প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা
০৮ আগষ্ট, ২০১৬ ইং
বাংলা

কঙ্কন সরকার

তত্ত্বাবধায়ক, শিশুবান্ধব পাঠশালা সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা।

 

এবার ৮ নম্বর অনুশীলনে পড়া প্রিয় বই সম্পর্কে দশটি বাক্য লিখতে বলা হয়েছে। তো আমরা একটি রচনাই লিখে ফেলি। রচনাটি দেখ—

আমার প্রিয় বই

 

ভূমিকা : মানুষের আত্মিক ও বাস্তবিক জ্ঞান লাভের মধ্যে অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে বই। পৃথিবীর সবাই বইকে ভালোবাসে। বই পড়ায় আমাদের জ্ঞান প্রসারিত হয়। শ্রেণিপাঠের লেখাপড়া, খেলাধূলা ও অন্যান্য কাজের  ব্যস্ততার মাঝেও বই পাঠ তার ক্লান্তি দূর করে, আর সেই সাথে নানা বিষয়ে জ্ঞানও অর্জিত হয়। সবার কিছু না কিছু প্রিয় বই থাকে যা তাকে নিরলস আনন্দ দান করে। আমারও  এ রকম প্রিয় বই রয়েছে। তবে তা একটি নয়, দুটি।

আমার প্রিয় বই : আমার ভালো লাগা বেশ কিছু বইয়ের মধ্যে যে বই দুটি আমার ভীষণ পছন্দের এবং প্রিয় সেটি হলো শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের “রামের সুমতি” ও কঙ্কন সরকারের ‘গল্প পড়ি ব্যাকরণ শিখি’।

বইটি ভালো লাগার কারণ : অনেক ভালো লাগা বইয়ের মধ্যে “রামের সুমতি” বইটি বিশেষ ভাবে ভালো লাগে। কম বয়সী রামের দুষ্টু বুদ্ধিগুলো শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অতি সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরেছেন বইটিতে। রামের বাবা মা  ছিল না। বৌদির স্নেহে ও শাসনের ছায়াতলে সে বেড়ে উঠেছিল। তাইতো সে প্রাণপ্রিয় বৌদির অসুখের সময় ডাক্তার যখন আসতে চাইল না তখন বিভিন্ন রকম হুমকি এবং দুষ্টু বুদ্ধি দেখিয়ে ডাত্তাদ্ধরকে বাড়িতে নিয়ে এলো। কিন্তু ডাক্তার যখন পচা ময়দার গুঁড়োকে ওষুধ বলে চালিয়ে দিতে চেয়েছিল তখন রাম ডাক্তারের মুখে ঘুষি দিয়ে দাঁত ভেঙ্গে দেওয়ার হুমকি দেয়। এতে মনে হয় রাম গোয়ার বা ডানপিঠে। কিন্তু রাম তা নয়। সে নিপীড়িতের সেবা এবং অত্যাচারীকে শায়েস্থা করা কর্তব্য বলে মনে করেছে। রামের এ শুভ চেতনার জন্য আমি বাস্তব জীবনে রামের মতো হতে চাই। আর এজন্যই আমি বইটিকে এত ভালোবাসি এবং পছন্দ করি। অন্যদিকে কঙ্কন সরকারের গল্প পড়ি ব্যাকরণ শিখি বইটিতে আমার ভালো লাগা কঠিন বিষয় বাংলা ব্যাকরণকে গল্পের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। যা আমি পড়ে পড়ে আমার এই কঠিন বিষয়টিকে হূদয়াঙ্গম করতে সক্ষম হই। এবং ব্যাকরণ সম্পর্কে আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে উঠি।

আত্মপ্রত্যয়ী মনোভাব : আমার মনে হয় আমরা ছোটরা যদি রামের মতো আত্মপ্রত্যয়ী হই তাহলে সমাজের কঠিন কাজগুলো সহজভাবে করা সম্ভব হবে। আবার ব্যাকরণে যে ভয়, সংকোচ থাকে তা গল্প পড়ি ব্যাকরণ শিখি বইটি পড়ার পর আমার পুরোপুরি কেটে গেছে তা বলতে পারি। যা অন্য অনেকেরও এমন হতে পারে।

কিশোর মনে অনুসন্ধিত্সা : আমাদের মতো কিশোরদের রয়েছে সৃজনশীল চেতনা আর উদ্ভাবনী শক্তি এবং কিশোর মনের অনুসন্ধিত্সা। নতুন কিছু জানা, নতুন কিছু করার মানসিকতা তৈরির পেছনে এ বই দুটির অবদান অনস্বীকার্য। এই বই দুটি পড়ে কিশোর মনের সাহস আর জানার পরিধি আরো বেড়ে যায়। ফলে কিশোররা অনেক অসাধ্যকে সাধন করতে পারে।

উপসংহার : প্রিয় যে জিনিস তার প্রতি আগ্রহ অনেক বেশি থাকে। আমারও তাই। এই বই দুটি পড়ে অনেক বেশি আনন্দ পাই। একদিকে রামের চরিত্র নাড়া দেয় মনকে অন্যদিকে গল্পের মাধ্যমে ব্যাকরণ পড়ে নতুন এক পথের সন্ধান পেলাম।

৫ নম্বর অনুশীলনে প্রদত্ত লাইনগুলো সাজিয়ে লিখতে বলা হয়েছে—

যে-বই তোমায় দেখায় ভয়

সে-বই তুমি পড়বে না।

যে-বই জ্বালে ভিন্ন আলো

সে-বই তুমি পড়বে।

যে-বই তোমায় অন্ধ করে,

যে-বই তোমায় বন্ধ করে,

সেগুলো কোনো বই-ই নয়।

বইয়ের পাতায় প্রদীপ জ্বলে

যে-বই জ্বালে ভিন্ন আলো।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৯
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৪০
এশা৭:৫৯
সূর্যোদয় - ৫:৩১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
পড়ুন