ঠাকুরগাঁও রেশম বোর্ডের প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম!
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি১৪ নভেম্বর, ২০১৬ ইং
ঠাকুরগাঁও রেশম কারখানার প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছেন, আমরা নিয়ম মেনেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। ঠাকুরগাঁও শহরের গোবিন্দনগর এলাকায় স্থাপিত এ রেশম কারখানা বন্ধ থাকলেও রেশম বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ও সমন্বিত প্রকল্পের আওতায় ৬০৮টি রেশম পরিবার রেশম চাষ করছেন।

ঠাকুরগাঁও রেশম বোর্ডের সহকারী পরিচালক সুলতান আলী জানান, তিন জেলার প্রায় ৬ হাজার কৃষক এই রেশম শিল্পের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। সরকার রেশম বোর্ডের মাধ্যমে কৃষকদের তুত চারা বাবদ অনুদান, ব্লক পদ্ধতিতে তুত চারা উত্পাদন, পলুঘর নির্মাণে সহায়তা দিচ্ছে। ৩ বছরের এই সমন্বিত প্রকল্পের জন্য সারা বাংলাদেশে ৩০ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ করে সরকার। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও জোনের ৩ জেলায় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৯ লাখ ৮৩ হাজার টাকা, ২০১৪-১৫ সালে ৪০ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ৭৩ লাখ ৬৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় ও ব্যয় করা হয়।

এ বছর সাকোয়া রেশম পল্লীতে ৭৫ জন আদর্শ কৃষককে ৩০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। কৃষক এই টাকা দিয়ে ডালা, চন্দ্রকী, ঘোড়াকাঠি, ব্লিচিং, বিষধক দ্রব্য ক্রয়ে খরচ করেছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতি বছর মোটা অঙ্কের টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে নেই তেমন অগ্রগতি। অভিযোগ রয়েছে, রেশম বোর্ড কর্তৃপক্ষ তালিকাভুক্ত চাষিদের রেশম চাষ সম্প্রসারণে পলুঘর নির্মাণ,  ডালা, চন্দ্রকী ও ঘোড়াকাঠি বাবদ ৭৫ জনকে ৩০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

এ নিয়ে স্থানীয় চাষিদের অভিযোগ, বোর্ডের কর্মকর্তারা রেশম চাষ সম্প্রসারণের কথা বলে আমাদের নামে বিভিন্ন সরঞ্জামাদি ক্রয় করে বিল ভাউচার বেশি দেখিয়ে প্রকল্পের টাকা আত্মসাত্ করছেন। আমাদের পলুঘর নির্মাণে ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে। কিন্তু আমরা যদি নিজেরা পলুঘর নির্মাণ করতাম তাহলে অনেক কমে তা তৈরি করতে পারতাম। অন্যান্য সরঞ্জামাদি ক্রয়েও অর্থ লোপাট হয়েছে বলে তারা জানান। চলতি অর্থ বছরে জেলা সদরের কোনো চাষিকে এ প্রকল্পের আওতায় না এনে পাশের জেলা পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সাকোয়ার ৫০ জন রেশম চাষিকে এ প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে সদর উপজেলার কয়েকজন চাষির বরাদ্দকৃত প্রকল্প বাস্তবায়নের টাকা আত্মসাত্ করা হয়েছে বলেও চাষিরা অভিযোগ করেন।

সরকার রেশম চাষ সম্প্রসারণে লাখ লাখ টাকা বরাদ্দ দিচ্ছে। কিন্তু প্রকল্প কতটুকু বাস্তবায়ন হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে না। সরকারের তেমন দৃষ্টিও নেই এদিকে।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও রেশম বোর্ডের সহকারী পরিচালক সুলতান আলী ও হিসাব রক্ষক বেলায়েত হোসেন জানান, আমরা নিয়ম মেনেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি ও টাকা আত্মসাতের প্রশ্নই আসে না।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৪ নভেম্বর, ২০২০ ইং
ফজর৪:৫৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পড়ুন