ইউরোপীয় ইউনিয়নের দু’মুখো নীতি
শফিকুর রহমান রয়েল১৩ জুন, ২০১৬ ইং
ইউরোপীয় ইউনিয়নের দু’মুখো নীতি
উপায়ান্তর না দেখে ইসরাইলকে চাপে ফেলতে বয়কট, ডাইভেস্টমেন্ট  এন্ড স্যাঙ্কশানস (বিডিএস) আন্দোলন গড়ে উঠেছে ফিলিস্তিনে, আর এটি চিহ্নিত হচ্ছে ফিলিস্তিন নেতৃত্বাধীন একটি মানবাধিকার তত্পরতা হিসেবে। কিন্তু ইসরাইল কি দমে যাওয়ার পাত্র? মোটেই নয়। সম্প্রতি জেরুজালেমে বিডিএস আন্দোলন মোকাবিলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত আলোচনাসভাকে কেন্দ্র করে এক ছাদের নিচে সমবেত হয়েছিল কয়েকশ’ ইসরাইলি এবং তাদের সমর্থকরা। স্টপ দ্য বয়কট শিরোনামের আলোচনাসভায় বক্তাবৃন্দ (তাঁদের মধ্যে মার্কিন কৌতুকাভিনেতা রোজিয়ান বারও ছিলেন) আলোচনা করেছেন বিডিএস আন্দোলন মোকাবিলার বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে। ইসরাইলে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত লার্স ফাবোর্গ-এন্ডারসন এতে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দিতে গিয়ে দৃঢ়কণ্ঠেই উচ্চারণ করেন, ‘ইসরাইলি বসতিসামগ্রী ইউরোপে অভ্যর্থিত। ইইউ বিডিএস বিরোধী। আমাদের নীতি এর সম্পূর্ণ বিপরীত— ইসরাইলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা বজায় রাখা এবং এটি নতুন করে বলার প্রয়োজন পড়ে না, রেকর্ডই প্রমাণ দেয়।’

ইউরোপীয় ইউনিয়ন হচ্ছে ইসরাইলের সর্ববৃহত্ বাণিজ্য অংশীদার, ২০১৪ সালে যার পরিমাণ ছিল ৩০ বিলিয়ন ইউরো। সবচে’ গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অংশীদারগুলোরও একটি। দখলকৃত সব ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ইসরাইলি বসতিগুলোয় উত্পাদিত পণ্যের মোড়ক আচ্ছাদনের বিষয়ে নীতিমালা জারির মাত্র কিছুদিন পরই ফাবোর্গ-এন্ডারসন এমন মন্তব্য করলেন। ইইউ’র নতুন উদ্যোগে চেঁচামেচি শুরু হয়ে গেছে ইসরাইলে, যদিও এটি ইউরোপের সঙ্গে তাদের বাণিজ্যে প্রভাব ফেলে এক শতাংশেরও কম। কিছু পর্যবেক্ষকের মতে ‘স্টপ দ্য বয়কট’ আলোচনাসভায় ফাবোর্গ-এন্ডারসনের উপস্থিতি এবং বিবৃতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের দু’মুখো নীতিকেই তুলে ধরেছে। এ ব্যাপারটি বেশ ভালভাবেই বুঝতে পারছেন নুর আরাফেহ। ফিলিস্তিনি পলিসি নেটওয়ার্ক আল-শাবাকার এ পলিসি ফেলো জানিয়েছেন, ‘মোড়ক আচ্ছাদন নীতিমালা সত্ত্বেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কথা এবং কাজে ব্যাপক অমিল পরিলক্ষিত হয়। বসতি স্থাপনকে অবৈধ মানছে তারা, অথচ বসতিগুলো থেকে তারা যে পরিমাণ পণ্য আমদানি করছে, তার আনুমানিক বার্ষিক মূল্য ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। উপরন্তু এটি দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডগুলো থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানিকৃত পণ্যের গড় বার্ষিক মূল্যের ১৭ গুণ বেশি।’

 ফলমূল, শাকসব্জি, মধু ও অলিভ অয়েলের মতো কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে অবৈধ বসতিগুলোয় উত্পাদিত কিনা তা উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক হলেও বিক্রয়ের জন্য দোকানে সরবরাহ  করার আগেই মোড়ক-বাঁধা খাবার ও অধিকাংশ শিল্পপণ্যসহ অন্যান্য পণ্যের বেলায় এমন মোড়ক আচ্ছাদন স্বতঃপ্রবৃত্ত। মোড়ক আচ্ছাদন নীতিমালার অধীন ইসরাইলি কোম্পানিগুলোর রয়েছে এটিকে পাস কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগ। চাইলেই তারা অবৈধ বসতিস্থলগুলোতে উত্পাদিত পণ্যকে ইসরাইলের অন্যান্য স্থানে উত্পাদিত পণ্যের সঙ্গে মেশানোর পর চালান করে দিতে পারে ইউরোপের কোনো দেশে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইসরাইলি সীমানার মধ্যেও কোনো অফিসের ঠিকানাও ব্যবহার করতে পারে, এমনকি দখলকৃত পশ্চিম তীরের কোনো বসতিতে সেই উত্পাদন সংঘটিত হলেও। তাছাড়া মোড়ক আচ্ছাদন নীতিমালা কার্যকরীকরণের প্রাথমিক দায়-দায়িত্ব সদস্য রাষ্ট্রগুলোর, পরিষদ হিসেবে ইইউ’র নয়, জানিয়েছেন নুর আরাফেহ।

ঊর্বর জর্দান উপত্যকার কিছু বসতি খুঁজে নিয়েছে মোড়ক আচ্ছাদন নির্দেশনাকে এড়িয়ে যাওয়ার, ইসরাইলের রপ্তানিকৃত খেজুরের ৪০ শতাংশই আসে এ অঞ্চল থেকে। ইসরাইল বসতিস্থাপনকারীরা এ ক্ষেত্রে পরিচয় দিচ্ছে ‘সৃজনশীলতার’। ফিলিস্তিনি কৃষকদেরকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে রাজি করাচ্ছে তাদের খেজুর কিনতে এবং পরবর্তীতে ফিলিস্তিনি পণ্য হিসেবে ইউরোপে রপ্তানি করে দিতে। এক্ষেত্রে প্রণোদনায় কাজ না হলে আশ্রয় নিচ্ছে বলপ্রয়োগের। হুমকি-ধমকি ও মারধরের তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে ফিলিস্তিনের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাছে, জানিয়েছেন বিডিএস আন্দোলনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ওমর বারঘাউটি।

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন