মার্কিন নারীরা চাকরি ছেড়ে ঘরকন্যায়!
৩০ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
মার্কিন নারীরা চাকরি ছেড়ে ঘরকন্যায়!

আশেক খান আলেখীন

 

বহু বছর যাবত্ পশ্চিমা বিশ্বে নারীদের অগ্রযাত্রার কথা শুনে আসছি আমরা। জানতে পারছি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাজনীতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ক্রীড়াসহ নানা ক্ষেত্রে তাদের সাফল্যের কথা। সেখানে কর্মক্ষেত্রে নারীদের দৃপ্ত পদচারণা তৃতীয় বিশ্বের পিছিয়ে পড়া দেশগুলোর গৃহবধূদের অনেককেই রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে বাইরের জগতে পা ফেলতে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানী, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়াসহ পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলোতে নারী জাগরণের সূত্রপাত যা ক্রমে ক্রমে বিকশিত হয়ে পশ্চিমা সমাজে নারীদের একটা সুদৃঢ় অবস্থান করে দিয়েছে। বিশেষ করে ১৯৮০র দশকে পশ্চিমা দেশগুলোর শ্রম বাজারে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ঘটে। এক্ষেত্রে সর্বাগ্রে আসবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাম। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পরিসংখ্যান তাই বলছে। তবে পরিসংখ্যান এটাও বলছে যে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে তার আগের সেই অবস্থান হারিয়ে ফেলেছে। দেশটিতে কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণের প্রবণতা দিন দিন কমে আসছে যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশটির জিডিপির উপর।

১৯৮৬ সালে রাসেল সাগে ফাউন্ডেশনের ‘আমেরিকান ওমেন ইন ট্রানজিশন’ শিরোনামে প্রকাশিত এক গবেষণা রিপোর্টে বলা হয়- বিগত ২০ বছরে (১৯৮৬ সালের আগের) আমেরিকায় কর্মজীবী নারীদের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। স্কুল পড়ুয়া সন্তান রয়েছে এমন মায়েদের ৫ ভাগের তিন ভাগই চাকরি করে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্রের সমাজে কর্মক্ষেত্রে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণের বিষয়টি সে সময়কার জনপ্রিয় হলিউড মুভি ‘ওয়ার্কিং গার্ল’, ‘নাইন টু ফাইভ’ এবং প্রখ্যাত লেখিকা হেলেন গারলি ব্রাউনের ‘হ্যাভিং ইট অল’ নামক বইয়ে উঠে এসেছে।

১৯৮৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২৫ থেকে ৫৪ বছর বয়সী ৭০ শতাংশ মার্কিন নারী সেসময়ে দেশটির শ্রমবাজারে নিয়োজিত ছিল। একই সময়ে  জার্মানিতে কর্মজীবী নারী ছিল ৫৯ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ায় ছিল ৫৭ শতাংশ; কিন্তু আইএমএফ (ইন্টারন্যাশনাল মনিটরিং ফান্ড) এর সদ্য প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ভ্র ইকনমি আউটলুক’ এর হিসেব অনুযায়ী বিগত ৩০-৩৫ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ যেন অনেকটা থমকে গেছে, এতগুলো বছরে ৭০ শতাংশ থেকে মাত্র ৭৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, অর্থাত্ মাত্র ৪ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে পিছু ফেলে এগিয়ে গেছে। জার্মানিতে বর্তমানে কর্মজীবী নারী ৮৩ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ায় ৭৬ শতাংশ।

আইএমএফ-এর রিপোর্টে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মক্ষেত্রে নারীদের এই পিছিয়ে পড়ার কারণ হিসেবে দেশটিতে কর্মজীবী নারীদের জন্য নির্ধারিত পলিসিকে দায়ী করা হয়েছে। বলা হচ্ছে আমেরিকার চেয়ে ইউরোপের দেশগুলোর পলিসি কর্মজীবী নারীদের জন্য অনেক বেশি সহায়ক। ঐসব দেশে কর্মজীবী নারীরা অনেক বেশি সুবিধা পান। তারা অতিরিক্ত ভাতাসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি বেশি পান। এছাড়া দেশগুলোর পলিসিতে শিশু ও বয়স্কদের দেখাশুনার জন্যও কর্মজীবী মায়েদের সুযোগ করে দেওয়া হয়। ইইউর দেশগুলোর পলিসি অনুযায়ী নিয়োগকর্তারা তাদের প্রতিষ্ঠানের নারী কর্মচারীদেরকে কমপক্ষে ১৪ সপ্তাহ মাতৃত্বকালীন ছুটি দিতে বাধ্য। অনেক দেশে এর চেয়েও বেশি ছুটি ও ভাতা দেওয়া হয় এবং সেই সঙ্গে ভাতাসহ পিতৃত্বকালীন ছুটিও প্রদান করা হয়। আর এতে বাচ্চা হওয়ার উপযোগী মেয়েদের চাকরি না দেওয়ার প্রবণতাও অনেকটা কমে আসে।

আমেরিকার পলিসিতে কর্মজীবী নারীদের জন্য এত সব সুযোগ-সুবিধা নেই। যার ফলে অনেকেই বাইরে কাজ করতে দিন দিন অনিচ্ছুক হয়ে পড়ছেন এবং সংসার সামলাতেই মনোযোগী হচ্ছেন। রান্নাঘরেই কাটাচ্ছেন অনেকটা সময়। 

সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন