গল্প-কথায় পদার্থবিজ্ঞান আলোর প্যাকেট
১৫ জুন, ২০১৫ ইং
মাধব রায়, সহকারী অধ্যাপক,

ব্লু বার্ড স্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট

গত শনিবারের পর

তখনকার দিনে পরিচিত সকল তরঙ্গের প্রতিবন্ধকের ধার ঘেঁষে বেঁকে যাবার ক্ষমতা ছিল। কাজেই আলো বাধা পেলে বেঁকে যাবার ক্ষমতা থাকাটা জরুরী। কিন্তু আলো তো বাধা পেলে বেঁকে যায় না।

সীমা এর মধ্যে পরীক্ষা করতে শুরু করে দিয়েছে। সে টেবিল থেকে পেপারটা এনে টিউবলাইটের সামনে ধরে ছায়াটা পরীক্ষা করছে। বাকিরা সবাই এটি দেখে হেসে ফেলেছে।

তানভীর সাহেব বললেন— এই সমস্যার একটা ব্যাখ্যা দিলেন বিজ্ঞানী ফ্রেনেল। তিনি বললেন, শব্দের মতো আলোও বাধা পেলে একটু বেঁকে যেতে পারে। তবে আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য খুব কম থাকায় এই বেঁকে যাবার পরিমাণটা খুব কম। ফলে আমাদের চোখে পড়ে না। কিন্তু তরঙ্গতত্ত্ব সম্পর্কে দ্বিতীয় একটি সমস্যা দেখা দিলো। জানা ছিল তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যম প্রয়োজন, কিন্তু আলো তো মাধ্যমের সাহায্য ছাড়াই সূর্য থেকে পৃথিবীতে চলে আসে। এই প্রশ্নের ব্যাখ্যা দিলেন বিজ্ঞানী হাইগেনস। তিনি বললেন— আলো ইথার নামক এক প্রকার কাল্পনিক মাধ্যমের ভিতর দিয়ে সঞ্চারিত হয়।

কিন্তু পরবর্তীতে আলোর উচ্চ বেগের দরুণ এই প্রশ্ন উত্থাপিত হয় যে, ইথারের স্থিতিস্থাপক গুণাংকের মান বেশি এবং ঘনত্ব কম যা পরস্পর বিরোধি, এটি কীভাবে সম্ভব ! কারণ বেগ হলো স্থিতিস্থাপক গুণাংক ও ঘনত্বের অনুপাতের বর্গমূলের সমান। ফলে হাইগেনস এর তত্ত্বও পরিত্যক্ত হয়। তোমরা তো স্থিতিস্থাপক গুণাংক বুঝেছো, তাই না ?

আকাশ বলল— হ্যাঁ।

রেখা বলল— এরপর আর কেউ কোনো তত্ত্ব দেয়নি ?

তানভীর সাহেব বললেন— এর অনেক দিন পর 1864 খ্রিষ্টাব্দে বিজ্ঞানী ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আরেকটি তত্ত্ব প্রদান করেন। এর নাম তড়িত্চুম্বকীয় তরঙ্গতত্ত্ব। এই তত্ত্ব মতে আলো এক প্রকার তড়িত্চুম্বকীয় তরঙ্গ। কারণ তড়িত্চুম্বকীয় তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যম প্রয়োজন হয় না।

আকাশ বলল— তড়িত্চুম্বকীয় তরঙ্গ কী আঙ্কেল ?

তানভীর সাহেব বললেন— তড়িত্চুম্বকীয় তরঙ্গ হলো কোনো স্থান দিয়ে আলোর দ্রুতিতে গতিশীল তড়িত্ ও চৌম্বক আলোড়ন। এই তরঙ্গে তড়িেক্ষত্র ও চৌম্বকক্ষেত্র পরস্পর লম্ব এবং উভয়েই তরঙ্গের অভিমুখের সাথে লম্ব থাকে।

সীমা বলল— এই তত্ত্বটা সহজ মনে হচ্ছে না।

আসলেও তাই, তানভীর সাহেব বললেন।

আকাশ বলল— আর কোনো তত্ত্ব নেই ?

আছে, বললেন তানভীর সাহেব। সর্বশেষ তত্ত্বটি হলো কোয়ান্টাম তত্ত্ব।

এতগুলো তত্ত্ব ! রেখা আশ্চর্য হলো।

হ্যাঁ। 1900 সালে ম্যাক্সপ্ল্যাংক কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রদান করেন। পরবর্তীতে আইনস্টাইন তা সমপ্রসারণ করেন।

কিন্তু তত্ত্বটা কী ? বলল আকাশ।

তত্ত্বটা হলো— তানভীর সাহেব ব্যাখ্যা করছেন, কোনো বস্তু থেকে আলো বা যে কোনো শক্তির বিকিরণ অবিচ্ছিন্নভাবে সংঘটিত হয় না। বিকিরণ হয় গুচ্ছগুচ্ছ আকারে বা প্যাকেট প্যাকেট হয়ে।

তার মানে আলোর প্যাকেট ? আকাশের প্রশ্ন।

হ্যাঁ, শুধু আলো না, যে কোনো ধরনের শক্তিই প্যাকেট প্যাকেট আকারে সঞ্চারিত হয়।

এর মধ্যে বিন্দু এসে গল্পে যোগ দিয়েছে। সে বলল, আন্টি আস্তটা মাছ কেটে ফেলেছেন। এখন নাকি মুরগি কাটা শুরু করবেন। নীলকান্তবাবু বললেন— দোস্ত তুমি গল্প কর, আমি ভাবিকে আটকাই।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৫ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন