নওগাঁ সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ
নওগাঁ প্রতিনিধি২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং
নওগাঁ সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি এলএসডি) বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, হয়রানি, উেকাচ নেওয়া ও গুদামে নিম্নমানের চাল গুদামজাত করাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। জেলার অধিকাংশ মিলারকে হয়রানি করায় মিলাররা গুদামের চাল দেওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। মিলাররা দ্রুত আব্দুল কাইয়ুমকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।

ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে নওগাঁ জেলা চাউল কল মালিক গ্রুপের কাছে গত রবিবার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ দায়ের করেন সদর উপজেলার মেসার্স ফারিহা রাইছ মিল মালিক প্রো. শেখ ফরিদ উদ্দিন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শেখ ফরিদ উদ্দিন তার মিলের বরাদ্দ অনুযায়ী ৬ দশমিক ১১০ মেট্রিকটন চাল গুদামে সরবরাহ করেন। সে মোতাবেক তার বিল পরিশোধও হয়। কিন্তু পাওয়ার অব অ্যাটনির বলে রুস্তম অটো’র চাল গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে খাদ্য গুদামে পর্যায় ক্রমে ৬৭ বস্তা চাল জমা থাকে। বিভিন্ন সময় ওই চালের বিলের তাগাদা দিয়ে আসলে দিচ্ছি দিব বলে ওসি এলএসডি কালক্ষেপণ করতে থাকেন। সর্বশেষ বিলের তাগিদ দিলে উেকাচ চেয়েছেন এমন অভিযোগে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

জানা গেছে, জেলায় ১২শ’ রাইচ মিলা আছে। এই মিলের মাধ্যমে প্রতি বছর সরকার হাজার হাজার মেট্রিকটন ধান ও চাল কিনে থাকেন। এই চাল ও ধান কেনার সময় বিভিন্নভাবে মিলারদের হয়রানি করা হয়ে থাকে। তবে একটি নির্দিষ্ট কমিশন দিলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দিলে হয়রানি হতে হয় না।

অভিযোগকারী শেখ ফরিদ উদ্দিন বলেন, চাল ২/৩ জায়গায় পরীক্ষার পর গুদামে রাখার অনুমতি দেওয়া হয়। কোন চাল যদি একটু খারাপ হয় তাহলে কিছু ঘুষ দিলেই গুদামে রাখার অনুমতি পাওয়া যায়। ঘুষ নেওয়ার জন্য চালের বিভিন্ন ধরনের ভুল ত্রুটি ধরেন। তখন মিলাররা ঘুষ দিলেই অনিয়মই তখন নিয়ম হয়ে যায়।

সদর উপজেলার নাসিম অটোরাইচ মিলের মালিক শাকিল আহমেদ জানান, এই ওসি এলএসডি যোগদানের পর থেকেই ব্যাপক অনিয়ম করে চলছেন। ভালো মানের চাল উত্পাদন করার পর চাল গুদামজাত করতে গেলে ভালো চাল দেখলে তার মাথা গরম হয়ে যায় এবং বিরক্ত মনে করে মিলারদের সাথে দুর্ব্যহার করে থাকেন। আর যারা নিম্নমানের চাল নিয়ে যায় তাদের কাছ থেকে উেকাচ পাওয়ায় তাদের হয়রানি হতে হয় না। তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, এই সংবাদ প্রকাশের পর তাদের আরো হয়রানি হবে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

সদর উপজেলার মাহাবুব চাউল কলের মালিক মাহাবুবুর রহমান খান জানান, গুদামে চাল নিয়ে গেলেই প্রথমে ওসি এলএসডি গাড়ী গুদামের সাইডে রাখতে বলেন। এরপর বিভিন্ন তালবাহানা করে গাড়ীপ্রতি ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। তা না দিলেই দিনের পর দিন চালের গাড়ী গুদামের বাইরে রেখে দেন। এতে তাদের বাড়তি ভাড়া গুণতে হয়। এতে দিনদিন জেলা মিলাররা সরকারি গুদামে চাল দেয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম বলেন, চুক্তি মোতাবেক গুদামে চাল দিয়েছেন এবং তার বিলও পরিশোধ করা আছে। খারাপ মানের চাল শেখ ফরিদ উদ্দিন গুদামে নিয়ে আসতেন। বর্তমানে তার মিলের নামে কোন বরাদ্দ নেই এবং মিলের অনুকূলে কোন চাল জমাও নেই।

জেলা চাউল কল মালিক গ্রুপের সভাপতি আলহাজ রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, ওই কর্মকর্তা টাকা ছাড়া কিছুই বুঝেন না। টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য শত রকম অজুহাত খুঁজে বের করেন। টাকা হলেই খারাপ চালেরও গুদাম জাত করতে কোন সমস্যা হয় না। জেলার চাল মিলাদের ইতোমধ্যে গত কয়েকদিন আগে আলোচনা সভা হয়েছে। সভায় ?উপস্থিতগণ মিলাররা ওসি এলএসডি আব্দুল কাইয়ুমের সেচ্ছাচারিতা, অনিয়মসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি হওয়ায় তাকে দ্রুত নওগাঁ থেকে অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ইং
ফজর৫:১০
যোহর১২:১৩
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৪
সূর্যোদয় - ৬:২৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬
পড়ুন