মার্কিন কংগ্রেসেও মোদী ম্যাজিক
তালেব রানা১৩ জুন, ২০১৬ ইং
মার্কিন কংগ্রেসেও মোদী ম্যাজিক
৪৫ মিনিটের ভাষণে কংগ্রেস সদস্যদের মোহাচ্ছন্ন করে রাখেন নরেন্দ্র মোদী। কথা বলেন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ছাড়াও বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে। মোদীর বক্তৃতা জুড়ে ছিল ভারত-মার্কিন সম্পর্ক গভীর করার বার্তা। যেখানে উঠে এসেছে মহাত্মা গান্ধী থেকে মার্টিন লুথার কিং সকলেই। বোঝাতে চেয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র আর ভারত সব অর্থেই ‘স্বাভাবিক মিত্র’। কারণ, দুই দেশের সম্পর্কের ভিত হলো, গণতন্ত্র, ব্যক্তি স্বাধীনতা। দু’টি দেশের নাগরিক ও সমাজের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ গড়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে যোগ ব্যায়াম। কিন্তু ভারত এর জন্য কোনো মেধাস্বত্ব দাবি করেনি

দুই বছর আগে ভারতের সাধারণ নির্বাচনে দেখা গিয়েছিল মোদী ম্যাজিক। নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বেই বিশাল জয় নিয়ে ক্ষমতায় আসে বিজেপি। এরপর কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনেও দেখা গিয়েছিল   মোদীর হাওয়া। কিন্তু মাঝখানে কিছুটা স্তিমিত হয়ে গিয়েছিল মোদীর প্রভাব। অনেকেই বলেছিল, মোদী ম্যাজিক শেষ! কিন্তু সে কথা যেন আবারো মিথ্যা প্রমাণ হলো। নরেন্দ্র মোদীর সম্মোহনী ক্ষমতা যে শেষ হয়নি তা এবার ভারতের বাইরেও দেখালেন। তার কথার জাদুতে মুগ্ধ করলেন মার্কিন রাজনীতিকদেরও।

গত বুধবার মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেন নরেন্দ্র মোদী। কিছুটা বলেই থেমে যেতে হচ্ছিলো তাঁকে। কারণ, আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে হাততালি দিচ্ছেন মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যরা। অন্তত আটবার আইনপ্রণেতাদের তুমুল হর্ষধ্বনির কারণে মোদীর বক্তব্য বাধাগ্রস্ত হয়। যা এক প্রকারের রেকর্ড বলেই মনে করছেন কূটনীতিকরা। এক সময়ে যে দেশের ভিসা পাননি, সে দেশের আইনসভার যৌথ অধিবেশন এভাবেই মাতিয়ে দিলেন নরেন্দ্র মোদী।

প্রায় ৪৫ মিনিটের ভাষণে কংগ্রেস সদস্যদের মোহাচ্ছন্ন করে রাখেন নরেন্দ্র মোদী। কথা বলেন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ছাড়াও বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে। মোদীর বক্তৃতা জুড়ে ছিল ভারত-মার্কিন সম্পর্ক গভীর করার বার্তা। যেখানে উঠে এসেছে মহাত্মা গান্ধী থেকে মার্টিন লুথার কিং সকলেই। বোঝাতে চেয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র আর ভারত সব অর্থেই ‘স্বাভাবিক মিত্র’। কারণ, দুই দেশের সম্পর্কের ভিত হলো, গণতন্ত্র, ব্যক্তি স্বাধীনতা। দু’টি দেশের নাগরিক ও সমাজের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ গড়ে উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে যোগ ব্যায়াম। কিন্তু ভারত এর জন্য কোনো মেধাস্বত্ব দাবি করেনি। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩০ লাখ ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। বিভিন্ন সংস্থার উচ্চপদে, শিক্ষাক্ষেত্রে, বিজ্ঞানে, অর্থনীতিতে, চিকিত্সাবিদ্যায়, মহাকাশচারী হিসেবে তারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে বলে জানান মোদী। অনেক মার্কিনি বিশ্বাস করেন, ভারতের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থও রক্ষিত হবে। এই লক্ষ্যে দুই দেশকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে।

