ব্রিটিশ তরুণদের ব্রেক্সিট পরবর্তী সময়ের জন্য তৈরি হওয়ার তাগিদ
এম এ আলআমিন৩০ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
ব্রিটিশ তরুণদের ব্রেক্সিট পরবর্তী সময়ের জন্য তৈরি হওয়ার তাগিদ
ব্রিটেনের কিশোর-কিশোরীদের কর্ম জগতের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্য সপ্তাহান্ত এবং স্কুলের পর কাজ করার জন্য উত্সাহিত করা উচিত। দেশটির কর্ম ও পেনশন মন্ত্রী এস্টার ম্যাকভে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সাক্ষাত্কারে এ মন্তব্য করেছেন। চলতি বছর জানুয়ারিতে পদোন্নতি পেয়ে তিনি ওই পদে আসীন হন। তিনি মনে করেন ব্রেক্সিট বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আলাদা হওয়ার পর ব্রিটেনের কর্মসংস্থান সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা আছে। তাই আগে থেকেই প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ব্রিটিশরা কায়িক শ্রম পছন্দ করে না এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের অনুপস্থিতির হার ইউরোপের অন্যদেশের নাগরিকদের তুলনায় বেশি। অভিবাসন নিয়ে ব্র্রিটিশ সরকারের সম্প্রতি করা একটি জরিপে বিশেষজ্ঞদের এমন অভিমত প্রকাশিত হয়েছে। এরপর টেলিগ্রাফকে ম্যাকভে ওই সাক্ষাত্কারটি দেন। তিনি স্যাটারডে জব, বা শনিবারের খণ্ডকালীন আবার ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেন। এক সময় ব্রিটেনে পড়ালেখার পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীরা সপ্তাহে একদিন উপার্জনমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকত। ইউরোপীয় অভিবাসীরা বর্তমানে ব্রিটেনের শ্রমবাজারের বড় অংশ দখল করে রেখেছে। ব্রেক্সিটের পর এ খাতে আকস্মিক শূন্যতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক নিয়োগকর্তাই এখন আর ব্রিটিশ কর্মীদের খুব ভালো ধারণা পোষণ করেন না। তারা মনে করেন ব্রিটিশরা খুব বেশি উচ্চাভিলাষী নয় এবং নিজেদের কর্মজীবন নিয়ে তাদের কোনো স্বপ্ন নেই।

টেলিগ্রাফকে ম্যাকভে বলেন, তিনি মনে করেন না ব্রিটিশ কর্মীরা অলস। তবে তরুণদের কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে পরিচিত করানোর জন্য আরো অনেক কিছু করার বাকি রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের হীনমন্যতায় ভোগা উচিত নয়। আমরা খুব পরিশ্রমী একটি জাতি। এখনো প্রচুরসংখ্যক ব্রিটিশ নাগরিক চ্যালেঞ্জিং পেশাগুলোতে নিয়োজিত রয়েছে। আমাদের এখন ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যক্তাদের এটি নিশ্চিত করতে হবে যে, আমরা আপনাদের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি। কর্মী হিসেবেও আমরা নেহায়েত মন্দ নই। আমাদের আরেকবার সুযোগ দিয়ে দেখতে পারেন।’ ম্যাকভে বলেন, ১৯৮০ এর দশক থেকে দেখা যাচ্ছে স্যাটারডে জব এবং ক্লাসের পর কাজ করার প্রতি তরুণদের আগ্রহ কমে গেছে। এ থেকে নিয়োগকর্তা কর্মীর কাছ থেকে কি আশা করে এবং কর্মী তার চাকরি থেকে কি পেতে পারে, তরুণ বয়সে একজন ব্যক্তি এ শিক্ষাটি অর্জন করে। তিনি বলছেন, বর্তমানে লেখাপড়ার পাশাপাশি খণ্ডকালীন চাকরি করার প্রবণতা প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গেছে। এজন্য তরুণদের উচ্চশিক্ষা অথবা অবসর বিনোদনের প্রতি বেশি আগ্রহই দায়ী বলে মনে করেন ম্যাকভে। তিনি বলেন, এর ফলে তরুণরা কর্মক্ষেত্রের অনেক ছোটখাট অথচ প্রয়োজনীয় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাদের লক্ষ্য থাকে প্রতিযোগিতামূলক পদগুলোর দিকে। শেষ পর্যন্ত যেগুলোর নাগাল পাওয়া বা পেলেও তাতে থিতু হয়ে ওঠা আর তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না।

 ম্যাকভে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে পেশায় একজন টিভি উপস্থাপক ছিলেন। ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি নিজের আসনে পরাজিত হলেও ১৭ সালের আগাম নির্বাচনে আসনটি অর্জন করেন। তিনিও এক সময় শনিবারের খণ্ডকালীন চাকরি করে ছিলেন বলে সাক্ষাত্কারে বলেন। করদাতাদের দেওয়া অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অবসর গ্রহণের বয়স পুনর্নির্ধারণ, বিনা মূল্যে বাসে যাতায়াত সুবিধা ও টিভি লাইসেন্স ফি উঠিয়ে দেওয়ার মতো বিষয়গুলো নিয়ে সরকার এখন নুতন করে চিন্তাভাবনা করছে।

ম্যাকভে বলেন, ‘মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। আমরা এখন আগের তুলনায় বেশিদিন বাঁচছি। তাই অবসর গ্রহণের বয়স পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি এখন প্রশ্ন উঠেছে।’ ২০১০ সাল থেকে বিষয়টি ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটি বড় ইস্যু। কনজারভেটিভ রাজনীতিকদের জন্য বিষয়টি উভয় সঙ্কট তৈরি করেছে। ঐতিহ্যগতভাবে প্রবীণদের মধ্যে দলটির প্রতি জনসমর্থন বেশি। কিন্তু অর্থনৈতিক সঙ্কটের জন্য তাদের এখন বয়স্ক ভাতা ও অন্যান্য সমাজ কল্যাণমূলক খাত যেমন শীতকালে ঘর গরম রাখতে গ্যাস ভাতা ব্যয় হ্রাস করতে হয়েছে। এসব কারণে গত বছর জুনে অনুষ্ঠিত আগাম নির্বাচনে দলটি ভালো ফল করতে পারেনি। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে কোয়ালিশন সরকার গঠন করলেও  নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের মন্ত্রিসভায় কর্মসংস্থান মন্ত্রী থাকাকালে ব্যয় সংকোচন করে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিলেন ম্যাকভে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন