ওবামার জনপ্রিয়তা হিলারির ভরসা!
শিফারুল শেখ০৮ আগষ্ট, ২০১৬ ইং
ওবামার জনপ্রিয়তা হিলারির ভরসা!
সম্প্রতি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ বলেছেন, আমেরিকার নির্বাচন মানে বিশ্বের নির্বাচন। কারণ মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল সারা বিশ্বের রাজনীতি এবং অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে বলে ধারণা করা হয়। এজন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দলগুলো মার্কিন নাগরিকদের মতো বিভক্ত হয়ে যায়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন দলের রাজনীতিকরা দুই প্রার্থীর মধ্যে সমর্থনকে ভাগ করে দেন। তবে এবারের মার্কিন নির্বাচন অনেক কারণেই স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কারণ এই নির্বাচনের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে এতটা দ্বিধা কখনো দেখা যায়নি। মার্কিন ভোটাররাও দ্বিধায় আছেন তারা কাকে ভোট দেবেন। তাইতো প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের জনপ্রিয়তাও প্রতিনিয়ত পারদের মতো ওঠানামা করছে। দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী নিয়েই বিতর্ক আছে। ট্রাম্পকে অনেকে খারাপ বললেও হিলারিকে ‘ধোয়া তুলসি পাতা’ও বলছেন না কেউ। তবে এরই মধ্যে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জনপ্রিয়তা কাজে লাগছে ডেমোক্র্যাট দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারির ক্ষেত্রে। তাছাড়া গত সপ্তাহে রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্যও হিলারির জনপ্রিয়তার পারদকে ঊর্ধ্বমুখী করেছে। যদিও প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা শেষ পর্যন্ত দলীয় প্রার্থীর ক্ষেত্রে কাজে লাগে এমন অকাট্য প্রমাণ নেই।

ধন্দে ভোটাররা: মার্কিন ভোটাররা কাকে ভোট দেবেন তা নিয়ে এবার সত্যিই ধন্দে আছেন। কারণ এটা অতীতের সাধারণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মতো নয়। এটা কেবল ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান, রক্ষণশীল ও উদারপন্থি এবং সংস্কারবাদী ও সংস্কারবিরোধীদের মধ্যে নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ জানেন নির্বাচনে প্রার্থী দুইজন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মানুষ জানেন তাদের প্রার্থী চারজন। একজন লিবারেটেরিয়ান পার্টি মনোনীত নিউ মেক্সিকোর সাবেক গভর্নর গ্যারি জনসন এবং অন্যজন গ্রিন পার্টির জিল স্টেইন যিনি স্বাস্থ্য অধিকার কর্মী হিসেবে পরিচিত। মার্কিন নির্বাচনের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এত আমেরিকান পাওয়া যায়নি যারা প্রধান দুই প্রার্থীকেই অপছন্দ করেন। দুই প্রার্থীর অযোগ্যতাই অপরিচিত দুই প্রার্থীর ভোট ব্যাংককে বাড়িয়ে দিতে পারে। যদিও নির্বাচিত হয়ে তারা হোয়াইট হাউসে আসতে পারবেন এমন জনপ্রিয়তা তাদের নেই। স্বাধীন ভোটারদের অনেকে অর্থনীতি এবং সামাজিক ইস্যুতে গ্যারি জনসনের মতের সঙ্গে একমত। আর স্টেইনের সমালোচনা হিলারির ক্ষতি করতে পারে। এই নির্বাচনের বড় শঙ্কা-প্রতিবাদী ভোট বাড়তে পারে। অনেকে বিবেকের তাড়নায় কাউকে ভোট নাও দিতে পারেন। আর প্রতিবাদী ভোট বেড়ে গেলে হোয়াইট হাউসের চৌহদ্দিতে ঢুকে যেতে পারেন ট্রাম্প। দুই দলের সাম্প্রতিক সম্মেলন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, দুই প্রার্থী কী সত্যিকারে আমেরিকানদের নেতৃত্ব দিতে পারবেন? পরিচিত সব রিপাবলিকানরা তো নিজেদের আড়ালে রেখে দিচ্ছেন। আবার অনেকে সরাসরি প্রতিবাদ করছেন। কারণ ট্রাম্প জাতিকে যেভাবে বিভক্তির দিকে নিয়ে যাচ্ছেন তা অনেককেই শঙ্কিত করে তুলছে। তিনি স্বৈরাচারী নেতার মতো কথা বলছেন। তিনি ইতোমধ্যেই বলেছেন, ‘কি করতে হবে তা আমি একাই নির্ধারণ করব।’ অন্যদিকে হিলারি ক্লিনটনের বিষয়েও একই কথা খাটে। বার্নি স্যান্ডার্স তাকে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমষ্টিগত ঐক্যের কথা বললেও হিলারি বলেছেন, ‘এটা কেবল আমাদেরই ওপর নির্ভর করে। আমরাই সিদ্ধান্ত নেব আমরা ঐকবদ্ধ হয়ে কাজ করব কিনা।’  মার্কিন নির্বাচনে সম্প্রতি নিন্দাজনক ঘটনাও ঘটেছে যা একটি তৃতীয় বিশ্বের দেশেও অনেক সময় ঘটে না। ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের নগ্ন ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। সেই ছবি মার্কিন কয়েকটি পত্রিকায় ফলাও করে ছাপা হয়েছে। আবার এর পরের দিন কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে হিলারি ক্লিনটনের অর্ধনগ্ন ছবি (ম্যুরাল) প্রকাশ পেয়েছে। এর মাধ্যমে মার্কিন নির্বাচনী সংস্কৃতিতে বড় ধরনের একটি নেতিবাচক পরিবর্তন ঘটছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ফলে উদারপন্থি কিংবা নিরপেক্ষ ভোটারদের অনেকেই ক্ষুব্ধ প্রধান দুই প্রার্থীর ওপর। অনেকে মনে করছেন, এই নির্বাচন বর্ণবাদের দিকে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ৮১ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ নিহত হয় আফ্রিকান আমেরিকান কর্তৃক। ট্রাম্প ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। ন্যাটোর আর্টিকেল-৫ এ বলা হয়েছে, ন্যাটোভুক্ত একটি দেশের ওপর হামলা হলে ধরে নিতে হবে সবগুলো দেশের ওপর হামলা হয়েছে এবং সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে হবে। এই নীতি সব দেশ মানছে কিনা তা দেখার কথা বলেছেন ট্রাম্প যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ওই দেশগুলোর সম্পর্কে বাধার সৃষ্টি করতে পারে। জাপানকে নিয়েও সমালোচনা করেছেন। জাপান যুক্তরাষ্ট্রের   বড় মিত্র।

