ওবামার সমর্থনে আত্মবিশ্বাসী হিলারি
অলক বিশ্বাস১৩ জুন, ২০১৬ ইং
ওবামার সমর্থনে আত্মবিশ্বাসী হিলারি
ডেমোক্র্যাটিক দল থেকে হিলারি ক্লিনটন এবং রিপাবলিকান পার্টি থেকে এগিয়ে থাকা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে চলছে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের জরিপ। চলতি সপ্তাহে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান দলীয় সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে জরিপে এগিয়ে রয়েছেন হিলারি ক্লিনটন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মনোনয়ন দৌড়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি থেকে শেষ পর্যন্ত হিলারি ক্লিনটনকে মনোনীত বলে ধরে নেয়া হচ্ছে। দলীয় কনভেনশনে অতিনাটকীয় কিছু না ঘটলে হিলারিই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তার দলের পক্ষে। হিলারি ক্লিনটনের কাছে হেরে গেলেও ভারমন্টের গভর্নর বার্নি স্যান্ডার্স এখনো নিজেকে প্রত্যাহার করেননি। যে কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সাবেক ফার্স্টলেডিকে প্রার্থী বলা যাচ্ছে না এখনো। তবে বারাক ওবামার সমর্থন যেহেতু হিলারি পেয়েছেন সেহেতু অন্যথা ঘটার সম্ভাবনা খুব কম।

অন্যদিকে রিপাবলিকান দল থেকে প্রয়োজনীয় ডেলিগেট পেলেও এখনো চূড়ান্ত হয়নি প্রার্থী হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম। তবে শেষ পর্যন্ত হিলারি এবং ট্রাম্পের মধ্যেই হতে পারে মূল পর্বের লড়াই। ডেমোক্র্যাটিক পার্টি থেকে হিলারির মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি অনেকটাই নিশ্চিত। হিলারির সাথে কে হচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সেই আলোচনাই এখন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের কাছে।

সাবেক ফার্স্টলেডি হিলারি ক্লিনটন ডেমোক্র্যাটিক পার্টি থেকে প্রার্থী হওয়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন এক প্রকার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হয়তো মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন তিনি। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা লাস ভেগাসে যে বিতর্কে অংশ নিয়েছিলেন সেখানেও সমর্থকদের মন জয় করে নিতে সমর্থ্য হয়েছিলেন হিলারি। তখনো বোঝা যাচ্ছিলো না যে এতো সহজে মনোনয়ন দৌড়ে জেতা হবে না হিলারির। হিলারির মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় বার্নি স্যান্ডার্সের সাথে। বার্নি স্যান্ডার্স ইরাক যুদ্ধের পক্ষে হিলারির সমর্থন প্রকাশ ও লিবিয়া অভিযানের ক্ষেত্রে হিলারির বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে নিজের দিকে স্পটলাইট টেনে নেয়ার চেষ্টা করেন। হিলারি মার্কিন শ্রমিক স্বার্থবিরোধী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি সমর্থন করেন বলেও অভিযোগ করেন স্যান্ডার্স। তবে সবচেয়ে বেশি জল ঘোলা করার চেষ্টা করেন হিলারির ইমেইল বিতর্ককে উস্কে দিয়ে। তবে সব প্রতিকূলতা জয় করে ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের সমর্থন নিয়ে শেষ পর্যন্ত স্যান্ডার্সকে পেছনে ফেলে মনোনয়ন পেয়েছেন হিলারি ক্লিনটন। গত মঙ্গলবার ছয়টি রাজ্যের প্রাইমারির মধ্যে চারটিতেই জয়ী হন হিলারি। এর ফলে স্যান্ডার্সের মনোনয়ন পাওয়ার সব পথ বন্ধ হয়ে যায়। তবে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আর আশা না থাকলেও স্যান্ডার্স ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী প্রাইমারিতে প্রতিটি ভোটের জন্য তিনি লড়াই করবেন। আগামী জুলাইয়ে মনোনয়নের জন্য দলীয় সম্মেলনের আগে অনুষ্ঠিত হবে ঐ প্রাইমারি।

ডেমোক্র্যাটিক দল থেকে হিলারি ক্লিনটন এবং রিপাবলিকান পার্টি থেকে এগিয়ে থাকা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে চলছে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের জরিপ। চলতি সপ্তাহে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান দলীয় সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে জরিপে এগিয়ে রয়েছেন হিলারি ক্লিনটন। শুক্রবার প্রকাশিত বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও জরিপ সংস্থা ইপসোস প্রকাশিত জরিপের ফলাফলে ট্রাম্পের চেয়ে ১১ পয়েন্ট এগিয়ে ছিলেন হিলারি। সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত অনলাইনের মাধ্যমে জরিপটি পরিচালিত হয়। এতে দেখা যায়, ৪৬ শতাংশ সম্ভাব্য ভোটার হিলারির পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন, অপরদিকে ট্রাম্পের পক্ষে ছিলেন ৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ সম্ভাব্য ভোটার। ১৯ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার ভোট দেয়া থেকে বিরত ছিলেন। আর জরিপটিতে অংশ নিয়েছিলেন মোট ১,২৭৬ জন।

