গঙ্গাচড়ায় ঝাড়ু তৈরি করে মঙ্গা জয়ের স্বপ্ন
গঙ্গাচড়ায় ঝাড়ু তৈরি করে মঙ্গা জয়ের স্বপ্ন
তপ্ত দৃুপুর। সূর্যের তীর্যক রশ্মি তখনো মাথার উপর। বাইরে দাঁড়ানো দায়। সে সময়ও মঙ্গা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে ঝাড়ু তৈরিতে ব্যস্ত মহিলারা । কেউবা একাই কেউ বা দল বেঁধে কাজ করছে।

রংপুরের অভাব পীড়িত গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের পাইকান হাজীপাড়া গ্রাম। এখানে বাঁধের ধারে ও রাস্তায় বসবাস করছে ৫০/৬০ পরিবার। ছয় বার নদী ভাঙনের শিকার হয়ে আব্দুল জলিল (৫০) পরিবার পরিজন নিয়ে বর্তমানে গ্রামে বাস করছেন অনেক কষ্টে। নুর আমিন বাঁধে থাকেন ১০/১২ বছর থেকে। নবির উদ্দিন থাকেন ১২ বছর থেকে। আব্দুল জলিল, নুর আমিন ও নবিরের মতো প্রায় ৬০ অভাবি পরিবার যুগ যুগ ধরে এখানে বসবাস করে আসছে।

নদী ভাঙনের শিকার এসব পরিবারের জীবন ছিল দুর্বিষহ। অভাব অনটন ছিল তাদের নিত্যসাথী। সেই গ্রামে এখন কর্মব্যস্ততা। ভারত থেকে কাঁশ (কাশিয়া) এনে ঝাঁড়ু তৈরি করে তা বিক্রি করে মঙ্গাকে জয় করেছে গঙ্গাচড়ার পাইকান গ্রামের এসব পরিবার। গ্রামের পুরুষ-মহিলা সবাই এখন ঝাড়ু তৈরি করে। তবে বাড়ির মহিলারাই এ কাজ বেশি করে আর পুরুষেরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে তা বিক্রি করে। বাড়িতে ব্যবহারিক কাজে ঝাড়ুর প্রয়োজন থাকায় এর চাহিদা রয়েছে বেশ। রয়েছে গ্রামে মহাজনও। স্থানীয় পাড়াপড়শিরা মহাজনের নিকট এসব ঝাড়ু কিনে নেয় পাইকারি দামে। তারা আবার গ্রামে গ্রামে বিক্রি করে মহাজনদের টাকা পরিশোধ করে দেয়। এতে যা লাভ হয় তা দিয়ে সংসার চালায়।

সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গ্রামটির ঘন বসতিতে পূর্ণ। নদী ভাঙনের শিকার এসব পরিবার এখানে ঘর-বাড়ি তুলে বাস করছে। গ্রাম থেকে তিস্তা নদীর দূরত্ব ২/৩শ’ ফুট। কান পাতলে ভাঙনের শব্দ শোনা যায়। আর এ সময় আঁতকে ওঠে বাঁধের ধারে আশ্রিত পরিবারগুলো। নবিরের স্ত্রী সৈয়দা বেগম বলেন, তিনি ১০ বছর ধরে ঝাড়ু তৈরি করছেন। ঝাড়ুই তাদের একমাত্র আয়ের উত্স। আব্দুল জলিল জানান, তিস্তার চরে যা কাঁশ হয় তা দিয়ে ব্যবসা চলে না। পার্শ্ববর্তী নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার টুনিরহাট হয়ে ভারত থেকে ট্রলিতে করে কাশিয়া আনতে হয়। এক ট্রলি কাশিয়ার দাম পড়ে ভাড়াসহ ১৫ হাজার টাকা। যা দিয়ে ৮ হাজার ঝাড়ু হয়। সেই ঝাড়ু নিজে বিক্রি করলে ১৫ হাজার টাকা লাভ হয়। পাইকারি বিক্রি করলে ২০ দিন সময় লাগে। আর নিজে বিক্রি করলে এক মাস সময় লাগে। আজিজুলের স্ত্রী মোতমাইন বলেন, তিনি ১০ বছর থেকে ঝাড়ু তৈরি করছেন। তিনি প্রতিদিন আড়াইশ ঝাঁড়ু বানান। নূরজাহান মনিমালা, সরো বালা জানান, প্রতিদিন গ্রামে গ্রামে ঘুরে ১শ’ ঝাড়ু বিক্রি করা যায়। এতে ৭০-৮০ টাকা লাভ হয়। নূরজাহান বেগমের মত মুকুল, জোনাব, মোলাই, সোহরাব, অজবালা, ঝরণা, শিল্পী, দৈবকী, করুনা, জ্ঞানবালা, ছাপিয়াএরা সবাই ঝাড়ু তৈরি ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে চলেছেন। তবে তারা দুঃখ করে বলেন, কাশিয়ার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আগের তুলনায় লাভ এখন কম হচ্ছে।  সাবেক ইউ,পি সদস্য আব্দুর রশিদ জানান, আশ্বিন-কার্তিক মাস মঙ্গার সময় যেখানে অন্যান্য শ্রমিকরা কাজ পায় না। এসময় তারা ঝাড়ু বিক্রি করে মঙ্গা দূর করছে। তিনি আরও জানান, প্রায় এক যুগ থেকে তারা এসব কাজ করছে।

আলমবিদিতর ইউপি চেয়ারম্যান  আফতাবুজ্জামান  জানান, ঐ এলাকার প্রায় ৫০টি পরিবার খুব ভালো আছে। কষ্ট হলেও তারা কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৪ নভেম্বর, ২০২০ ইং
ফজর৪:৫৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পড়ুন