‘শেষ সংলাপ’ হয়ে ওঠে সবসময়ের গল্প
০৫ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
‘শেষ সংলাপ’ হয়ে ওঠে সবসময়ের গল্প

g মা হ বু ব  আ ল ম

 

যুগে যুগে শাসক দল তাদের নিজেদের শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে ব্যবহার করেছেন নানা কৌশল। কখনো এই কৌশল হয়েছে জনকল্যাণকর, আবার কখনো তা হয়েছে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য। ক্ষমতায় টিকে থাকার ঢাল হিসেবে তারা ব্যবহার করে অস্ত্র, আইন ও ধর্মকে। যেখানে যা প্রয়োজন। সারা বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতির বর্ণনায় যা উঠে আসে। দেশে দেশে যা ঘটে চলেছে। শাসকেরা নিজেদের শাসনকার্য পরিচালনার জন্য কোথাও প্রয়োগ করছেন অস্ত্র, কোথাও আইন আবার কোথাওবা ধর্ম। এক্ষেত্রে ধর্মের দোহাই দিয়ে আইনের সুকৌশলে ব্যবহার করা হচ্ছে অস্ত্র। সিরিয়া, আফগানিস্তান, ইরান, ইরাক এবং সর্বোপরি মিয়ানমারেও তাই হচ্ছে। তবে এসবই ঘটে যাচ্ছে শুধু আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হওয়ার কারণে। ত্রয়োদশ শতাব্দী থেকে ষোড়শ শতাব্দীর প্রথম ভাগ পর্যন্ত মিসরেও তাই ঘটত। মিসরের এই ঘটনা উঠে আসে মিসরীয় নাট্যকার হুমায়ুন তাওফিক আল-হাকিমের ‘সুলতানুজ জান্নাম’ নাটকে। বাংলায় নাটকটির অনুবাদ করেছেন ড. সৈয়দ জামিল আহমেদ ও ম. সাইফুল আলম চৌধুরী। অনুবাদ নাটক যেন ঠিক অনুবাদ নয়। তাদের বাক্য ব্যবহারের সাহিত্য গুণ অতি স্পষ্ট। অনুবাদেও যেন মৌলিকত্বের ছাপ। সময় প্রযোজিত এই চমত্কার নাটকটির বাংলা নামকরণ করা হয় ‘শেষ সংলাপ’ আর নির্দেশনা দেন দলের অন্যতম কাণ্ডারী আকতারুজ্জামান। ‘শেষ সংলাপ’ হয়ে ওঠে সবসময়ের গল্প।

মিসরের এক সুলতান উত্তরাধিকারী হিসেবে তার পালিত পুত্র সন্তানকে সেনাধ্যক্ষকে মনোনীত করেন। যিনি ছিলেন একজন ক্রীতদাস। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত মৃত্যুকালে তিনি তার মসনদের উত্তরাধিকারী সুলতানকে ক্রীতদাসত্ব থেকে মুক্তি দিয়ে যেতে পারেননি। পরবর্তীতে সুলতানের উত্তরাধিকারীত্বের বৈধতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ দেখা দেয় এবং সৃষ্টি হয় নানা জটিলতার। শহরের একজন দাস ব্যবসায়ী তাকে মৃত সুলতানের কাছে বিক্রি করেছিলেন। মূলত সেই দাস ব্যবসায়ীর স্বীকারক্তিতেই বাঁধে সব গণ্ডগোল। রাজ্যের উজির তার শিরোচ্ছেদের জন্য জল্লাদকে নির্দেশও দেন। মসজিদে ফজরের আজান শোনা গেলেই তার মণ্ডু ধর থেকে আলাদা করে ফেলা হবে। ঘটনাচক্রে সেদিন মসজিদের আজান শোনা যায় না। ফজরের ওয়াক্ত পার হয়ে যায়। বেঁচে যায় সেই দাস ব্যবসায়ী। জনমনে সুলতানের ক্রীতদাসত্ব নিয়ে আরও বেশি শোরগোল দেখা দেয়। তাকে দাসত্ব থেকে মুক্তি দিতে তোলা হয় নিলামে। শর্ত সাপেক্ষে শুরু হয় নিলামের ডাক আর নিলামে সর্বোচ্চ দিনার দিয়ে তাকে কিনে নেন শহরের একজন নারী। যিনি শহরের লোকের কাছে বেশ্যা বলে পরিচিত। নিলামের চুক্তি থাকে সুলতানকে কিনে নেওয়ার পরপরই আরও একটি চুক্তি পত্রে তাকে স্বাক্ষর করতে হবে। যে চুক্তিপত্র প্রমাণ করবে যে নতুন মালিক সুলতানকে মুক্ত করে দিচ্ছেন। এদিকে সুলতানের নতুন মালিক সেই নারী তাকে মুক্ত করে দিতে নারাজ। পরে অবশ্য কাজী, উজির এবং সুলতানের নানা যুক্তি তর্কের কাছে তিনি হেরে যান। কিন্তু তিনি শর্ত দেন যে সুলতানকে তার বাড়িতে একরাতের জন্য থাকতে হবে। সুলতান সেই শর্ত মেনে নিলেও শহরের লোকজন তাতে ছিঃ ছিঃ করে। সেই রাতে কথিত বেশ্যা নারী বর্ণনা করে তার অতীত ও বর্তমান। বর্ণনা করে তার শিল্প সাহিত্যের প্রতি অনুরাগের কথা।

কথা হলো, নাটকে উজির সুলতানকে অস্ত্র প্রয়োগের পরামর্শও দিয়েছিলেন কিন্তু সুলতান সে পথে না হেঁটে কাজীর পথে হাঁটলেন। মেনে নিলেন আইনের পথ। সারা বিশ্ব বোধহয় এখন তার উল্টোটাই করছে। সবাই বল প্রয়োগে ব্যস্ত। যাই হোক, নাটকের শুরুতেই দাস ব্যবসায়ী ও জল্লাদের চরিত্রাভিনয়ে তোফায়েল সরকার ও ফখরুল ইসলাম মিঠু যে পরিচ্ছন্ন অভিনয় করছিলেন তার বিচ্ছেদ ঘটল সুলতানের আগমনে। সুলতানের সংলাপ প্রক্ষেপণের গতিময়তা যে শ্রুতি মধুরতা নষ্ট করছিল তার টের পাওয়া যাচ্ছিল সারাক্ষণই। তবে তার আঙ্গিক অভিনয় সত্যিই প্রশংসনীয়। আবার সুলতানের সঙ্গে শহরের সেই বেশ্যা নারীর দৃশ্যটি অনেকটা ক্লান্তিকর মনে হচ্ছিল নিচু স্বরে সংলাপ বলার কারণে। হঠাত্ই ছন্দ পতন হলে যা হয়। এছাড়া কাজী চরিত্রে রিয়াজ মাহমুদ জুয়েল ও উজির চরিত্রে নির্দেশক আকতারুজ্জামান বেশ ভালো অভিনয় করেছেন। নাটকের সুন্দর মঞ্চ করেছেন দেশের গুণী মঞ্চ পরিকল্পক ফয়েজ জহির এবং পোশাক পরিকল্পনা করেছেন আমিনুর রহমান মুকুল। সবিশেষে সম্মিলিত এক নান্দনিক প্রচেষ্টা সময় থিয়েটারের শেষ সংলাপ।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৫ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১২:০২
আসর৪:৩০
মাগরিব৬:১৯
এশা৭:৩২
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৬:১৪
পড়ুন