ফুলবাড়ির অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং
ফুলবাড়ি (দিনাজপুর) সংবাদদাতা

ফুলবাড়ি উপজেলায় বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বীর ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করার জন্য দেশ স্বাধীনের ৪৬ বছরেও নির্মাণ করা হয়নি শহীদ মিনার। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনোটিতে অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার তৈরি দিবসটি পালন করা হয়। আবার কোনো প্রতিষ্ঠানে দিবসটি পালনই করা হয় না। উপজেলায় ১০৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪০টি কিন্ডার গার্টেন, ৩২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৬টি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৪টি মাদ্রাসা ও একটি সরকারি কলেজসহ ৫টি কলেজ রয়েছে।

কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফুলবাড়ি সরকারি কলেজ, ফুলবাড়ি জিএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, সুজাপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়সহ আরো কয়েক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এলে বাকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো কোনোটিতে অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার তৈরি করে এবং কোনো কোনোটি উপজেলা কেন্দ্রীয় কিংবা আশপাশের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়ে থাকে। কোনো কোনোটিতে শুধুমাত্র মিলাদ মাহফিল বা আলোচনার মধ্যেই পালন করা হয়। আবার কিছু প্রতিষ্ঠানে তা-ও করা হয় না।

রাঙামাটি উচ্চ বিদ্যালয়, পুখুরি স্কুল এন্ড কলেজ, মেলাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়, জয়নগর উচ্চ বিদ্যালয়, রাঙামাটি আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চকচকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়, সেখানো কোনো শহীদ মিনার নেই। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান প্রধানই বলছেন অর্থের অভাবে শহীদ মিনার নির্মাণ করা যাচ্ছে না। তাই দিবসটি পালনের জন্য মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়ে থাকে।

শহীদ স্মৃতি আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. জিল্লুর রহমান বলেন, অর্থ ও জায়গার অভাবে এতোদিন শহীদ মিনার নির্মাণ করা না গেলেও আগামী একুশে ফেব্রুয়ারির আগেই দর্শনীয় একটি শহীদ মিনার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য জায়গায় মাটি ভরাট করা হয়েছে। তবে কলেজের শহীদ মিনার না থাকলেও প্রতি বছরই উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়ে থাকে।

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহাতাবুর রহমান বলেন, উপজেলার কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। তবে প্রত্যেকটিতে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হলে শিশুরা সেটি দেখেই ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও শহীদদের আত্মত্যাগের বীরত্বপূর্ণ কথা জানতে পারবে। 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যেই শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। শহীদ মিনার না থাকলেও প্রত্যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দিবসটি পালন করে থাকে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এহেতেশাম রেজা বলেন, আগামীতে যাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ইং
ফজর৫:১০
যোহর১২:১৩
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৪
সূর্যোদয় - ৬:২৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬
পড়ুন