শুধু জনমত জরিপেই হিলারি এগিয়ে নেই, হিলারির পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল এনবিসির টু নাইট শো অনুষ্ঠানে এক সাক্ষাত্কারে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি থেকে মনোনয়ন পাওয়া হিলারির পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান ওবামা। হিলারির সাথে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলার জন্য তিনি স্যান্ডার্সকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে ওবামার সাথে স্যান্ডার্সের বৈঠকের পর ওবামা স্যান্ডার্সের প্রশংসা করেন। সেই সাথে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, হিলারিকে তিনি অপেক্ষাকৃত ভালো প্রার্থী হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছেন। আগামী কিছুদিন আমাদের সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। বার্নি স্যান্ডার্স ওবামার কথার অবাধ্য না হলেও শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সেই সাথে দলের ঐক্য জোরদার করতে শীঘ্রই হিলারির সাথে দেখা করার আশা প্রকাশ করেন তিনি। ২০০৮ সালে এই ওবামার সাথেই মনোনয়ন দৌড়ে পরাজিত হয়ে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল হিলারির। আর এবার ওবামাই তার পক্ষে জনমত গঠনের কাজ করছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতেও বেশ উদগ্রীব মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ওবামার এই সরাসরি সমর্থনের পর অনেকটা আত্মবিশ্বাসী হিলারি। তার ধারণা, ট্রাম্পকে তিনি বেশ শক্ত হাতেই মোকাবিলা করতে পারবেন। তিনি ওবামার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন, আপনাকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী গণসংযোগ চালানোর ব্যাপারে আমার যেন তর সইছে না!

মার্কিন নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, দল থেকে মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর জন সমর্থন বাড়তে শুরু করেছে হিলারির। ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো নিশ্চিত না হলেও এগিয়ে রয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন এই এগিয়ে থাকার কারণেই হয়তো তার জনসমর্থন আগের থেকে বাড়ছে। তবে অনেক বিশ্লেষকই মনে করেন, অনেক ক্ষেত্রে এর উল্টোটাও হয়েছে। মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে থাকার পর এখনো দলের মধ্যে ট্রাম্প বিরোধী মতবাদ জোরদার রয়েছে। বরাবরই বেফাঁস কথা বলে সমালোচনার জন্ম দিতে ভালোবাসেন ট্রাম্প। এই সমালোচনার কারণে তিনি কতটা গ্রহণযোগ্যতা হারাতে পারেন সেই বিষয়টিকে কখনোই গুরুত্ব দেন না ট্রাম্প। এসব কারণে অনেকে নীরবে আবার অনেকে প্রকাশ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধিতা করতে কুণ্ঠা বোধ করেন না।

‘সমালোচনা’ এবং ‘জয়’ এই দুটি শব্দ যদি কারো জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হয় বলা হলে সবার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামটি উঠে আসবে। অনেকেই ট্রাম্পের বিরোধিতা করেছেন, করছেন কিন্তু তাতে থামেনি ট্রাম্পের জয়রথ। ইতিমধ্যে তিনি দল থেকে মনোনয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডেলিগেট লাভ করেছেন। মেক্সিকান বংশোদ্ভূত একজন বিচারকের বিরুদ্ধে সমালোচনা করায় আইওয়ার স্টেট সিনেটর ডেভিড জনসন বলেছেন, আব্রাহাম লিংকনের দলে এমন একজন বর্ণবাদী নেতা থাকার কথা ভাবাই যায় না। শুধু জনসনই নয় বারবার মুসলিম বিরোধী বক্তব্য দিয়ে আমেরিকার মুসলিম ভোটারদের থেকে দূরে সরে গেছেন ট্রাম্প।

মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন বলছে, হিলারি মূলত রাজ্যটির রাজনীতিবিদদের সঙ্গে সম্পর্ককে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। তিনি সিনেটর বারবারা বক্সারসহ স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর তার জয়ের ব্যাপারটিতে ভরসা করছেন। এছাড়া তিনি ফোন ব্যাংক এবং টেলিভিশন বিজ্ঞাপনেও প্রচুর অর্থ খরচ করছেন। এমনকি একসময় নিজের স্বামীর বিরোধিতাকারী হিলারির জন্য যথেষ্ট সময় দিচ্ছেন জেরি ব্রাউনও। স্থানীয় নেতাদের থেকেও অনেক সমর্থন পাচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাবেক ফার্স্ট লেডি হিলারি যদি তার এই অবস্থান নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের এক পতাকার তলে রেখে কাজ করতে পারেন তাহলে তিনি জয় পাবেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধেও।

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন