দাম কমায় রংপুর বিভাগে ব্যবসায়ী ও কৃষকেরা আলু উত্তোলন করছে না
ওয়াদুদ আলী, রংপুর প্রতিনিধি১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
দাম কমায় রংপুর বিভাগে ব্যবসায়ী ও কৃষকেরা আলু উত্তোলন করছে না
দাম কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ী ও কৃষকেরা হিমাগার থেকে আলু উত্তোলন করছে না। ফলে হিমাগার মালিকরা বিপাকে পড়েছেন। প্রতিবছর সেপ্টেম্বরের আগেই হিমাগারের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ আলু উত্তোলন হলেও এবার এ পর্যন্ত উত্তোলন হয়েছে শুধুমাত্র ২০ শতাংশ। ফলে ৮০ শতাংশ আলুই হিমাগারে সংরক্ষিত রয়েছে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী আলু বিক্রি করলে বস্তা প্রতি লোকসান হবে চারশ’ টাকা। তবে হিমাগার মালিকরা আশা করছেন সময়মত আলু খালাস হবে। হিমাগার মালিক সমিতি ও কৃষি তথ্য সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, রংপুর বিভাগে ১০২টি হিমাগার রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি বন্ধ রয়েছে। ৯৭টি হিমাগারে আট লাখ ৩০ হাজার ২২৯ মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে। যা গতবছরের তুলনায় দুই লাখ টন বেশি। কিন্তু বাজারে আলুর দাম না থাকায় চাষি এবং ব্যবসায়ী কেউই আলু উত্তোলন করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ফলে ৮০ শতাংশ আলু এখনো হিমাগারে সংরক্ষিত রয়েছে। অপরদিকে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অনেক হিমাগারে আলুর ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সূত্রমতে, রংপুর বিভাগে প্রায় দুই লাখ আলু চাষি ও ব্যবসায়ীর আলু হিমাগারে রয়েছে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, রংপুর জেলায় এবার আলুর আবাদ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ হেক্টর। উত্পাদন হয়েছে ৪৫ লাখ মেট্রিক টনের ওপর। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ আলুই হচ্ছে গ্রানুলার জাতের। বাকি ৫০ শতাংশ ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, শীল, গুটি ইত্যাদি। এসব আলুর দাম থাকলেও গ্রানুলা জাতের আলুর দাম সবচেয়ে কম। সরেজমিনে জানা যায়, রংপুরের আলু চাষি সজিব মিয়া, বাবু মিয়া, লোকমান হোসেন এবার আলুর আবাদ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উত্পাদন ভালোই হয়েছে।

মৌসুমের শুরুতে আলুর দাম কিছুটা কম থাকায় বেশি দামের আশায় স্থানীয় হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করেছেন। হঠাত্ করে বাজারে আলুর দাম কমে যাওয়ায় তারা হিমাগার থেকে আলু উত্তোলন করেননি। অথচ গতবছর এ সময় আলু উত্তোলন করে দাম ভালোই পেয়েছিলেন তারা। অপরদিকে রংপুরের আলু ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান স্থানীয় একটি হিমাগারে এক হাজার বস্তা আলু রেখেছেন। দাম কমে যাওয়ায় তিনি হিমাগার থেকে আলু উত্তোলন করেননি। ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ছয়শ’ বস্তা, আব্দুল বারেক দুই হাজার বস্তা আলু হিমাগারে রেখেছেন। এরা কেউই লোকসানের ভয়ে হিমাগার থেকে আলু উত্তোলন করছেন না। এখন হিমাগার থেকে আলু তুললে ৮৪ কেজির বস্তা প্রতি তাদের চারশ’ টাকার ওপর লোকসান হচ্ছে। বর্তমানে বাজারে ৮৪ কেজির প্রতি বস্তা আলু বিক্রি হচ্ছে আটশ’ থেকে নয়শ’ টাকা। হিমাগার ভাড়াসহ তাদের উত্পাদন খরচ পড়েছে এক হাজার তিনশ’ টাকা।

আলু চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক একর জমিতে আলু আবাদ করতে জমি তৈরি, মাটি শোধন, জৈব সার, আলু বীজ, শ্রমিক, নিড়ানি, সারি বাঁধা, ওষুধ, সেচ, আলু তোলা ও বস্তাবন্দি করে কোল্ড স্টোর পর্যন্ত পৌঁছানো বাবদ আলু চাষিদের খরচ হয়েছে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা। যারা জমি লিজ নিয়ে আবাদ করেছেন তাদের একলাখ টাকার ওপর খরচ পড়ছে। অর্থাত্ প্রতি হেক্টরে আলু আবাদের খরচ হয়েছে দুই লাখ ৫০ হাজার থেকে দুই লাখ ৭০ হাজার টাকা। সেই হিসেবে ৮৪ কেজির বস্তা প্রতি উত্পাদন ব্যয় আটশ’ টাকার ওপরে পড়ছে।

এছাড়াও কোল্ড স্টোরে আলু সংরক্ষণ ভাড়া ৩০০ টাকা, খালি বস্তা ৮০ টাকা, পরিবহণ বাবদ ৬০ টাকা এবং ঘাটতি ৬০ টাকা ধরা হয়। অর্থাত্ চাষিদের এক বস্তা আলু সংরক্ষণ ও উত্পাদন বাবদ মোট খরচ পড়েছে সাড়ে ১২শ’  থেকে ১৩শ’ টাকা। আলুচাষি ও ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকার যদি আলু বিদেশে রপ্তানিতে চাষি ও ব্যবসায়ীদের সহায়তা দিয়ে উত্সাহিত করতো তাহলে সবসময় আলু বাজার ঊর্ধ্বগতি থাকতো। আলু বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যেতো। লোকসানের আশঙ্কাও থাকতো না। বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে গ্রানুলা আলু প্রতি বস্তা (৮৪ কেজি) বিক্রি হচ্ছে আটশ’ টাকা। কার্ডিনাল আলু বিক্রি হচ্ছে নয়শ’ টাকা। অর্থাত্ বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রতিবস্তা আলুতে লোকসান হচ্ছে তিনশ’ থেকে চারশ’ টাকা।

রংপুর কৃষি তথ্য সার্ভিস কর্মকর্তা আবু সায়েম বলেন, এবার গতবছরের চেয়ে অনেক বেশি আলু স্টোরেজ হয়েছে। প্রতিবছর এপ্রিল থেকে স্টোরেজ হওয়া শুরু হলে এবার জুলাই থেকে স্টোরেজ হওয়া শুরু হয়েছে। বাজারে আলুর দাম কিছুটা কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা আলু উত্তোলন করছে না। ফলে এখনো ৮০ শতাংশ আলু কোল্ড স্টোরেজে রয়েছে। তবে আলু উত্তোলনের সময় আরো এক থেকে দেড়মাস আছে। আশাকরি এই সময়ের মধ্যে আলুর বাজার স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৪:২৭
যোহর১১:৫৬
আসর৪:২৩
মাগরিব৬:১০
এশা৭:২৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৫
পড়ুন