তালেবানের গলায় আইএসের কোপ!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক১৫ জুন, ২০১৫ ইং
 

অনেকের ধারণা তালেবান ও আইএস উভয়েই যেহেতু জঙ্গি গোষ্ঠী সেহেতু উভয়ের মধ্যে ‘দোস্তি’ বিদ্যমান। কিন্তু এই ধারণার বিপরীতে এটাই প্রমাণিত হলো যে তালেবান আর আইএসের মধ্যে ‘সাপে-নেউলে’ সম্পর্ক বিদ্যমান। কারণ এবার আইএসের মুখোমুখি পড়ে কচুকাটা হলো তালেবান যোদ্ধাদের একটি দল। আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী নানগারহার প্রদেশে একটি সেনাচৌকি দখল করতে গিয়েছিল একদল তালেবান। কিন্তু জঙ্গি হামলার জন্য তৈরি ছিল আফগান সেনা। তাই পাল্টা আক্রমণ শুরু হতেই পালাতে শুরু করে তালেবান সদস্যরা। সম্ভবত তালেবানের কাছে শক্তি পরীক্ষা দেয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে ছিল আইএস জঙ্গিরা। তালেবান সদস্যদের পালাতে দেখে তারা হামলা চালায় তাদের ওপর। ওই দলে যত তালেবান সদস্য ছিল সবাইকে আইএসে তার নিজস্ব স্টাইলে শিরশ্ছেদ করে হত্যা করে!

এপ্রিল থেকেই আফগানিস্তানে পরস্পরের প্রতি যুদ্ধ ঘোষণা করেছে আইএস ও তালেবান। ইরাকে জঙ্গি নেতা আবু বকর আল-বাগদাদির খিলাফতকে অবৈধ ও অনৈতিক হিসেবে ঘোষণা করে তাদের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনে আপত্তি জানায় তালেবান। অন্যদিকে আইএস আফগানিস্তানে সংগঠন বাড়ানোর চেষ্টায় প্রত্যন্ত প্রান্তগুলোতেও ব্যাপক প্রচার শুরু করে দেয়। ফলে তালেবানদের অনেকেই পুরনো দল ছেড়ে যোগ দেয় আইএসে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা প্রকৃতপক্ষে দুই জঙ্গি সংগঠনের মধ্যে এলাকা দখলের লড়াই। পাকিস্তানের সীমান্ত সংলগ্ন নানগারহার প্রদেশ থেকে তালেবানকে সরিয়ে সেখানে আইএসের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারলে আইএসের পাকিস্তানে ঢোকার পথ অনেকটাই সুগম হয়ে যাবে।

সোয়াট উপত্যকার মিঙ্গোরা শহরে ২০১২ সালে মালালা ইউসুফজাইকে মাথায় গুলি করে হত্যার চেষ্টা করার চক্রান্তে জড়িত ১০ ইসলামি কট্টরপন্থিকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া সত্ত্বেও অভিযুক্তদের আট জনকেই ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছিল বিবিসি। কিন্তু সেই দাবির প্রতিবাদ করে পাক প্রশাসন জানিয়েছে, মালালাকে হত্যার চক্রান্তে যুক্ত থাকা নিয়ে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া না গেলেও অন্য একাধিক নাশকতামূলক কাজের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এই আট জনকেই পাকিস্তানের বিভিন্ন সংশোধনাগারে আটক রাখা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, জঙ্গিদের মুক্তি পাওয়ার দাবি একেবারেই ভিত্তিহীন। পাকিস্তানের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এমনিতেই প্রতিদিন তালেবানের হামলায় অতিষ্ঠ পাকিস্তানবাসী। তার ওপর যদি আইএসের প্রবেশ ঘটে যায় তবে ব্যর্থ রাষ্ট্র হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে দেশ। তবে আইএসের সাথে তালেবানের বিরোধ পাক প্রশাসনের জন্য এক প্রকার স্বস্তির বার্তা বলা চলে। কারণ এরা যদি একে অন্যের বিরুদ্ধে লড়তে থাকে তা হলে একসময় নিজেরাই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে!

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৫ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন