জন্মস্থানের প্রতি প্রতিটি মানুষেরই এক অন্যরকম টান কাজ করে। তাই আবুল হায়াত বলেন, ‘জানি না আবার কবে যেতে পারব। তবে আবারও যেতে চাই। নিজের জন্মস্থান বলে কথা, তার সঙ্গে কী কোনোকিছুর তুলনা চলে!’ একজন আবুল হায়াত বিগত প্রায় ৩৭ বছর ধরে একই রুটিনে চলাফেরা করার চেষ্টা করছেন। প্রতিদিন সকাল সাতটায় ঘুম থেকে ওঠেন তিনি। ঘুম থেকে উঠে দুই গ্লাস পানি, একটি বিস্কুট এবং দুধ-চিনি ছাড়া গ্রিন টি। এরপর কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে চোখ বুলান তিনি। দেশের ও দেশের বাইরের খবর পড়ে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করেন। সকাল ঠিক নয়টায় ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েন কাজের উদ্দেশে। কাজ শেষে বাসায় ফিরে হাতের কাজ শেষ করে রাতের খাবার খেয়ে রাতের ঘুমটা প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে পারেন না। তবে চেষ্টা করেন তাড়াতাড়ি ঘুমানোর। প্রকৃত শিল্পী হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে মঞ্চাভিনয় চর্চা কতটা জরুরি বলে আপনি মনে করেন? আবুল হায়াত বলেন, ‘অনেক বেশি জরুরি। মঞ্চ হলো অভিনয়ের আঁতুড়ঘর। এখান থেকে অভিনয় শিখে যাওয়া শিল্পীরা জীবনের যেকোনো পর্যায়ে গিয়ে ভালো অবস্থান করতে পারেন বলেই আমি মনে করি। একজন শিল্পীর জন্য মঞ্চ হলো আদর্শ জায়গা। কারণ, মঞ্চে শুধুই অভিনয় শেখানো হয় না। এখানে নিয়ম, শৃঙ্খলাসহ সবই শেখানো হয়। তবে মঞ্চ ছাড়াও যে ভালো শিল্পী তৈরি হয় না, সেটা বলাটাও কিন্তু ঠিক নয়। এখন অনেকেই মঞ্চে কাজ না শিখেও ভালো অভিনয় করছেন এবং এ জায়গাটায় নিজেকে ভালোভাবে মেলে ধরছেন। তারা হয়তো জন্মগতভাবে প্রতিভাবান।’

ছবি মোহসীন আহমেদ কাওছার

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৫ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১২:০২
আসর৪:৩০
মাগরিব৬:১৯
এশা৭:৩২
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৬:১৪
পড়ুন