ভারতের এনএসজি’র সদস্যপদ
কৌশলী চাল দিল চীন!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক১৩ জুন, ২০১৬ ইং
 

একদিকে সমর্থনের আশ্বাস, অন্যদিকে বিরোধিতার কড়া সুর। সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদীর পাঁচ দেশ সফরের শেষ দিন এই দোটানার সাক্ষীই রইল ভারত। পরমাণু সরবরাহকারী গোষ্ঠী এনএসজি’র বৈঠকের আগে এনএসজিভুক্ত আরো একটি দেশ মেক্সিকোর সমর্থন আদায় করে নিয়েছে দিল্লি। সুইজারল্যান্ডের পর মেক্সিকোর এ সমর্থন ভারতকে কিছুটা অক্সিজেন জুগিয়েছে। কিন্তু চীন তাদের অবস্থান আরো কড়া করে জানিয়ে দিয়েছে, তাদের বন্ধুরাষ্ট্র পাকিস্তান এনএসজি’র সদস্যপদ না পেলে ভারতের সদস্যপদের আবেদন সমর্থন করবে না তারা। ফলে ভারতের পথে কাঁটা থাকছেই। ভারতকে ঠেকাতে পাকিস্তানকে সামনে এনে মূলত কৌশলী কূটচাল দিল চীন। পাঁচ দেশ সফরের শেষ গন্তব্য মেক্সিকোতে দেশটির প্রেসিডেন্ট এনরিক পেনা নিয়েটোর সঙ্গে বৈঠকের পর দুই দেশের যৌথ বিবৃতি, ‘এনএসজি’র সদস্য হিসেবে ভারতের আবেদনের গুরুত্ব মেক্সিকো উপলব্ধি করেছে। পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতি পালনের ক্ষেত্রে নরেন্দ্র মোদী যে দায়বদ্ধতা দেখিয়েছেন, তার ভিত্তিতেই ভারতের আবেদনকে আমরা ইতিবাচকভাবে সমর্থন করতে চাই।’ এতেই পরিষ্কার এ ব্যাপারে মেক্সিকোর সমর্থন আছে ভারতের প্রতি। জবাবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করা ও রোডম্যাপ তৈরির আশ্বাসও দিয়েছেন মোদী।

পরমাণু সংক্রান্ত জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনা ও পরমাণু প্রযুক্তি আদান-প্রদানের লক্ষ্যেই এনএসজি গড়ে উঠেছে। এই গোষ্ঠীর সদস্যপদ পেলে ভারতের পরমাণু বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্ষেত্র আরো বেশি বিস্তৃত হবে। ভারত ও পাকিস্তান, দুই দেশই এনএসজি’র সদস্যপদ পেতে ভীষণ আগ্রহী। বেশ কয়েক বছর ধরে চেষ্টা চালানোর পর গত ১২ মে আবেদনপত্র জমা দিয়েছে ভারত। আর পাকিস্তান আবেদনপত্র জমা দিয়েছে তার সন্তাহখানেক পর। তবে গত বৃহস্পতিবার ভিয়েনায় এনএসজি’র যে বৈঠক হয়েছে , সেখানে ভারত ও পাকিস্তানের সদস্যপদের আবেদন নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু চীনের গড়িমসির কারণে সিদ্ধান্তহীনতায় শেষ হয়। এনএসজি’র পরবর্তী বৈঠক হওয়ার কথা ২৪ জুন। সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

তবে দিল্লির বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতের এই লক্ষ্য অর্জনের পথে প্রধান কাঁটা চীন। দেশটির যুক্তি, ভারত পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি স্বাক্ষর করেনি, আর তাই এনএসজি’র সদস্যপদ পাওয়ার অধিকার তার নেই। ভারত অবশ্য জানিয়েছে, এনএসজি সদস্যপদ পাওয়ার জন্য এনপিটি স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক নয়। আসলে চীন চায় পাকিস্তান এই সংস্থার সদস্যপদ পাক, আর তাই ভারতের আবেদনের বিরোধিতা করছে তারা। চাপ দিয়ে যদি পাকিস্তানের পক্ষেও সমর্থন আদায় করা যায়। এ দিকে, ২০০৮ সালে আমেরিকার সঙ্গে বেসামরিক পরমাণু চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে ভারত, আর তার ভিত্তিতেই আন্তর্জাতিক পরমাণু প্রযুক্তি আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে আংশিক ছাড় পেয়েছে তারা। পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের ক্ষেত্রে ভারতের এই দায়বদ্ধতার ভিত্তিতেই ভারতের সদস্যপদের আবেদন সমর্থনের কথা জানিয়েছে আমেরিকা। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে মোদীর বৈঠকের পর সে কথা স্পষ্ট হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এনএসজি’র সদস্য দেশগুলোকে চিঠি লিখে ভারতকে সমর্থনের অনুরোধও করেছেন। আমেরিকা আসার আগে সুইজারল্যান্ড গিয়েছিলেন মোদী। এনএসজি’র সদস্য সুইজারল্যান্ড ভারতকে সদস্যপদের আবেদন সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছে। পরে মিলল মেক্সিকোর সমর্থন। তার পরও ভারতের বাধা কাটছে না। কারণ, আমেরিকাসহ একাধিক রাষ্ট্র ভারতের পাশে দাঁড়ালেও চীন নিজেদের অবস্থান বদলাতে রাজি নয়। আর শুধু চীনই নয়- নিউজিল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, তুরস্ক, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়াও ভারতের বিরোধী শিবিরে রয়েছে। তবে ‘মিসাইল টেকনোলজি কন্ট্রোল রেজিম’ এ ইতোমধ্যেই সদস্যপদ পেয়ে গেছে ভারত। এর ফলে হাইটেক মিসাইল প্রযুক্তি আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারতের সামনে বিশ্বের দরজা খুলে  গেছে। এখন বাকি শুধু এনএসজি’র সদস্যপদ পাওয়া আর তাই আগামী এনএসজি বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে ভারত।

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন