মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির আগুন নেভাতে আরব লিগ কি ব্যর্থ?
৩০ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির আগুন নেভাতে আরব লিগ কি ব্যর্থ?

তৌহিদ আজিজ

 

মুসলিম বিশ্বে এখন অশান্তির আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে। প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি। বিশ্ব আধিপত্যবাদের নিয়ন্ত্রক যারা তারা মুখে মানবাধিকারের কথা বললেও বাস্তবিক অর্থে তারা নিজের স্বার্থের বাইরে এক চুলও নড়েন না। যেখানে তাদের স্বার্থ জড়িত সেখানেই তারা বিভিন্ন কৌশলে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ঢুকে পড়ছে। রাজনীতির এ খেলায় তারা নিজেদের অধিকর্তা দাবি করে মুসলিম দেশগুলোর ওপর কলকাঠি নাড়ছেন। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় এই মুসলিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে যাচ্ছে অন্য মুসলিম দেশগুলো। মুসলমানদের রক্ষায় অনেক সংগঠনের জন্ম হলেও তারা সত্যিকার অর্থে বৃহত্ শক্তির হাতের পুতুল হয়ে গেছে। তেমনই একটি সংগঠন আরব লিগ। মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষায় যার জন্ম হয়েছিল তারা এখন মুসলমান নিধনেই পরাশক্তির ইচ্ছের হাতিয়ার বনে যাচ্ছেন।

১৯৪৫ সালের ২২ মার্চ ৬টি বৃহত্ মুসলিম রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত হয় আরব লিগ। দেশগুলো হচ্ছে: মিসর, ইরাক, জর্দান, লেবানন, সৌদি আরব ও সিরিয়া। দুটি প্রধান উদ্দেশ্য নিয়ে সংস্থাটির জন্ম হয়েছিল। এক : মুসলিম যেসব দেশ আরব লীগের সদস্য তাদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সেতুবন্ধন গড়ে তোলা। দুই: সদস্য দেশগুলোর স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে সবাই এক হয়ে কাজ করা। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আরব লিগের সদস্য সংখ্যা বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে ২২। দেশগুলো হচ্ছে: আলজেরিয়া, বাহরাইন, কমোরোজ, দিজিবুটি, মিসর, ইরাক, জর্দান, কুয়েত, লেবানন, মৌরতানিয়া, লিবিয়া, মরক্কো, ওমান, ফিলিস্তিন, কাতার, সৌদি আরব, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া, তিউনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন। এতগুলো দেশ নিয়ে এই সংস্থাটি গড়ে উঠলেও মূলত তারা কখনো মুসলিম দেশের স্বার্থ রক্ষায় এক হয়ে আজও উঠতে পারেনি। আর এসব কারণেই তাদের ভূমিকা অনেক প্রশ্নবিদ্ধ। বলতে গেলে বৃহত্ রাষ্ট্রগুলোর তোষামোদী কিংবা তাঁবেদারি ছাড়া তাদের আর কোনো অর্জন নেই। বৃহত্ রাষ্ট্রগুলোও মধ্যপ্রাচ্যে তাদের তেলের স্বার্থে এদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে আবার এদেরকে দিয়েই মুসলিম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে মদদ দেয়। অথচ যতগুলো দেশ নিয়ে এই সংস্থাটি গড়ে উঠেছে তাদের মাঝে যদি একতা থাকত তাহলে তারা বিশ্বে একটা বড় আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত হতে পারত।

ফিলিস্তিন, সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক, সুদানসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশে এখন অশান্তির আগুন ক্রমশ বেড়ে উঠছে। এর মধ্যে এখন বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে সিরিয়ার বিষয়টি। সম্প্রতি সেখানে রাসায়নিক হামলার অভিযোগ উঠে। এতে প্রায় ৭০ জনের মতো নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। আহত হয়েছে বহু লোক। রাসায়নিক হামলার এ অভিযোগ উঠেছে সিরিয়ার বাশার সরকার ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে। বলা হচ্ছে, তারা এখানে রাসায়নিক হামলা চালিয়ে সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে। যদিও সিরিয়া তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা সিরীয় জনগণের বিরুদ্ধে এ হামলা চালায়নি। এটা বিদেশি ‘প্রপাগান্ডা’। যদিও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, সেখানে বিভিন্ন রোগীকে পরীক্ষা করে তারা রাসায়নিক আলামত পেয়েছেন। বিষয়টি যদি সত্যি হয় তাহলে তা অবশ্যই একটা ভয়ানক খবর। কারণ এর ফলে যারা বেঁচে থাকবেন তাদেরকে মারাত্মক শ্বাসকষ্টে ভুগতে হবে। বেশি কষ্ট পোহাতে হচ্ছে শিশুদের। এ নিয়ে অনেক ছবি প্রকাশ করেছে নামকরা বিদেশি সংবাদ মাধ্যমগুলো। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক তদন্ত দল সেখানে ঢুকতে চেয়েছে। মাঝে তারা অনুমতি পেয়েছিল বলে খবর বের হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো তদন্ত দল সেখানে যেতে পারেনি। এছাড়া যাওয়ার মতো কোনো পরিবেশ আছে কিনা তা দেখভালের জন্য জাতিসংঘের একটি দল সেখানে বাধার মুখে পড়ে ফিরে আসে।

প্রসঙ্গক্রমেই উঠে আসে সিরীয় এসব হামলায় আরব লিগ তার কি ভূমিকা পালন করছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের দাহরানে আরব লিগের শীর্ষ সম্মেলন হয়ে গেল। সেখান থেকে অবশ্য তারা নিয়ম রক্ষার তাগিদে সিরিয়ায় রাসায়নিক হামলার ওপর এক বিবৃতিতে এর নিন্দা জানায়। সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদেল আল-জুবাইর। তবে আরব নেতারা এ সময় সিরিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন হামলার বিষয়ে নীরব ছিলেন। তারা যুক্তরাষ্ট্র কিংবা তার মিত্রদের বিরুদ্ধে কোনো বক্তব্য বা উচ্চবাচ্য করেনি। অথচ সংস্থাটি যে আদর্শ নিয়ে গড়ে উঠেছিল সে আদর্শ যদি সত্যিকার অর্থে তাদের মাঝে থাকত তাহলে তাদের এ নিয়ে প্রতিবাদ করার প্রয়োজন ছিল। সেটা যে শুধু মুসলিম বলেই স্বার্থ রক্ষার খাতিরে বলতে হবে তা নয়, নিজেদের আদর্শগত জায়গা থেকে তারা তাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে পারত।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন