সাত বছরেও নওগাঁয় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের স্থান নির্ধারণ হয়নি!
নওগাঁ প্রতিনিধি০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬ ইং
মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সারা দেশের মতো প্রতিটি জেলায় শহরের সরকারি জায়গায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের কথা থাকলেও নওগাঁয় দীর্ঘ প্রায় সাত বছরেও স্থান নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। এদিকে জেলা প্রশাসন স্থান নির্ধারণ নিয়ে সমস্যা হলেও পরবর্তীতে ৩য় দফায় মুক্তিযোদ্ধাদের নামে দেওয়া জায়গায় স্থান নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হয়ে আসলেই টেন্ডার প্রক্রিয়ার কাজ শুরু করবেন বলে জানান জেলা প্রশাসক। এদিকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকেই দায়ী করছেন মুক্তিযোদ্ধারা।

নওগাঁয় ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের অনেক অবদান থাকলেও এই শহরের মুক্তিযোদ্ধাদের একত্রে বসার কোনো জায়গা নেই। মুক্তিযোদ্ধাদের বসার জায়গার কথা ভেবে এই জেলা শহরের কেন্দ্রবিন্দু ব্রিজের মোড়ে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মরহুম জননেতা আব্দুল জলিল ১৯৯৮ সালে নিজ উদ্যোগে পৌরসভার অর্থায়নে ছোট একটি ‘স্বাধীনতা’ নামের ভাস্কর্য ও তার নীচে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি সংগ্রহশালা ও গবেষণা কেন্দ্র তৈরি করেন। পরবর্তীতে অর্থভাবে সেটা মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। সেখানে সংগ্রহ শালায় কিছু নেই। আছে শুধু মুক্তিযোদ্ধাদের কিছু ছবি। শহরের পশ্চিম দিকে বাইপাস মোড়ে ২০০০ সালে তিনিই ‘বিজয়’ নামের মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিস্তম্ভ্ভ তৈরি করেন। পরে ২০০৪ সালে শহরের মুক্তির মোড়ে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিফলক তৈরি হয়।

এরপর মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি উঠলে প্রায় ৭ বছর আগে শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিফলকের এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের স্থান নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে ফাইল চালাচালির কারণে এই ভবনের অনুমোদন না আসায় ভবনের কাজ তৈরি করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের ডেপুটি কমান্ডার আফজাল হোসেন জানান, স্বাধীনতা যুদ্ধে নওগাঁয় মুক্তিযোদ্ধাদের অনেক অবদান আছে। তা সত্ত্বেও এখানকার মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো বসার স্থান নাই। প্রয়াত জলিল ভাই নিজ উদ্যোগে একটি ঘর নির্মাণ করে দিলেও অর্থাভাবে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। সব জেলায় ভবন নির্মাণ হলেও এখানে এখনও কোনো স্থান নির্ধারণ করতে পারি নি।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার হারুন অর রশীদ জানান, শহরের প্রাণকেন্দ্রে অনেক সরকারি সম্পত্তি আছে। অথচ জেলা প্রশাসন তাতে ভবন নির্মাণের উদ্যোগ না দেওয়া এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে আমরা কমপ্লেক্স ভবন তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না।

জেলা প্রশাসক ড. আমিনুর রহমান জানান, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের জন্য যে স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেটা শহরের কিছু দূরে এবং এক প্রান্তে। অনুমোদন আসলেই টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। তবে এখন কোন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নেই বলে জানান তিনি।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ নভেম্বর, ২০২০ ইং
ফজর৫:০৭
যোহর১১:৫১
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩৩
সূর্যোদয় - ৬:২৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০
পড়ুন