আদিতমারীতে তিনজনের ভাগ্যে জোটেনি বয়স্কভাতা
আর কত বয়স হলে হামার ভাগ্যে জোটবে বয়স্ক ভাতা এভাবে বলছিলেন উপজেলার মফিজ উদ্দিন (৯৯), আছিয়া খাতুন (৮০) ও জাহেদা বেওয়া (৯৫)। এক বেলা খেয়ে না খেয়ে ভিক্ষা বৃত্তি করে চলে তাদের জীবন। উপোষ থাকাটাই তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। অন্যের বাড়ির খাবারের জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হয়। এ বাড়ি ও বাড়ি ঘুরে দু’মুঠো ভাত জুটলেও জোটেনি ভালো তরকারি। অন্যের বাড়ির খাবার না এলে থাকতে হয় তাদের উপোষ। কষ্টের শেষ নেই এ বয়সে তাদের।

মফিজ উদ্দিনের বাড়ি উপজেলার মহিষখোঁচা ইউনিয়নের সলেডি স্পার-২ সংলগ্ন এলাকায়। তার জাতীয় সনদ অনুযায়ী বর্তমান বয়স ৯৯ বছর। ১০ ছেলে-মেয়ের মধ্যে ৩ ছেলে ও ৩ মেয়ে বেঁচে আছেন। কিন্তু তারা আজ তার থেকে অনেক দূরে। স্ত্রী জমিলা খাতুনকে নিয়ে ভিক্ষা করে জীবন চালাচ্ছেন।

মফিজ উদ্দিন জানান, বয়স্ক ভাতা, ভিজিডি থেকে শুরু করে কোনো সাহায্য সহযোগিতা জোটেনি তার ভাগ্যে।

আছিয়া খাতুনের বাড়ি একই ইউনিয়নের দক্ষিণ বালাপাড়া গ্রামে। ভিক্ষা বৃত্তির জন্য অনেক কষ্ট করে লাঠিতে ভর করে এসেছেন বারঘড়িয়া গ্রামে। এ সময় দেখা হয় এ প্রতিনিধির সঙ্গে। তার স্বামী মফিজ উদ্দিন প্রায় ৮ বছর আগে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। ৩ ছেলে ও এক মেয়ে থাকলেও ছেলেরা কেউই তার খোঁজ-খবর রাখেন না। একমাত্র মেয়ে দীর্ঘদিন যাবত্ প্যারালাইসড হয়ে পড়ে আছেন স্বামীর বাড়িতে। অর্থের অভাবে চিকিত্সা করাতে পারছেন না। এ বয়সে এই শরীর নিয়ে মাঝে মধ্যে তাকে মেয়ের সেবা যত্ন করতে আসতে হয়।

তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন,“বাবা মুই আজ কচু দিয়ে একনা ভাত খাইছোং”মুই আর হাঁটতে পাওনা, মোক একনা সাহায্য দেন বাবা। তারও ভাগ্যে জোটেনি বয়স্ক ভাতা। তার আক্ষেপ মেম্বার-চেয়ারম্যানকে টাকা দিতে না পারায় তার ভাগ্যে জোটেনি বয়স্ক ভাতা।

জাহেদা বেওয়ার বাড়ি একই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেনের বাড়ির পাশে স্পার সংলগ্ন এলাকায়। স্বামী হাছত আলী মারা গেছেন অনেক আগে। ৪ ছেলে-মেয়ে থাকলেও কেউ খোঁজ-খবর রাখেন না তার। তার জায়গায় হয়েছে রাস্তার ধারে একটি ছনের ছাউনি ঘরে। ভিক্ষার জন্য ছুটে এসেছেন তিস্তা নদী পেরিয়ে চর গোবর্দ্ধন গ্রামে।

তিনি জানান, তিস্তা নদীর হামার সউগ নিয়ে গেছে। বাবা মোর শরীর চলে না, তোমরা মোক একনা খাবার দেন। এ কথা শুনে একজন সংবাদকর্মী তার হাতে ৫০ টাকার একটি নোট তুলে দেন।

মহিষখোঁচা ইউপি চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী বলেন, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যরা তাদের ৩ জনের বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দিতে পারতো। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।

ইউএনও আব্দুল্লাহ আল খায়রুম বলেন, বয়স্ক ভাতার কার্ড হয়নি, তাদের বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। তিনি তাদের ৩ জনের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি পেলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবেন বলে সাংবাদিকদের জানান।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ নভেম্বর, ২০২০ ইং
ফজর৫:০৭
যোহর১১:৫১
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩৩
সূর্যোদয় - ৬:২৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০
পড়ুন