প্রেসিডেন্ট ওবামার সমর্থন ছাড়াও ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যও বাড়িয়ে দিচ্ছে হিলারির জনপ্রিয়তা। অন্যদিকে, সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ওবামা ট্রাম্পের সমালোচনা করে হিলারির পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার পরই জনপ্রিয়তায় হিলারি ট্রাম্পের চেয়ে ৯ পয়েন্টে এগিয়ে যান। একইসঙ্গে যোগ হয় ট্রাম্পের ইরাকে নিহত মুসলিম সেনার পরিবারকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য। সিএনএন/ ওআরসির এক জরিপে দেখা গেছে, ২০১৩ সালে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা নেওয়ার পর বারাক ওবামার জনপ্রিয়তা এখন সবচেয়ে বেশি। রিপাবলিকানদের সম্মেলনের পর ওবামার জনপ্রিয়তা ৫০ শতাংশের নিচে নেমে যায়। কিন্তু তার ডেমোক্র্যাট দলের সম্মেলনের পর বেড়ে ৫৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। দ্বিতীয় মেয়াদে এটাই ওবামার জন্য সর্বোচ্চ। ওবামার জনপ্রিয়তা মূলত তরুণ আমেরিকানদের মধ্যে তথা ৪৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে। ৪৫ বছর বা তার বেশি বয়স কিংবা স্বাধীন রাজনীতি এবং আধুনিক মানুষের মধ্যে কম। ওবামার এই জনপ্রিয়তা ১৯৮৮ সালের রোনাল্ড রিগ্যানের কাছাকাছি। ২০০০ সালে বিল ক্লিনটনের ৫৭ শতাংশ জনপ্রিয়তা ছিল। ওবামার এই জনপ্রিয়তা হিলারিকে হোয়াইট হাউসে যেতে সহায়তা করবে। ওবামার কাজ যারা পছন্দ করেন তাদের ৯৪ শতাংশই হিলারিকে সমর্থন দেবেন। আর ওবামাকে যারা অপছন্দ করেন তাদের ৮৫ শতাংশ ট্রাম্পকে সমর্থন দেবেন। তবে একজন জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট সবসময় তার দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর জন্য মঙ্গল বয়ে আনতে পারেন না। ১৯৮৮ সালে সিনিয়র জর্জ বুশ জয় পেয়েছিলেন। অথচ রোনাল্ড রিগ্যানের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে ছিল। আবার ২০০০ সালে বিল ক্লিনটনের জনপ্রিয়তা বেশি থাকলেও তার দলের প্রার্থী আল গোরের কাজে লাগেনি।

৬৪ শতাংশ ভোটার মনে করেন, হিলারি প্রেসিডেন্ট হলে ওবামার নীতিই বাস্তবায়ন করবেন। ৩৩ শতাংশ মনে করেন হিলারি ভিন্ন কিছু করবেন। বিস্ময়ের ব্যাপার যে, ওবামাকে যারা সমর্থন করেন না তাদের মধ্যে ৭৪ শতাংশ হিলারিকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চান। হিলারির সমর্থকদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ মনে করেন, হিলারি প্রেসিডেন্ট ওবামার নীতি অনুসরণ করবেন। ৪৪ শতাংশ এর বিপরীত। ট্রাম্পের সমর্থকদের মধ্যে ৮২ শতাংশ মনে করেন, হিলারি ওবামারই আরেকটি বর্ধিত রূপ। জরিপে দেখা যায়, ট্রাম্পের কিছু বার্তা তাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিতে পারে। ৫৪ শতাংশ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র খারাপের দিকে যাচ্ছে। আর ২৬ শতাংশ মনে করেন, খুব খারাপের দিকে যাচ্ছে। ২০১১ সালের নভেম্বর থেকে এটাই সর্বোচ্চ। ট্রাম্পের সমর্থকদের মধ্যেও ৮৬ শতাংশ মনে করেন, দেশ খারাপের দিকে যাচ্ছে।

সূত্র: সিএনএন ও সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকেল

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৯
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৪০
এশা৭:৫৯
সূর্যোদয় - ৫:৩১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
পড়ুন