কতো আগে গড়ে উঠেছিল এই সভ্যতা?
০৮ আগষ্ট, ২০১৬ ইং
কতো আগে গড়ে উঠেছিল এই সভ্যতা?
ঐতিহ্যের  খোঁজে

এ কে এম শাহনাওয়াজ, অধ্যাপক

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

উয়ারী-বটেশ্বরে পাওয়া নানা প্রত্নসামগ্রী দেখে ধারণা করা হয় — এক সময় কৃষক, জেলে, বণিক আর শহরের নানা পেশার মানুষ মিলে এই সভ্যতাটি গড়ে তুলেছিল খননের আগে অনেকের ধারণা ছিল এখানে হয়তো পাল সেন যুগের সভ্যতা খুঁজে পাওয়া যাবে। তা সত্য হলে আট থেকে তের শতকের মধ্যে এখানে মানুষ বসতি গড়ে তুলেছিল। কারো ধারণা ছিল মধ্যযুগে মুসলিম সভ্যতার হয়তো বিকাশ ঘটেছিল এখানে। বর্তমান সময়ে বৈজ্ঞানিক ভাবে একটি সভ্যতার সময় নির্ণয় করা সম্ভব। সেভাবেই পরীক্ষা করা হয়েছে। তাতে জানা যায় আজকের সময় থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে এখানে গড়ে উঠেছিল এই সভ্যতাটি। যদিও আরো গবেষণা প্রয়োজন তবুও এ পর্যন্ত পাওয়া সিদ্ধান্ত থেকে মনে করা যেতে পারে উয়ারী-বটেশ্বরের নগর সভ্যতা গড়ে উঠেছিল মহাস্থানগড়ের পুণ্ড্র নগরের সময় কালে বা তারও আগে।

 

ভরতভায়না

যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলা একটি ছায়াঘেরা গ্রাম রয়েছে। নাম ভরতভায়না। এই গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে বুড়িভদ্রা নদী। সমতল এই অঞ্চলে একদিকে টিলার মতো একটি উঁচু ভূমি ছিল। এই টিলার চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল অনেক প্রাচীন ইট। তাই প্রত্নতত্ত্ববিদদের কৌতুহল হয়। ১৯৮৫ সালে খনন করা হয় ঢিবিটি। এরপর ধাপে ধাপে ২০০১ সাল পর্যন্ত খনন চলে। আর তাতে ক্রমে বেরিয়ে আসে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রত্ননিদর্শন। স্থানীয় মানুষ এই ঢিবিটির নাম দিয়েছে ভর্তের দেউল। এই ঢিবি ছাড়াও দুই কিলোমিটারের মধ্যে আরো দুটো প্রত্নক্ষেত্র পাওয়া গেছে। এর একটির নাম ডালিঝরা আর অন্যটি ভরতরাজার বাড়ি। ভরতভায়না ঢিবি খনন করে পাওয়া গেছে ইটে তৈরি একটি বৌদ্ধমন্দির। তার পাশে পাওয়া পোড়া মাটির ফলক, মাটির পাত্র, মূর্তি ইত্যাদি দেখে বোঝা যায় গুপ্ত শাসনযুগের ঐ প্রত্নস্থলে মানুষের বসতি গড়ে উঠেছিল। ডালিঝাড়াতেও পাওয়া গেছে পোড়ামাটির ফলক, নকশা কাটা ইট। ভরতরাজার বাড়ি বলে পরিচিত ঢিবি থেকে পাওয়া গেছে প্রচুর ইট, পাথর ও পোড়ামাটির টুকরা।

বাংলাদেশে এ পর্যন্ত যত পোড়ামাটির ফলক পাওয়া গেছে তার মধ্যে সবচেয়ে বড় আকারের ফলকটি পাওয়া যায় ভরতভায়না ঢিবির কাছে। ঢিবির কাছেই রয়েছে একটি পুকুর। এই পুকুরে কাদার ভেতরে এই ফলকটি পাওয়া গেছে। নাচের ভঙ্গীতে থাকা একটি মেয়ের মূর্তি খোদাই করা ছিল ফলকটিতে। ফলকটির উপরের দিকে কিছুটা অংশ ভাঙ্গা ছিল। তাই মূর্তির মাথা পাওয়া যায়নি। মূর্তির শরীর জুড়ে ছিল নানা ধরনের অলংঙ্কার, এই ঢিবিতে পাওয়া উল্লেখযোগ্য দ্রব্য সামগ্রি হচ্ছে, পোড়ামাটিতে তৈরি গরুর মাথা, তেল প্রদীপ, মাটির পাত্র, নকশা কাটা ইট, পোড়ামাটির নানা ধরনের অলঙ্কার।

পাহাড়পুর বিহার

বাংলাদেশের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থলটি নওগাঁ জেলায় অবস্থিত। এটি একটি বৌদ্ধ বিহার। বিহার হচ্ছে বৌদ্ধ যুগের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অনেকটা বর্তমান সময়ের আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো। ভারতবর্ষে আবিষ্কার করা বৌদ্ধ বিহারের মধ্যে পাহাড়পুর বিহারটি হচ্ছে অন্যতম বড় বৌদ্ধ বিহার।

পাহাড়পুর নামটি পরে হয়েছে। আসলে বিহারটির আদি নাম সোমপুর মহাবিহার। বিহারটি গড়ে তোলা হয়েছিল মোট ২৭ একর জমির ওপর। এখানে ১০০০ বর্গফুট এলাকা জুড়ে স্থাপত্যের নিদর্শন পাওয়া যায়। এই বিহারের ছাত্রদের থাকার জন্য ১৭৭টি কক্ষ ছিল। বিহারের ঠিক মাঝামাঝি রয়েছে ৭০ ফুট উঁচু মন্দির। এক সময় বিহারের দেয়ালের গায়ে নানা ছবি ফুটিয়ে তোলা প্রায় আড়াই হাজার পোড়ামাটির ফলক সাঁটা ছিল।

কোনো একসময় হয়তো এই অঞ্চলটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এখানকার মানুষ হয়তো অন্য কোথাও চলে যায়। বিহারটিও হয়ে যায় পরিত্যক্ত। ধীরে ধীরে ধূলি বালি জমে ঢেকে যায় পুরো বিহার। এর উপরে নানা ধরনের গাছপালা জন্মে। পরবর্তী সময়ে মানুষ অবাক হয়ে দেখে একটি উঁচু পাহাড়। বিহারের কথা জানতো না বলে একে পাহাড়ই ভেবেছিল। আর এ থেকে এলাকাটির নাম হয়ে গেল পাহাড়পুর। তখন ইংরেজ শাসন যুগ। এসময় কারো কারো কৌতূহল হলো পাহাড়টি নিয়ে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৯
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৪০
এশা৭:৫৯
সূর্যোদয় - ৫:৩১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
পড়ুন