মুখ না খুলে পারলেন না মোদী
ভারতে গরুর মাংস খাওয়া নিয়ে অসহিষ্ণুতা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক০৮ আগষ্ট, ২০১৬ ইং
মুখ না খুলে পারলেন না মোদী
আর সহ্য করতে পারলেন না। দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে গোরক্ষা ইস্যুতে মুখ খুললেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সমপ্রতি ভারতের কয়েকটি এলাকায় গোরক্ষার অজুহাতে খুন, মারধর, জুলুমবাজির অভিযোগের আঙুল উঠেছে বিজেপি ও সংঘ পরিবারের কয়েকটি সংগঠনের দিকে। উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রও। সমপ্রতি মোদী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যখন দেখি গোরক্ষার নামে লোকে দোকান খুলে বসেছে, তখন ভীষণ রাগ হয়।’ গোরক্ষার নাম করে যারা সমাজবিরোধী কাজকর্মে লিপ্ত, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে প্রশাসনকে।

অথচ মাত্র কয়েকদিন আগেও ভারতে গরু হত্যা করা হয়েছে কিংবা অমুকে গরুর মাংস খেয়েছে এমন অজুহাতে বাড়িঘরে হামলা থেকে শুরু করে অভিযুক্তকে খুন করেও রেহাই পেয়েছে। বিজেপির কট্টরপন্থিরা এবং সংঘ পরিবারের গোড়া সমর্থকরা দুর্বৃত্তদের রক্ষা করেছে। কিন্তু এবার ক্ষেপেছেন স্বয়ং মোদী। তিনি বলেন, ‘যাঁরা সমাজসেবা, গোরক্ষা করতে চান, গরু যাতে প্লাস্টিক, বর্জ্যপদার্থ না খায় তারা বরং আগে সে দিকটায় খেয়াল রাখুন।’ এই কথার মধ্যে মোদী এটাই বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, গরু হত্যাকারীদের পিছু ছোটার চেয়ে স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ভারত গড়ার বিষয়ে আগে দৃষ্টি দেওয়া উচিত।

গত মাসেই প্রধানমন্ত্রীর নিজের রাজ্য গুজরাটের উনায় মৃত গরুর চামড়া ছাড়ানোর জন্য দলিতদের ওপর অকথ্য অত্যাচার চালানো হয়েছিল। এমনকী, মানুষের মধ্যে ভয় ধরিয়ে দিতে সেই ঘটনার ভিডিও অনলাইনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনায় নিন্দার ঝড় বয়ে গিয়েছিল দেশ জুড়ে। কয়েক দিন আগে মধ্যপ্রদেশের নিমাচে ব্যাগে গোমাংস আছে, এই সন্দেহে দু’জন মুসলিম মহিলাকে মারধর করা হয়। কিন্তু এই ঘটনার পরেও নীরব ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এ ধরনের স্বঘোষিত গো-প্রেমীদের বিরুদ্ধে মোদী কেন কোনো কথা বলছেন না, এই অভিযোগও তুলেছিল বিরোধীরা। আজই প্রথম বারের জন্য এ বিষয়ে কড়া ভাষায় মুখ খুলে মোদী বুঝিয়ে দিলেন, তিনি এ ধরনের আচরণের বিরোধী।

ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তথাকথিত ‘গোরক্ষক’দের নির্বিচার গুন্ডামির অজস্র নিদর্শনের পরেও প্রায় সব বিষয়েই মুখ-খোলা প্রধানমন্ত্রী এই প্রসঙ্গেই কিছু বলছেন না কেন, এই আলোচনাও যখন ক্লান্ত হয়ে এসেছে, তখন মুখ খুললেন তিনি। সন্দেহ নেই, অত্যন্ত স্পষ্ট ও কড়া বার্তা দিয়েছেন এই ‘রক্ষকদের’ উদ্দেশে। দেরিতে হলেও, তাই সবাই স্বাগত জানিয়েছেন মোদীর এই কঠোর বার্তা।

তবে এ নিয়েও কোনো সংশয় থাকার কথা নয়, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সুচিন্তিত এই দিকনির্দেশের অভাবের মাসুল দিতে হয়েছে দেশকে। তারা বলছেন, গত কয়েক মাস ধরে অনেক রক্ত, অনেক হেনস্থা, অনেক অত্যাচার, অনেক আতঙ্ক, অনেক অপমান এবং অনেক প্রতিবাদের পর সরকার তথাকথিত ‘গোরক্ষক’দের ‘সমাজবিরোধী’ হিসেবে আখ্যা দিলেন, তার জন্য মোদী ধন্যবাদ পেতেই পারেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সহিষ্ণুতা ও সংবেদনশীলতার অভাব নিয়ে সামপ্রতিক মন্তব্য ভারতের জন্য অসম্মানজনক বলে মনে করছে বিজেপি। তাছাড়া সরকারের ভিতরেও ভয়, পরিস্থিতি ক্রমশ আরও হাতের বাইরে চলে যেতে পারে। কেউ খুনের ঘটনা জায়েজ করতে ‘গরু হত্যা’র অভিযোগও তুলতে পারে। ফলে সমাজে ছড়িয়ে পড়তে পারে নৈরাজ্য।

অবশ্য মোদীর এমন মন্তব্য নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই গুঞ্জন উঠেছে। কারণ গো-রক্ষকদের তাণ্ডবটা শুরু হয়েছে গত বছরের শেষ ভাগ থেকে। উত্তরপ্রদেশের দাদরিতে মোহাম্মদ আখলাখের খুন দিয়ে শুরু। তার পর রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ছাপিয়ে মোদীর নিজের রাজ্য গুজরাটেও এই বাহিনীর তাণ্ডবের শিকার হয়েছেন দলিত ও সংখ্যালঘুরা। কিন্তু একটি কথাও শোনা যায়নি মোদীর মুখে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৯
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৪০
এশা৭:৫৯
সূর্যোদয় - ৫:৩১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
পড়ুন