বক্তব্যে মোদী বলেন, ভারত মহাসাগর অঞ্চলে ভারত এর মধ্যেই নিজের দায়িত্ব পালন করছে। ভারত-মার্কিন সম্পর্ক প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগর এলাকায় শান্তি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এর জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে একবিংশ শতাব্দীর উপযুক্ত হয়ে উঠতে হবে বলে মনে করেন নরেন্দ্র মোদী।

মোদীর বক্তব্যের বেশির ভাগ অংশজুড়েই ছিল নিরাপত্তা ইস্যু। তিনি বলেন, এশিয়ায় কোনো সার্বিক নিরাপত্তা পরিকাঠামো গড়ে না ওঠায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সন্ত্রাসের ক্ষেত্রটি ক্রমেই বাড়ছে। নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে আসছে। বিংশ শতাব্দীর নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর পক্ষে এর সঙ্গে পেরে ওঠা সম্ভব নয়। ভারত-মার্কিন সহযোগিতা এই ক্ষেত্রে নতুন আলো দেখাতে পারে। মোদী বলেন, সন্ত্রাস আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় হুমকি। লস্কর-ই-তৈয়বা, তালেবান বা আইএস নানা নামে ভারতের পশ্চিম থেকে আফ্রিকা পর্যন্ত অঞ্চলে জঙ্গিবাদের থাবা বিস্তৃত হয়েছে।

সন্ত্রাসবাদ দমনে আমাদের মধ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্যের বিনিময় আরও বাড়াতে হবে। যারা সন্ত্রাসকে আশ্রয়, প্রশ্রয় দিচ্ছেন তাদের একঘরে করতে হবে। তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাসের সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই। সকলকে এক হয়ে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। ভারতের এনডিটিভি চ্যানেল জানায়, মোদী তাঁর ভাষণে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের যৌক্তিকতা বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামার সঙ্গে তাঁর মতৈক্য হওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

কংগ্রেসে দেয়া ভাষণে মোদী যে বাজিমাত করেছেন তা স্বীকার করেছেন শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিকরাও। শুধু কংগ্রেস সদস্য নয় বরং মার্কিনিরাও মুগ্ধ মোদীর চমত্কার ভাষণে। ভারতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত রিচার্ড ভার্মা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘ভিশন’ কে স্বাগত জানায় যুক্তরাষ্ট্র। অন্যতম শক্তিধর দেশ হিসেবে ভারতের পরিবর্তনে আমরা ভারতে সহায়তা করতে সম্মত।

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী    পররাষ্ট্র মন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল বলেছেন, মোদীর সফরে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক যে নতুন মাত্রা পেয়েছে তা কূটনৈতিক সম্পর্কের ‘মোদী তত্ত্ব’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রীরা এর আগে বহুবার যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছেন। কিন্তু মোদীর এবারের সফর প্রকৃতপক্ষে ‘ঐতিহাসিক’। তার মতে, মার্কিন কংগ্রেসে মোদী ‘জাদু’ এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রে অনেক দিন থাকবে।

মার্কিন কংগ্রেসম্যানরাও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ক্যাপিটল হিলে মোদীর বক্তব্যের পর। কংগ্রেসম্যান রোডনি ডেভিস বলেছেন, কংগ্রেসে অসাধারণ বক্তব্য দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। জঙ্গিবাদকেই তিনি ভাষণে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। কংগ্রেসম্যান পল কুক বলেন, চমত্কার ভাষণ দিয়েছেন মোদী। আমি সত্যিই অভিভূত। আর কংগ্রেসওম্যান ক্যাথি ক্যাস্টরের মতে, মোদীর বক্তব্য ছিল উদ্দীপনামূলক। বিশেষ করে তিনি আমাদের দুই দেশের অংশীদারিত্ব নিয়ে কথা বলেছেন। কংগ্রেসম্যানদের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা বলে দেয় এবারের যুক্তরাষ্ট্র সফরে কতটা দাপট দেখিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। আর বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের সফরে নরেন্দ্র মোদী নতুন কূটনৈতিক ধারার সৃষ্টি করেছেন।

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন