ফুুলবাড়ীতে চার হাজার হেক্টরের আমন নষ্ট, দিশেহারা কৃষক
১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
g ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

‘বানের পানিতে ধানও তলে গেইচে (গেছে), মাছও ভাসি (ভেসে) গেইচে। এক পালা (অনেক) মানুষ, কি খায়া (খেয়ে) বাঁচমো বাহে—চিন্তা করি (করে) কূল পাই না।’ কথাগুলো বললেন উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের খাড়াপাড়া গ্রামের ষাটোর্ধ্ব কৃষক আমীর আলী।

ঝাউকুটি এলাকায় নিজস্ব তিন বিঘা জমিতে আমনের চারা লাগিয়েছেন তিনি। সঠিক পরিচর্যার কারণে ক্ষেতের অবস্থাও ভালো ছিল। বাড়ির সামনের জলাশয়ে দশজন অংশীদার মিলে ত্রিশ বিঘা জমি বর্গা নিয়েছেন। জাল দিয়ে ঘিরে তৈরি করেছেন মাছ চাষের ঘের। ঘেরে ছেড়েছেন রুই, কাতল, মৃগেল, তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির লক্ষাধিক টাকার পোনা মাছ। আনন্দেই ছিলেন তিনি। কিন্তু সেই আনন্দ ম্লান করে হঠাত্ বন্যা এসে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে মাছের ঘের আর আমনের জমিতে রেখে গেছে হাঁটু সমান বালু। তাই ভবিষ্যত্ ঝাপসা দেখছেন আমীর আলী। শুধু আমীর আলীর নয়। ধরলা নদীর অববাহিকার এ রকম প্রায় দুই শতাধিক ঘের, গোটা উপজেলার ছোট বড় দুই সহস্রাধিক পুকুর-জলাশয় ভেসে গেছে এবারের ভয়াবহ বন্যায়। উপজেলা মত্স্য অফিসার মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘বন্যায় উপজেলার দুই হাজার একশ মত্স্য চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় ভেসে যাওয়ার কারণে উপজেলার মত্স্য ক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় পাঁচ কোটি সত্তর লাখ টাকা’। অন্যদিকে, উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নে বানের পানিতে ডুবে এবং বালু জমে নষ্ট হয়েছে প্রায় চার হাজার হেক্টর জমির আমন ক্ষেত। বড়ভিটা ইউনিয়নের নওদাবশ গ্রামের কৃষক হোসেন আলী, মুকুল চন্দ্র, পূর্ব ধনিরাম গ্রামের নুর ইসলাম জানান, ছয়-সাত দিন পানির নিচে থাকায় পচে নষ্ট হয়ে গেছে ধানের চারা। এ সময় আবার চারা লাগাতে পারলে ক্ষেত হতো। কিন্তু চারা না থাকায় তা আর সম্ভব নয়।

উপজেলা কৃষি অফিসার মাহাবুবুর রশিদ বলেন, ‘উপজেলায় বন্যায় প্রায় চার হাজার হেক্টর জমির আমন ক্ষেত পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে। কৃষকরা যাতে পুনরায় আমন লাগাতে পারে, সে জন্য চারার ব্যবস্থার চেষ্টা চলছে’।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৪:২৭
যোহর১১:৫৬
আসর৪:২৩
মাগরিব৬:১০
এশা৭:২৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৫
পড়ুন